নীড়পাতা » প্রথম পাতা » আদালতে এসেই জানতে পারেন তিনি আসামি নন মোস্তফা

নাম বিভ্রাটে পুলিশি হয়রানি

আদালতে এসেই জানতে পারেন তিনি আসামি নন মোস্তফা

মোহাম্মদ এমরান

নাশকতা মামলায় নাম বিভ্রাটের জন্যে পুলিশের হয়রানির কারণে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে যান এক ব্যক্তি। আদালতে এসে জানতে পারেন তিনি ওই মামলার আসামি নন। আকবর শাহ থানার ২০১৩ সালের একটি নাশকতা মামলায় এ ঘটনা ঘটে। সীতাকু- থানার দক্ষিণ মাহমুদাবাদ এলাকার জনৈক মদিন উল্লাহর ছেলে আবু জাফর প্রকাশ বশর নামে আবুধাবী প্রবাসী এক ব্যক্তি নাম বিভ্রাটের কারণে পুলিশের হয়রানির শিকার হন। তাই তিনি ওই মামলায় আত্মসমর্পণ করতে আসেন আদালতে। চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওসমান গণি ওই অভিযুক্তকে বলেন, আপনি এ মামলার আসামি নন। আপনি কেন আত্মসমর্পণ করবেন। আপনার ভাই এ মামলার আসামি। কিন্তু নাম বিভ্রাটের জন্যে আবু জাফরকে হয়রানির কারণে তার পক্ষে আদালতে দরখাস্ত দাখিল করা হয়। এরপর আবু জাফর ওরফে বশর একই ব্যক্তি কি না তা জানিয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য সীতাকু- থানার ওসিকে নির্দেশ দেন আদালত। সীতাকু- থানার এসআই টিবলু মজুমদার এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন আবু জাফর ও আবুল বশর দুই ব্যক্তি। এরা সহোদর ভাই। এরপর আদালত এ বছরের ২২ মের মধ্যে আকবর শাহ থানার ওসিকে সম্পূরক প্রতিবেদন দেয়ার জন্য গতকাল রবিবার নির্দেশ দেন।
আবু জাফরের আইনজীবী মহিউদ্দিন হাশেমী পূর্বকোণকে বলেন, ঘটনার সময় জাফর মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত ছিলেন। তার ভাই আবুল বশর এ মামলার আসামি। তিনি ২০১৪ সালের ২৮ মে ওই মামলার সন্দেহজনক হিসেবে গ্রেপ্তার হন। পরে তিনি জামিন লাভ করেন। তিনি এজাহারভুক্ত আসামিও নন।
জানা যায়, ২০১৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর আকবর শাহ থানার এস আই সোলায়মান আদালতে চার্জশিট দেন। চার্জশিটে আবুল বশরের নাম লিখা হয় আবু জাফর প্রকাশ বশর। এদিকে বশরের আপন ভাইয়ের নাম আবু জাফর হওয়ায় নাম বিভ্রাটের কারণে আবু জাফরকে পুলিশ গ্রেপ্তার করতে যায়। তাই আবু জাফর বিদেশ থেকে আসার পর কয়েকমাস আগে আত্মসমর্পণ করেন আদালতে। গতকাল রবিবার দুই ভাই আদালতে হাজির ছিলেন। আদালত এ ব্যাপারে সম্পূরক প্রতিবেদন দাখিল করে ত্রুটি সংশোধনের নির্দেশ দেন।
২০১৩ সালের ২২ মে নগরীর আকবরশাহ থানাধীন কৈবল্যধাম গেটের সামনে বিস্ফোরণ ঘটায় তৎকালীন ১৮ দলীয় জোটের কর্মী সমর্থকরা। তারা কৈবল্যধাম এলাকার আওয়ামী লীগ কার্যালয় ভাংচুর করে। পুলিশের কর্তব্যকাজে বাধাদান ও নাশকতার অভিযোগে এ সময় আকবরশাহ থানায় মামলা দায়ের করা হয়।

Share
  • 1
    Share