যানজটে নাকাল রাজধানীবাসীকে নিরাপদ ও দ্রুত চলাচলের সুযোগ করে দিতে মেট্রোরেলের কাজ এগিয়ে চলেছে। দু’টি ভাগে বিভক্ত প্রকল্পটির উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত অংশের কাজ এখন দৃশ্যমান। চলতি বছরের মধ্যে এই অংশ দিয়ে যাত্রী পারাপারের কথা রয়েছে। লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশের পাশাপাশি জাপানেও প্রকল্পের কাজ পুরোদমে এগিয়ে চলেছে। জাপানি নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান মেট্রোরেলের অন্যতম অংশ রোলিং স্টক ( রেল কোচ) প্রস্তুত করেছে। এখন চলছে পরিদর্শন ও পর্যালোচনার কাজ। সব ঠিক থাকলে শিগগিরই রেল কোচগুলো পানিপথে ঢাকায় নিয়ে আসা হবে। ঢাকা ম্যাস র‌্যাশপিড ট্রানজিট (এমআরটি) কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, জাপানের কাওয়াসাকি-মিতসুবিশি কনসোর্টিয়াম নামে একটি প্রতিষ্ঠান মেট্রোরেলের কোচগুলো সরবরাহ করবে। প্রতিষ্ঠানটিকে বাঙালির ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অংশ লাল-সবুজের আদলে কোচ প্রস্তুতের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে প্রতিষ্ঠানটির নির্ধারিত কারখানায় কোচগুলো প্রস্তুত করা হয়েছে। মেট্রোরেলের ট্র্যাক নির্মাণ শেষ হওয়ার পর তাতে তৈরি কোচগুলো বসিয়ে বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়া হবে। এরপর চলাচল শুরু করবে স্বপ্নের মেট্রোরেল। ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন সিদ্দিক বলেন, ‘ মেট্রোরেলের প্রকল্প মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন ২০২০ সালের মধ্যে প্রকল্পের পুরো কাজ শেষ করার জন্য। সে অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। আমাদের দেশের পাশাপাশি জাপানেও এর কাজ চলছে। আমাদের যে টার্গেট সে অনুযায়ী আমরা উনাদেরকে ওয়ার্ক প্ল্যান দিয়েছি। সে অনুযায়ী তারা কাজ করছে। কোচ নির্মাণের কাজ প্রায় শেষ। এখন পরিদর্শন ও পর্যালোচনার কাজ চলছে। এগুলো অপারেট করার জন্য আমাদের লোকজনকে ট্রেনিং দেওয়া হবে।’ -বাংলা ট্রিবিউন
সূত্র জানায়, মেট্রোরেলের কোচগুলো হবে অত্যাধুনিক সময়োপযোগী। প্রতিটি কোচ হবে ট্রেনেস্টেইনলেস স্টিলের তৈরি এবং শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এতে ছয়টি বগি থাকবে, যাত্রী ধারণক্ষমতা হবে ১ হাজার ৭৩৮। বগির উভয় পাশে থাকবে চারটি দরজা। ট্রেনে সিটের ধরন হবে লম্বালম্বি এবং প্রতি ট্রেনে প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকবে দুটি হুইলচেয়ারের পাশাপাশি হুইলচেয়ার রাখার ব্যবস্থা। এ ছাড়া থাকবে স্টার্টকার্ড টিকেটিং পদ্ধতি।

Share
  • 1
    Share