নিজস্ব প্রতিবেদক

দক্ষিণ বাকলিয়ার আবু জফুর রোডের আলী স্টোর বিল্ডিং এলাকায় রাস্তার উপর গড়ে ওঠা ডাস্টবিন তুলে এখন ফুলের বাগান করা হয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের স্থায়ী ডাস্টবিন না হলেও ১৫ বছর ধরে রাস্তায় ময়লা-আবর্জনা ফেলে ডাস্টবিনে পরিণত করেছে স্থানীয়রা। এতে ওই এলাকায় বসবাস ও রাস্তায় চলাচল কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, ২০০৩ সাল থেকে রাস্তার উপরে ময়লা-আবর্জনা ফেলে আসছিলেন স্থানীয়রা। বিভিন্ন বাসা-বাড়ির বাসিন্দারা গৃহস্থলি ময়লা-আবর্জনা রাস্তা ধারে ফেলা শুরু করে। দেখাদেখিতে রাস্তার এক পাশ ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হয়। এভাবে রাস্তাটি ডাস্টবিনে পরিণত হয়। ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে বাসিন্দাদের নাকাল অবস্থা বিরাজ করছে। ১৫ বছরের সেই অস্থায়ী ডাস্টবিনটি তুলে এখন ফুলের বাগান করেছে স্থানীয়রা।
স্থানীয় ওয়াড কাউন্সিলের অনুমতি নিয়ে উদ্যোগটি নেন হাজি ভেল্লাগাজির বাড়ির বাসিন্দা এডভোকেট জি এম জাহেদ, ব্যবসায়ী গাজী আবদুল মান্নান, মো. শহিদুল ইসলাম। তাদের সহযোগিতায় ডাস্টবিন তুলে ফুলের বাগান করা হয়েছে।
ব্যবসায়ী গাজী আবদুল মান্নান বলেন, স্থায়ী ডাস্টবিন না হলেও রাস্তার উপর ময়লা-আবর্জনা ফেলতে ফেলতে ডাস্টবিনে পরিণত করা হয়েছে। ১৫ বছর ধরে সড়কের এক পাশে ময়লা-আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত করা হয়। এরফলে রাস্তাটি সরু হয়ে আসায় যানবাহন চলাচলে বিঘিœত ও লোকজনের চলাফেলায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে বাসায় ঠেকা দায় হয়ে পড়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে দুর্ভোগ চরমে ওঠেছে। আশপাশ ভবনের বাসিন্দারা ময়লা-আবর্জনার দুর্গন্ধে দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখতে হতো। এই অবস্থায় বাধ্য হয়ে কাউন্সিলের মতামতা ও পরামর্শ নিয়ে গত মাসে নিজেদের উদ্যোগে ডাস্টবিন সরিয়ে ফুলের বাগান করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বাগানের কাজ এখনো অনেক অসম্পূর্ণ রয়েছে। আশা করছি, অন্যান্য ওয়ার্ডের মতো কর্পোরেশনের উদ্যোগে বাগানটি আরও সম্প্রসারিত করবে। এলাকার সৌন্দর্যবর্ধনে সহায়তা করবে।
এলাকাবাসী জানায়, দক্ষিণ বাকলিয়ায় প্রায় চার লাখ লোকের বসবাস। গণবসতি এলাকা হিসেবে পরিচিত। করপোরেশনের নির্দিষ্ট ডাস্টবিন না থাকায় যেখানে-সেখানে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ডাস্টবিনে পরিণত করা হয়েছে। ঘনবসতি ও সরু রাস্তা-অলিগলির কারণে করপোরেশনের গাড়ি অনেক স্থানে ঢুকতে পারে না। ভ্যানগাড়িও যথাসময়ে ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করে না। বেশির ভাগ স্থানে ময়লা-আবর্জনা রাস্তার উপরে ফেলা হয়। মিয়াখাঁন নগরের বাদামতলীর মোড়সহ বেশ কয়েকটি অস্থায়ী ডাস্টবিন রয়েছে।
চর চাকতাই কিন্ডারগার্টেন স্কুলের প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, আবু জফুর রোডের আলী স্টোরের সামনে রাস্তার উপরের ডাস্টবিনটি সরিয়ে ফুলের বাগান করা হয়েছে। কিন্তু মিয়াখাঁন নগর বাদামতলী মোড়ের অস্থায়ী ডাস্টবিনটি এখনো সরানো হচ্ছে না। রাস্তার ধারে যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করে তোলা হচ্ছে। ডাস্টবিনের পাশে শিশুদের একটি স্কুলও রয়েছে। কোমলমতি শিশুরা ডাস্টবিনের দুর্গন্ধে বেড়ে ওঠছে। সেই ডাস্টবিনটি সরানোর জন্য মানববন্ধন করা হয়েছে। তারপরও কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
দক্ষিণ বাকলিয়ার চাক্তাই নতুন মসজিদ, পশ্চিম পাড়া, তুলাতলী জামাই বাজার, নুর হোসেন চেয়ারম্যান ঘাটা, বালুর মাঠ, তকতারপুল, ইছাহাকের পুল, বাদিয়ার টেক, ময়দারমিল মোড়, বাদামতলী, বৌ-বাজার এলাকায় কোন স্থায়ী ডাস্টবিন নেই। এসব স্থানে বাসাবাড়ির ময়লা-আবর্জনা রাস্তার ওপর ফেলা হয়।
বাদামতলী মোড়ের ব্যবসায়ী মো. হারুন বলেন, স্থায়ী কোন ডাস্টবিন না থাকায় বছরের পর বছর রাস্তার পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে স্থানীয়রা। সড়ক দিয়ে চলাচল ও বাসায় থাকায় দায় হয়ে পড়েছে।

Share