নিজস্ব প্রতিবেদক

শাহ আমানত সেতুর গোল চত্ত্ব¡র এলাকায় দূরপাল্লার বিভিন্ন যানবাহনের কাউন্টারের সামনে রাস্তায় রাখা হয় ৪-৫টি করে বাস। ৭টি কাউন্টার ঘিরে সব সময় অন্তত ৩০টি বড় বাস দাঁড়িয়ে থাকে। এছাড়াও মোড়ে মোড়ে দাঁড়িয়ে থাকে বিভিন্ন যানবাহন। পুরো চত্ত্বর ঘিরে সবসময় বিরাজ করে এক নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি।অতিরিক্ত যানবাহনের চাপে সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। নষ্ট হচ্ছে হাজার হাজার শ্রমঘণ্টা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিটি স্ট্যান্ড থেকে পুলিশ মাসোহারা নেয়। এই কারণে রাস্তার ওপর যত্রতত্র গাড়ি রাখা হলেও অকার্যকর ভূমিকা পালন করে পুলিশ।
দেখা যায়, সেতুর গোল চত্ত্বর ঘিরে মোড়ে মোড়ে গাড়ি স্ট্যান্ড বানানো হয়েছে।অবৈধ স্ট্যান্ডগুলোতে যত্রতত্রভাবে রাস্তার ওপর গাড়ি রাখা হয়। চত্ত্ব¡রের পশ্চিম পাশে শহরের প্রবেশমুখে রয়েছে মাইক্রো ট্যাক্সি, টেম্পোস্ট্যান্ড। এই স্থানে সবসময় অর্ধ শতাধিক টেম্পো দাঁড় করানো থাকে। বিপরীত দিকে রয়েছে দূরপাল্লা কক্সবাজার, বান্দরবানের বাস। এছাড়াও দক্ষিণ জেলার বিভিন্ন রোডে চলাচলতরত বাস ও বিভিন্ন যানবাহন। গোল চত্ত্বরের পূর্বাংশে সড়কের দু-তৃতীয়াংশ অংশজুড়ে বাসে দখলে থাকে। ৪০-৪৫টি বাস দাঁড় করানো থাকে। এছাড়াও সেতুর সংযোগ সড়কের মুখে বাস দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠানো-নামানো করা হয়। পুরো গোল চত্ত্ব¡রজুড়ে বিশৃঙ্খলা আর অনিয়মে ভরপুর। ট্রাফিক পুলিশের খামখেয়ালি ও দায়িত্বহীনতার কারণে বিশৃঙ্খল পরিবেশ বিরাজ করছে। এতে সারাক্ষণই যানজট লেগে থাকে। দেখা যায়, দিনের বেলায় মালবোঝাই ট্রাক, কাভার্ড ভ্যান চলাচলের ওপর সিএমপি পুলিশের বিধি-নিষেধ থাকলেও পুলিশকে উপরি দিয়ে অবাধে চলাচল করছে এসব যানবাহন। ট্রাফিক পুলিশ ও দালালের মাধ্যমে টাকা নেওয়া হয়। দক্ষিণ চট্টগ্রাম, পার্বত্য বান্দরবান, কক্সবাজার ও টেকনাফ উপজেলার প্রবেশদ্বার খ্যাত শাহ আমানত সেতুর গোলচত্ত্ব¡র হয়ে প্রতিদিন শত শত যানবাহন চলাচল করে। এর ওপর রাস্তায় অবৈধ স্ট্যান্ড, ফুটপাত দখল ও অতিরিক্ত গাড়ির চাপে চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। এরফলে প্রতিনিয়ত যানজট আর দুর্ঘটনা লেগে রয়েছে। যানজটে আটকা পড়ে মানুষের শত শত শ্রমঘণ্টা হারিয়ে যাচ্ছে।
পরিবহন মালিক ও শ্রমিকেরা জানায়, মাইক্রোবাস থেকে মাসে দুই হাজার টাকা, টেম্পো থেকে দিনে দিনে ৮০ টাকা ও মাসে এক হাজার টাকা, লেগুনা থেকে দিনে দুই শ টাকা ও মাসে দুই হাজার টাকা, মাহেন্দ্র থেকে দিনে ৮০ টাকা ও মাসে এক হাজার আদায় করা হয়। পুলিশের নামে টেন্ডল (দালাল) স্ট্যান্ড প্রতি এসব চাঁদা বা মাসোহারা আদায় করেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানায়, রাস্তার ওপর অতিরিক্ত গাড়ি দাঁড় করিয়ে রাখার কারণে ত্রাহি অবস্থা বিরাজ করছে। নিয়ম মেনে গাড়ি দাঁড় করানো হলে গোল চত্ত্বর এলাকায় শৃঙ্খলা ফিরে আসবে। যানজট ও দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে।

Share
  • 7
    Shares