সরকারের তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে আত্মপ্রত্যয়ী হতে বই পড়ার প্রতি আগ্রহী করতে হবে। অবাধ তথ্য প্রবাহের এই যুগে ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার আজকের বাস্তবতা। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে দুনিয়াব্যাপী যে পরিবর্তন তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক পরিবর্তন দুইই রয়েছে। তাই এ ব্যাপারে অভিভাবকদের সন্তানদের স্বার্থে সচেতন থাকতে হবে। তিনি গতকাল রবিবার বিকেলে নগরীর সিজেকেএস জিমনেসিয়াম প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত ও সৃজনশীল প্রকাশনা পরিষদের সহযোগিতায় অমর একুশে বই মেলার উদ্বোধন ও আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চসিক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন। চসিক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন। এতে বক্তব্য রাখেন শিক্ষা স্বাস্থ্য স্ট্যান্ডিং কমিটির চেয়ারম্যান ও বই মেলা কমিটির আহবায়ক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক, মেলা কমিটির সদস্য সচিব ও চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়–য়া, সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ চট্টগ্রামের সভাপতি ও মেলা কমিটির যুগ্ম আহবায়ক মহিউদ্দিন শাহ আলম নীপু, যুগ্ম সচিব লেখক ও গবেষক জামাল উদ্দীন। অনুষ্ঠানে চসিক কাউন্সিলর, সংরক্ষিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর, সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ নেতৃবন্দ, সাংবাদিক, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, কবি, লেখক এবং কর্পোরেশনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আগেও চট্টগ্রামে বই মেলা হতো। তবে এতো বড় পরিসরে আয়োজন হয়নি। এবারের চসিকের আয়োজনে বই মেলার স্থান নির্ধারণ ও ঢাকার উল্লেখযোগ্য প্রকাশকদের আশানুরূপ অংশগ্রহণে চট্টগ্রামের সন্তান হিসেবে আমি খুবই খুশি। তিনি বলেন, বাঙালিরা মেধাবী, ইউরোপের বাইরে বাঙালিদের মধ্যে প্রথম নোবেল পান রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তেমনি গাছে প্রাণের স্পন্দন, বিশ্বের বড় ভবনের স্থাপত্য নকশাও প্রণয়ন করেন বাঙালি বিজ্ঞানী ও স্থপতি। এভাবেই বাঙালিরা যুগে যুগে মেধার স্বাক্ষর রেখেছে। মন্ত্রী বলেন বাংলা সাহিত্যও আজ পৃথিবী ব্যাপী সমাদৃত। নতুন লেখকদের লেখার প্রতি আগ্রহ ও প্রকাশকদের কারনে এটা সম্ভব হয়েছে। তিনি বলেন আমাদের সময় ছাত্র-ছাত্রীদের মাঝে বই পড়ার প্রতি আগ্রহ ছিল। এখন তা কমে গেছে। এখন ছাত্র-ছাত্রীরা স্মার্ট ফোন ব্যবহারের দিকে ঝুঁকে পড়েছে। এটা ভাল লক্ষণ নয়। লেখকরা তাদের লেখনির মাঝে বেঁেচ থাকেন। সব রাজনীতিক জনগণ মনে রাখে না। যারা লিখালিখি বা তাদের জীবনী লিখেছেন তাদের জনগণ মনে রেখেছে। তাই নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতে হলে বই পড়তে হবে। এতে মনের চোখ খুলবে। সভাপতির বক্তব্যে মেয়র বলেন অতীতে চট্টগ্রামের বই মেলা আয়োজনে ঢাকার সাথে যথেষ্ঠ ফারাক ছিল। এবারের আয়োজন ভিন্ন আঙ্গিকে হওয়ায় প্রাথমিক ভাবে আমরা সফল হয়েছি। আগামীতে এই বই মেলা জিমনেসিয়ামের সামনের রাস্তা সহ সম্প্রসারন করে আরো বৃহত্তর পরিসরে আয়োজন করা হবে। আর মেলা ঘিরে নতুন নতুন লেখক প্রকাশক সৃষ্টির প্রয়াস থাকবে। এবং প্রতি বছর নির্ধারিত সময়ে মেলা অনুষ্ঠিত হবে।এবং সভার শুরুতে জাতীয় সঙ্গীতের সাথে সাথে মন্ত্রী জাতীয় পতাকা ও মেয়র কর্পোরেশনের পতাকা উত্তোলন করে ও বেলুন উড়িয়ে বই মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন। শেষে সভা মঞ্চে মন্ত্রী প্রকাশিত বেশ কটি নতুন বইয়ের মোড়ক উম্মোচন করেন।
আজ সোমবার চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন আয়োজিত ও সৃজনশীল প্রকাশক পরিষদ এর সহযোগিতায় নগরীর জিমনেসিয়াম সংলগ্ন বই মেলা মঞ্চে অনুষ্ঠিত হবে রবীন্দ্র অনুষ্ঠান। এ কর্মসূচিতে নতুন বইয়ের মোড়ক উম্মোচন, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, একক আবৃত্তি, দলীয় নৃত্য ও একক সঙ্গীতানুষ্ঠান এর আয়োজন রয়েছে। -বিজ্ঞপ্তি

Share
  • 4
    Shares