আমদানি বাড়ার গতি কমায় বাংলাদেশের বৈদেশিক লেনদেনের চলতি হিসাবের ভারসাম্যেও কিছুটা স্বস্তি ফিরে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক রবিবার লেনদেন ভারসাম্যের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের প্রথমার্ধে (জুলাই-ডিসেম্বর) লেনদেন ভারসাম্যের চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩০৮ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত অর্থবছরের একই সময়ে এই ঘাটতি ছিল ৫০৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এ হিসেবে এই ছয় মাসে লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি কমেছে ৬৪ দশমিক ৩৭ শতাংশ। ৯৭৮ কোটি (৯.৮ বিলিয়ন) ডলারের রেকর্ড ঘাটতি নিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষ করেছিল বাংলাদেশ। তার আগে ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৩৩ কোটি ১০ লাখ (১.৩৩ বিলিয়ন) ডলার। সাধারণভাবে কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝা যায় চলতি হিসাবের মাধ্যমে। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে ঋণ নিতে হয়। অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, আমদানি বাড়ায় গত অর্থবছরে বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি বেশ বেড়ে গিয়েছিল। জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে চলতি অর্থবছরে আমদানির সেই গতি খানিকটা কমেছে। সে কারণেই বাণিজ্য ঘাটতির পাশপাশি লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতিও কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বুধবার ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন।
জাতীয় নির্বাচনের আগে অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমে গিয়েছিল বলে মনে করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির।৩০ জানুয়ারি চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধের (জানুয়ারি-জুন) যে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেছেন তাতে তিনি বলেছেন, অর্থবছরের প্রথমার্ধের (জুলাই-ডিসেম্বর) মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছিল ১৬ দশমিক ৮ শতাংশ।
কিন্তু ডিসেম্বর শেষে দেখা যায় এ খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি লক্ষ্যের চেয়ে অনেক কম হয়েছে; ১৩ দশমিক ৩ শতাংশ।
সদ্য সমাপ্ত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সম্ভাব্য অনিশ্চয়তার উৎকণ্ঠা এর একটি কারণ হয়ে থাকতে পারে।‘বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ কমার প্রভাব আমদানি খাতে পড়েছে’ জানিয়ে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান মনসুর বলেন, গত অর্থবছরে আমদানি বেড়েছিল ২৫ শতাংশের বেশি। তবে এবারের প্রবৃদ্ধি ততোটা হবে না বলেই মনে হচ্ছে। নির্বাচনের কারণে আমদানির গতি ধীর ছিল।–বিডিনিউজ

Share