পূর্বকোণ স্পোর্টস ডেস্ক

বিপিএলে গতকালের দুই ম্যাচে সাফল্যের হাসি হেসেছে চিটাগং ভাইকিংস ও রংপুর রাইডার্স। তিন হারের পর বিপিএলে জয়ের দেখা পেল রংপুর রাইডার্স। যার মধ্যে সর্বশেষটি ছিল সিলেট সিক্সার্সের কাছে। এবার সেই দলকে ৪ উইকেটে হারিয়ে প্রতিশোধ নিলো বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। গতকাল প্রথম ম্যাচের মতো (সিলেট ১৯৪, রংপুর ১৯৫, মোট ৩৮৯ রান) দ্বিতীয় ম্যাচও ছিল রানবন্যার। সেই ম্যাচে জয়ের হাসি হেসেছে মুশফিকুর রহিমের চিটাগং ভাইকিংস। তাদের করা এবারের আসরের রেকর্ড ৪ উইকেটে ২১৪ রানের টার্গেট ধাওয়া করতে গিয়ে খুলনা টাইটান্স থামে ১৮৮ রানে। এই ম্যাচে মোট রান হয়েছে ৪০২। গতকালের জয় নিয়ে চট্টগ্রামের দলটি ৫ ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার ২ নম্বরে উঠে এসেছে। এক ম্যাচ বেশি খেলে ৫ জয় নিয়ে সবার উপরে আছে ঢাকা ডায়নামাইটাস। সমান ম্যাচে ৪ জয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে তিনে আছে কুমিল্লা।
গতকাল হারের বৃত্তে থাকা খুলনা জয়ের জন্য ভালো শুরুটাই করতে পারেনি। অবশ্য ২১৪ রান তাড়া করে জেতার ঘটনা বিশ্বে থাকলেও সেটা কদাচিৎই ঘটে। সেই কদাচিৎকে গতকাল মাঠে হাজির করতে পারেনি খুলনার ব্যাটসম্যানরা। মাত্র ১৮ রানেই তারা হারিয়ে বসে ৩ উইকেট। মাঝে অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ৫০ ও ব্রে-ন টেলরের ২৮ রান সম্ভাবনা জাগিয়েছিল। মিডল অর্ডারে ডেভিড ওয়াইজ ২০ বলে ৪০ রান করলেও সেটা শুধু হারের

ব্যবধানটাই (২৬ রান) কমিয়েছে। পুরো কুড়ি ওভার খেলে তারা ১৮৮ পর্যন্ত পৌছাতে সক্ষম হয় ৮ উইকেট হারিয়ে। চিটাগংয়ের পক্ষে আবু জায়েদ ৩টি ও ডেলপোর্ট ও খালেদ আহমেদ ২টি করে উইকেট লাভ করেন। চট্টগ্রাম ২১৪ রানের পাহাড় স্কোর করেছে অধিনায়ক মুশফিকুর রহিমের ৫২, ইয়াসির আলীর ৫৪ শানকার ৪২ ও মো. শেহজাদের ৩৩ রানের উপর ভর করে। খুলনার পক্ষে ডেভিড ওয়াইজ ২টি উইকেট নেন।
দিনের প্রথম ম্যাচে বিধ্বংসী সাব্বির রহমানের ব্যাটে ৪ উইকেটে ১৯৪ রান করেছিল সিলেট। ৫১ বলে ৫ চার ও ৬ ছয়ে ৮৫ রান করেন এই ডানহাতি ব্যাটসম্যান। জবাবে ১৯.৩ ওভারে ৬ উইকেটে ১৯৫ রান করে রংপুর। রংপুর আগের দেখায় সিলেটের কাছে ১৮৮ রানের টার্গেট পেয়ে হেরে যায়। সিলেট আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামে এবার তার চেয়েও বেশি রানের লক্ষ্য দেয় স্বাগতিকরা। কিন্তু দুই দক্ষিণ আফ্রিকান ব্যাটসম্যানের কল্যাণে ৩ বল হাতে রেখে জিতেছে রংপুর। বিপিএলে অভিষেকের ম্যাচ রাঙাতে ভুল করেননি এবি ডি ভিলিয়ার্স। ৬৩ রানের মধ্যে ক্রিস গেইল (০) ও অ্যালেক্স হেলস (৩৩) বিদায় নিলে মাঠে নামেন তিনি। জাতীয় দলের সতীর্থ রাইলি রোসোর সঙ্গে ৬৭ রানের দারুণ জুটি গড়েন ডি ভিলিয়ার্স। ২১ বলে ২টি করে চার ও ছয়ে ৩৪ রান করেন এই প্রোটিয়া ব্যাটসম্যান। ৩৫ বলে ৯ চার ও ২ ছয়ে সাজানো ছিল রোসোর ৬১ রানের ইনিংস। শেষ ২ ওভারে রংপুরের দরকার ছিল ২৪ রান। অধিনায়ক মাশরাফি ও ফরহাদ রেজা ক্রিজে থেকে প্রয়োজনীয় রান তুলে নেন। শেষ ওভারে ৫ রান করতে হতো তাদের। ফরহাদ শেষ ওভারের তৃতীয় বলে জয়সূচক বাউন্ডারি হাঁকান। ৬ বলে ২ চার ও ১ ছয়ে ১৮ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। প্রথম বলেই চার মারা মাশরাফি টিকে ছিলেন ৫ রানে। তাসকিন ৪ ওভারে ৪২ রান দিয়ে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন। ম্যাচসেরা হয়েছেন রোসো।

Share