পূর্বকোণ স্পোর্টস ডেস্ক

টুর্নামেন্টে নিজেদের অর্ধেক ম্যাচ শেষে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন রংপুর রাইডার্সের অবস্থা ছিল করুণ। ছয় ম্যাচ থেকে মাত্র ২ জয় নিয়ে সাত দলের মধ্যে পাঁচ নম্বরে ছিল মাশরাফি বিন মর্তুজার দল। টুর্নামেন্টের সুপার ফোর বা প্লে’অফের জন্য এখনো বাকি অনেক পথ। তবু জয়ের ধারায় ফিরতে না পারলে গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়তে হবে বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের। গতকাল সিলেট সিক্সার্সের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে এমন দুর্ভাবনাই ছিল রংপুরের সঙ্গী। ম্যাচে টসে জিতেও সিলেটকে আগে ব্যাটিংয়ের আমন্ত্রণ জানান রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি। আগে ব্যাট করে সাব্বির রহমানের ৮৫ রানের ইনিংসে ভর করে ১৯৪ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায় সিলেট। যা ছিল এবারের আসরের সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ। দলে ক্রিস গেইল, এবি ডি ভিলিয়ার্স, রিলে রুশোর মতো তারকারা থাকলেও ১৯৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করা কখনোই সহজ নয়। এর মধ্যে আবার ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই সাজঘরে ফিরে যান গেইল। ডি ভিলিয়ার্স, রিলে রুশোরা ভালো ব্যাট করলেও ম্যাচ শেষ না করেই আউট হয়ে যান। ফলে ১৯৫ রানের লক্ষ্যটা আরো কঠিন হয়ে যায় বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের জন্য। শেষ দিকে ফরহাদ রেজার ৬ বলে ১৮ রানের ক্যামিও ইনিংসে ৩ বল ও ৪ উইকেট হাতে রেখে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় রংপুর। ম্যাচ শেষে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছেন রংপুর অধিনায়ক মাশরাফি। কিন্তু তিনি নিজেও জানতেন পুরো ম্যাচজুড়ে ছিলেন দ্বিধাদন্দ্বে। কেননা তার মতে এই ম্যাচ হারলে টুর্নামেন্ট থেকে রংপুরের বিদায় ঘণ্টাও বেজে যেতে পারতো। তবে শেষপর্যন্ত জয় পাওয়ায় হারানো আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়ার স্বস্তিটাই বড় করে শোনা যায় মাশরাফির কণ্ঠে। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘আমরা যদি এই ম্যাচটা হারতাম তাহলে হয়তো টুর্নামেন্ট থেকেই বাদ পড়ে যেতাম। আমরা ম্যাচ জেতার সবচেয়ে কঠিন পথটা ধরে এগিয়েছি। তবে ম্যাচ জিতে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়াটাই মূল। এখন আমরা পরের ম্যাচে আরো বেশি বিশ্বাস নিয়ে খেলতে পারবো।’ সিলেট ১৯৪ রান করে ফেলার পরে ভয় ঢুকেছিল মাশরাফির মনেও। কেননা রংপুরের ব্যাটিং লাইনআপে বিধ্বংসী ব্যাটসম্যানরা থাকলেও ব্যাটিং গভীরতা খুব বেশি নয়। তাই টপঅর্ডারের চার ব্যাটসম্যানের দিকেই তাকিয়ে ছিলেন তিনি। তবে শেষদিকে ফরহাদ রেজা ম্যাচ জেতানোয় তাকেও কৃতিত্ব দিতে ভোলেননি মাশরাফি। ‘আমাদের ব্যাটিং গভীরতা খুব শক্তিশালী নয়। তবে আমাদের প্রথম চার চার ব্যাটসম্যান আবার বিশ্বসেরাদের মধ্যে অন্যতম। তাই আমাদের সেই আত্মবিশ্বাসটা ছিলো যে যদি পাওয়ারপ্লে’র ৬ ওভারে উইকেট না হারিয়ে ৬০-৬৫ করতে পারি তাহলে আমরা জিততেও পারি। কারণ পরে আবার ডি ভিলিয়ার্স ছিল। আমরা সৌভাগ্যবান যে ম্যাচ শেষ করতে পেরেছি, যেটা শেষের কয়েকটা ম্যাচের পারিনি। আজকের ম্যাচটা ৫০-৫০ ছিলো, কৃতিত্ব অবশ্যই ফরহাদের। সে যেভাবে ম্যাচটা জেতালো তা সত্যিই প্রশংসনীয়।’

Share