নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » পুষ্টির নিরাপত্তায় ভেজালবিরোধী অভিযান চাই

পুষ্টির নিরাপত্তায় ভেজালবিরোধী অভিযান চাই

সুস্থ জীবনের জন্যে পুষ্টিসমৃদ্ধ নিরাপদ খাবারের কোনো বিকল্প নেই। তাই সুস্বাস্থ্যের জন্য প্রত্যেক মানুষকে প্রতিদিন প্রয়োজন মতো বিশুদ্ধ ও পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণ করতে হয়। একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধিশালী জাতি গঠনেও নিরাপদ খাদ্যের গুরুত্ব সীমাহীন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বাংলাদেশে নিরাপদ খাবার প্রাপ্তি অনেকটা সোনার হরিণের মতো। সরকারের নানা তৎপরতা থাকলেও নিরাপদ খাদ্যপ্রাপ্তি বাংলাদেশে কতই কঠিন, তা সবারই কমবেশি জানা আছে। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার দায়িত্বপ্রাপ্তদের খামখেয়ালিসহ নানা কারণে অতি মুনাফালোভী কিছু অসাধু খাদ্যউৎপাদক ও ব্যবসায়ী দেশের খাদ্যনিরাপত্তা একেবারে হুমকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। দেশের অসহায় সাধারণ মানুষ বাধ্য হয়েই পকেটের পয়সায় এসব অনিরাপদ খাদ্য কিনে খাচ্ছে, আর ক্যান্সার, লিভার সিরোসিস, কিডনি ফেইলিওর, হৃদযন্ত্রের অসুখ, হাঁপানিসহ বিভিন্ন রকমের রোগব্যাধিতে আক্রান্ত হচ্ছে। নিরাপদ খাদ্য পাওয়ার অধিকার একজন নাগরিকের মৌলিক সাংবিধানিক অধিকার হলেও প্রতিনিয়তই ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে তা। এ অবস্থায় দেশের মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর দৃপ্ত ঘোষণা দেশবাসীকে আশান্বিত করবে নিশ্চয়ই।
জাতীয় নিরাপদ খাদ্যদিবসে প্রধানমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, খাদ্যে ভেজাল দেয়া আমাদের দেশের কিছু কিছু শ্রেণির মানুষের চরিত্রগত বদভ্যাসে পরিণত হয়েছে। তিনি খাদ্য ভেজালও এক ধরনের দুর্নীতি উল্লেখ করে ভেজালবিরোধী অভিযান আরও জোরদার করার ঘোষণা দিয়েছেন। আশা করা যায়, প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা কার্যকর হলে জনগণ কিছুটা হলেও নিরাপদ খাদ্য গ্রহণের সুযোগ পাবে। উল্লেখ্য, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার আলাদাভাবে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ গঠন করেছে। দেশে পুষ্টিহীনতা দূর করার জন্যও নানা ধরনের প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। সরকারের অন্তত ১১টি মন্ত্রণালয় খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোথে কাজ করে যাচ্ছে। এতে নিরাপদ খাদ্যের ব্যাপারে নাগরিকসাধারণ সচেতন হচ্ছে ঠিকই। তবে বাজারে অনিরাপদ খাদ্যের সরবরাহ বন্ধ হচ্ছে না। বাজারে মাছ, শাকসবজি থেকে শুরু করে ফলমূল, এমনকি নিত্যদিনের স্বাভাবিক খাবারদ্রব্য বিষ আর ভেজালে সয়লাব। নকল ও ভেজালকারীরা নানা কৌশলেই ভোক্তাদের হাতে অনিরাপদ খাদ্য গছিয়ে দিয়ে ‘আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ’ হয়ে যাচ্ছে। এতে জনস্বাস্থ্যই শুধু মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়ছে না, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাভাবিকভাবে বেড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের অন্তরায় সৃষ্টি হচ্ছে। সাধারণ মানুষ নানারকম জটিল ব্যাধিতে আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি নবজাত শিশু পর্যন্ত বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নিচ্ছে। অথচ একটি সুস্থ ও সমৃদ্ধিশালী জাতি গঠন এবং টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করার স্বার্থে এই চিত্রের অবসানের কোনো বিকল্প নেই।
আমরা মনে করি, একশ্রেণির অসাধু নিজেদের লাভালাভের অঙ্ক কষে জীবন-বিনাশী কর্মকা- চালিয়ে যাবে, তা কোনো মতেই কাম্য নয়। মানুষের জীবন ও স্বাস্থ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলার অধিকার কারও নেই। এসব গর্হিত কাজ প্রতিরোধে প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা জোরদার করতে হবে। সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের আওতায় রাখাতে হবে বাজারকে। জনসচেতনতা সৃষ্টির জন্যে প্রচার-প্রচারণাসহ নানা উদ্যোগও নিতে হবে। ভেজাল পণ্য তৈরির অপরাধে শাস্তির বিধান পর্যাপ্ত নয়, এ ব্যাপারেও সময়োপযোগী সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, খাদ্যের ভেজাল ও ক্ষতিকারক উপাদান নিরীক্ষা করার জন্য সরকার একটি বিশেষ পরীক্ষাগার স্থাপন করবে। এ বিষয়ে সরকারের ত্বরিৎ পদক্ষেপ থাকা দরকার। আমরা আমা করতে চাই, নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে সরকার সব পদক্ষেপই গ্রহণ করবে। মনে রাখতে হবে, সুস্থ-সবল জাতি চাইলে অবশ্যই পুষ্টিসম্মত নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।

Share