নীড়পাতা » অর্থনীতি » এখনও বেসরকারি ব্যাংকের গড় সুদহার ডাবল ডিজিটে

এখনও বেসরকারি ব্যাংকের গড় সুদহার ডাবল ডিজিটে

বেসরকারি ব্যাংক মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অব ব্যাংকার্সের (বিএবি) ঘোষণা অনুযায়ী ২০১৮ সালের ১ জুলাই থেকে ব্যাংক ঋণে সুদ হার সিঙ্গেল ডিজিট বা এক অঙ্কে (৯ শতাংশ) নেমে আসার কথা থাকলেও বেসরকারি ব্যাংকগুলোর সুদহার এখনও ডাবল ডিজিটেই রয়ে গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে ঋণের গড় সুদহার ১০ দশমিক ২৭ শতাংশ। তবে সরকারি, বিশেষায়ীত ও বিদেশি ব্যাংকগুলোর গড় সুদহার যথাক্রমে ৬ দশমিক ৭৫, ৭ দশমিক ৫৬ ও ৮ দশমিক ৯ শতাংশ। সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, চাইলেই ব্যাংক ঋণের সুদহার এক অঙ্কে নামিয়ে আনা যায় না। এটা আমানত সংগ্রহ, চাহিদা ও সরবরাহের উপর নির্ভর করে। আমানত সংগ্রহের জন্য বেশি সুদ প্রদান করে কম সুদে ঋণ বিতরণ অসম্ভব।বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিসেম্বর মাসের তথ্য অনুযায়ী ৯ শতাংশ বা এর থেকে এর নিচে ঋণ বিতরণ করছে মাত্র ৪টি ব্যাংক। সেগুলো হচ্ছে আইসিবি ইসলামিক ব্যাংক, বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক ও ইসলামী ব্যাংক। যেসব ব্যাংকের গড় সুদহার ৯ শতাংশ থেকে উপরে কিন্তু ১০ শতাংশের নিচে রয়েছে সেগুলো হলো- ন্যাশনাল ব্যাংক, পূবালী ব্যাংক, উত্তরা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, সাউথইস্ট ব্যাংক, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক ও ট্রাস্ট ব্যাংক। অন্যদিকে ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে এর উপরে গড় সুদহার রয়েছে এমন ব্যাংকের সংখ্যা মোট ২৯টি। ব্যাংকগুলো হচ্ছে, এবি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, দি সিটি ব্যাংক, আইএফআইসি ব্যাংক, সীমান্ত ব্যাংক, ইস্টার্ন ব্যাংক, এনসিসি ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, মার্কেন্টাইল ব্যাংক, স্ট্যান্ডার্ড ব্যাংক, ওয়ান ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটিজ ইসলামী ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, শাহ্জালাল ইসলামী ব্যাংক, যমুনা ব্যাংক, ব্র্যাক ব্যাংক, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক, সাউথ বাংলা এগ্রিকালচার অ্যান্ড কমার্স ব্যাংক, মেঘনা ব্যাংক, মিডল্যান্ড ব্যাংক, দি ফার্মারস ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক, এনআরবি ব্যাংক, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও মধুমতি ব্যাংক।একদিকে যেমন ঋণের সুদহার কমানোর চাপ, অন্যদিকে মার্চ মাসের মধ্যে এডি রেশিও বা এডভান্স ডিপোজিট রেশিও সমন্বয়ের তাড়া। সবমিলে চাপের মধ্যেই রয়েছেন ব্যাংকাররা। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সেপ্টেম্বর মাসের তথ্য অনুযায়ী ১২টি ব্যাংক এখনও এডি রেশিও সমন্বয় করতে পারেনি। উল্লেখ, গত ৩০ জানুয়ারি মুদ্রানীতি ঘোষণা করার পর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, এখনও যেসব ব্যাংক এডি রেশিও সমন্বয় করতে পারেনি তাদের জন্য সময় বাড়ানো হবে না। আগামী মার্চ মাসের মধ্যে সব ব্যাংক নির্ধারিত সীমানার মধ্যে চলে আসবে বলে আশাবাদ ব্যাক্ত করেন তিনি।

Share