নিজস্ব প্রতিবেদক

কাকে হুমকি দিচ্ছে ? কে হুমকি দিচ্ছে ? হুমকি দিয়ে কেউ পার পাবে ? কেউ পার পাবে না। আমাদের ইন্টেলিজেন্টস টিম এখন অনেক শক্তিশালী। ট্রেক করা এখন আর কোনো ব্যাপার না। আগের বাংলাদেশ নেই। এখন ডিজিটাল বাংলাদেশ। কর্ণফুলীর উচ্ছেদ কার্যক্রম নিয়ে সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তাকে কেউ হুমকি দিলে ট্রেক করে হুমকি দাতাদের ধরা হবে বলে জানান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।
গতকাল শনিবার কর্ণফুলী পাড়ের অবৈধ উচ্ছেদ কার্যক্রম পরিদর্শনে এসে

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। মন্ত্রী বলেন, শুধু ট্রেক করাই না হুমকি দিলে উচ্ছেদের গতি আরো দ্বিগুণ হবে। কোনো প্রভাবশালী মহল অভিযানে বিচ্যুতি ঘটাতে পারবে না। ৫ দিনে আমরা ১০ একর জায়গা উদ্ধার করেছি।
এক প্রশ্নের জবাবে কর্ণফুলীর পাড় দখল করে গড়ে ওঠা সেই আলোচিত কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স নিয়ে মন্ত্রী বলেন, উচ্ছেদের শুরু থেকেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিলো কর্ণফুলী শিপ বিল্ডার্স। ভবনটির ভাঙা না ভাঙা নিয়ে ছিলো অনেক প্রশ্ন। প্রাথমিকভাবে ভবনটি না ভাঙার কারণ হলো, ভবনটিতে একটি কোল্ড ষ্টোরেজ আছে। যেখানে কয়েক লক্ষ টন মাছ মজুদ আছে কোম্পানিটির। এই মাছ আমাদের দেশের সম্পদ। পাবলিসিটির জন্য ধুমধাম ভবন ভেঙে দেশের সম্পদ নষ্ট করা যাবে না। তবে আমি আপনাদের নিশ্চিত করে বলতে চাই এই ভবনটিও উচ্ছেদের হাত থেকে রেহাই পাবে না। আমরা তাদের দ্রুত মাছগুলো সরিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছি। কয়েকদিনের মধ্যে সময়ও বেঁধে দেবো ভবন ভাঙার বিষয়ে।
উদ্ধার হওয়া জায়গা নিয়ে সরকারের পরিকল্পনা জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান, আমরা এই নদীর পাড়কে নান্দনিকতার ছোঁয়া দিতে চাই। তবে প্রাথমিকভাবে এই পাড়ে কার্গোর জন্য ‘পল্টন জেটি’ করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। কেননা আমাদের দেশে বিদেশ থেকে আসা জাহাজগুলো কার্গো জটের কারণে ভিড়তে পারে না। যার জন্য প্রতিটি জাহাজ প্রতি সরকারকে জরিমানা গুণতে হয় ২০ থেকে ২৫ হাজার ডলার। এই জেটিটি নির্মাণ করা সম্ভব হলে অনেক টাকা লোকসানের হাত থেকে বাঁচবে দেশ।
অভিযানের পরবর্তী কার্যক্রম নিয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে শুরু করা হবে পরবর্তী ধাপের উচ্ছেদ অভিযান।
এসময় পরিদর্শনে মন্ত্রীর সাথে আরো উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াছ হোসেন, উচ্ছেদ কার্যক্রমে নেতৃত্ব দেওয়া সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম ছাড়াও প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।
এদিকে উচ্ছেদ কার্যক্রমের সমন্বয়ক সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাহমিলুর রহমান জানান প্রথম ধাপের অভিযানে সরকারের প্রায় ২০০ কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করা হয়েছে।

Share
  • 3
    Shares