অধ্যাপক রতন কুমার তুরী

একটি অনুন্নত দেশ থেকে ক্রমেই উন্নতির দিকে নিয়ে যাওয়া বাংলাদেশকে বিশ^ দরবারে তুলে ধরেছেন একমাত্র শেখ হাসিনাই। এখন বিশ^ চেনে শেখ হাসিনার বাংলাদেশকে।
১৯৭৩ সালের নির্বাচনের পর এবারই কোনো দল বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমন বিশাল বিজয় পেলো। এমন বিজয়ের একক কৃতিত্ব একমাত্র আঞ্চলিক নেতা থেকে বিশ^ নেতায় পরিণত হওয়া উপমহাদেশের বিচক্ষণ এবং মেধাবী নেত্রী শেখ হাসিনা।
এই নির্বাচন আপাতত এই ম্যাসেজ দিচ্ছে যে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশের রাজনীতি ও রাষ্ট্র ক্ষমতার একক নিয়ন্ত্রক হিসেবে নিজেকে আবারও সমাসীন করলেন।
এই অর্জনে নৈতিকতা, ন্যায্যতা, রাষ্ট্রনৈতিক সততার পরিস্থিতি যাই থাকুক না কেন, একথা এখন নির্দ্বিধায় বলা যায় যে, শেখ হাসিনাই বাংলাদেশ তথা উপমহাদেশের প্রজ্ঞাবান এবং শক্তিমান নেত্রী। কালে কালে এই ভূখন্ডে তো বটেই, ইতিহাসে অনেক অতীতের কাহিনীতেও দেখা যায়, অনেক শক্তিধর শাসকের আবির্ভাব ঘটেছে। শেখ হাসিনা সেইরকম শক্তিধর ইতিহাস সৃষ্টিকারী একক শাসক হিসেবেই আবির্ভূত হলেন।
এবারের নির্বাচন তাকে সেই সক্ষমতাও দিলো। নিজ ক্ষমতায় সকল বাধা, সকল বৈরিতা তুচ্ছ করেই তিনি তা অর্জন করলেন। এখন দেখার বিষয় রাষ্ট্রশাসনে আগামী দিনে তিনি কী ধরনের শাসন জনগণকে উপহার দিতে পারেন।
এবারের নির্বাচনে দেশের সব দল অংশগ্রহণ করায় নির্বাচন নিয়ে বহিঃবিশে^র কোনো প্র শ্ন ছিল না। প্রকৃতপক্ষে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা একদিনে এমন দৃঢ় এবং লৌহ কঠিন অবস্থানে আসতে পারেন নি। এতে অনেক ত্যাগ, শ্রম ও উন্নয়নের কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে।
৩৪ বছর বয়সে ৬ বছর নির্বাসিত জীবন শেষে ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে এসে যখন শেখ হাসিনা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের হাল ধরেছিলেন তখন পরিস্থিতি ছিল সম্পূর্ণ প্রতিকূল। এক অজানা ভবিষ্যতকে মাথায় রেখেই সেদিন তিনি এই গুরুভার গ্রহণ করেছিলেন।
অবশ্য ওই একই বছর তৎকালীন শাসক জিয়াউর রহমানের হত্যার পর বাংলাদেশের পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টাতে থাকে। আর এই পাল্টে যাওয়া বাংলাদেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতিকে নিজেদের অনুকূলে আনতে শেখ হাসিনাকে এক দীর্ঘ সংগ্রামে লিপ্ত হতে হয়েছিল।
প্রকৃতপক্ষে শেখ হাসিনার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা এবং মেধার কারণেই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সেদিন টিকে গিয়েছিল। আর, আজ সকল ষড়যন্ত্র এবং ইতিহাস বিকৃতির অবসান ঘটিয়ে শেখ হাসিনা বিশ^ রাজনীতিকদের কাতারে।
এতদূর আসতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রীকে বারংবার তাঁর প্রাণনাশের ঝুঁকি পর্যন্ত নিতে হয়েছিল। ঘাতকরা ২১শে আগস্ট তাকে হত্যার জন্য ‘আর্জেস’ গ্রেনেড পর্যন্ত ছুঁড়ে ছিল। কিন্তু মহান সৃষ্টিকর্তার কৃপায় তিনি সেদিন বেঁচে গিয়েছিলেন।
আর, এখন তিনি শুধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীই নয়, বিশ^ রাজনীতিতেও অবদান রাখছেন। প্রকৃতপক্ষে, বর্তমান নির্বাচনে বিজয় অর্জন করে দেশের সব চাইতে ক্ষমতাধর প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শেখ হাসিনার অভিষেকের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি এক নতুন দিকে যাত্রা করলো।
রাজনীতিতে যে বিভেদ প্রতিহিংসা আছে যার শিকার বারবার তিনি নিজেও হয়েছেন, সেই বিদ্বেষ প্রসূত রাজনীতি এবার কমবে বলে আশা করা যায়। কারণ, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী এসব বিদ্বেষপূর্ণ রাজনীতি কখনও প্রত্যাশা করেন না। তাছাড়া, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশে সর্বাত্মক সুশাসন প্রতিষ্ঠা করবেন। এমন প্রত্যাশা করাই যায়। এটি আজকের দিনের জনপ্রত্যাশাও। সুশাসন প্রতিষ্ঠার কঠিন ব্রতটি তিনি জনগণের সমর্থন নিয়েই সম্পন্ন করবেন। গণতন্ত্রের এই শিক্ষাই তো তিনি শিখেছেন পিতার আদর্শ থেকে।

লেখক : কলেজ শিক্ষক, প্রাবন্ধিক, মানবাধিকারকর্মী।

Share
  • 1
    Share