নিজস্ব প্রতিবেদক হ

নগরীর একে খান মোড়ে অদূরে ভিক্টোরি জুটমিলে ভয়াবহ অগ্নিকা-ে ছয় প্রতিষ্ঠানের আটটি গোডাউন পুড়ে গেছে। গতকাল শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটার দিকে অগ্নিকা-ের ঘটনা ঘটে। আগুনে শত কোটি টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে আশঙ্কা গোডাউন কর্তৃপক্ষের। তবে এ অগ্নিকা- রহস্যজনক মনে করছেন এলাকাবাসী। রাত এগারোটায় আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসে জানালেও পুরোপুরি নিভেনি বলে জানায় ফায়ার সার্ভিস। তবে রাতে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে কোন তথ্য পাওয়া যায়নি। অগ্নিকা-ের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে প্রধান করে ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়।
স্থানীয়রা জানায়, ২০০১ সালে ভিক্টোরি জুট মিল বন্ধ হয়ে যায়। পরে তা ইস্পাহানি ও সামিট গ্রুপের কাছে ভাড়া দেয়া হয়। তাদের যৌথ মালিকানায় এখানে একটি টার্মিনাল তৈরি করে তারা। যার নাম দেয়া হয় ইস্পাহানি সামিট এ্যালায়েন্স টার্মিনাল লিমিটেড। এর মধ্যে ৩২ একর জায়গায় আরএফএল, ইউনিলিভার, ইউনিটেক, ইয়াম এন্টারপ্রাইজ, রফিক এন্টারপ্রাইজসহ ছয়টি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে ভাড়া দেয়া হয়। এখানে ছয় প্রতিষ্ঠানের আটটি গোডাউন রয়েছে। যার মধ্যে আরএফএল গ্রুপের ভিশন ইলেক্ট্রনিক ও প্লাস্টিক পণ্য রয়েছে। ইউনিলিভারের বিভিন্ন কেমিক্যাল, ইয়াম এন্ট্রারপ্রাইজের তুলা, রফিক এন্টারপ্রাইজের চাউলের গোডাউন রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। অন্যদের বিভিন্ন ক্যামিক্যাল রয়েছে এ গুদামে। ফায়ার সার্ভিস জানায়, বিকেল পাঁচটার দিকে আগুন লাগার সংবাদ পেয়ে ঘটনাস্থলে ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিটের ১৪টি গাড়ি আগুন নেভানো চেষ্টা চালায়। আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় সন্ধ্যা ৬টার দিকে আরও দুটি ইউনিটের চারটি গাড়ি যোগ হয়ে আগুন নেভানোর কাজ করে। পরে রাত সাড়ে সাতটার দিকে আরও চারটি গাড়ি যোগ হয়। রাত সাড়ে নয়টা পর্যন্ত আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের দশটি ইউনিটের ২২টি গাড়ি কাজ করে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আগুনে গোডাউনগুলোর ভেতরে থাকা প্রচুর পরিমাণের প্লাস্টিক, ইলেক্ট্রনিক পণ্য, টিভি-ফ্রিজ, তুলা, চাউল, ঢেউ টিনসহ সকল মালামাল পুড়ে গেছে। ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা আগুন নেভানোর কাজ চালিয়ে গেলেও আশপাশে পানির সংকটে পড়ায় কাজে কিছুটা ব্যাঘাত ঘটে। বিকেল থেকে চার ইউনিটের ১৪ গাড়ি আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করলেও সন্ধ্যায় আরও ৬টি গাড়ি ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে অংশ নেয়। তাতে ব্যর্থ হয়ে সর্বশেষ রাত আটটার দিকে ফায়ার সার্ভিসের স্পেশাল স্মোকেল গাড়ি, হোম ট্রেন্ডার, লিবারেডিসহ কয়েকটি স্পেশাল ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। তবে রাত সাড়ে নয়টায়ও আগুন নেভাতে সক্ষম হয়নি ফায়ার সার্ভিস। তবে গুদামগুলোর আগুন নেভানোর কোন সরঞ্জাম এবং পানির উৎস না থাকায় আশপাশের নালার পানি দিয়েই আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা। এছাড়াও পাশের একটি মসজিদের পুকুর থেকেও পানির লাইন নিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজ করে তারা।
ঘটনাস্থলে থাকা স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, জুট মিল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ইস্পাহানি ও সামিট গ্রুপ যৌথ মালিকানায় এখানে টার্মিনাল করছে। তারা টার্মিনাল বানাতে গিয়ে সেখানে চারটি পুকুর ভরাট করে ফেলে। এছাড়াও এত বড় একটি এলাকায় অগ্নিনির্বাপক কোন ব্যবস্থা রাখেনি তারা।
এদিকে আগুনে শত কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে ইস্পাহানি সামিট এ্যালায়েন্স টার্মিনাল লিমিটেডের ম্যানেজার (এডমিন) নুরুল আলম। তিনি বলেন, আগুনে ছয়টি প্রতিষ্ঠানের অন্তত এক’শ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস ঘটনাস্থলে আসতে দেরি হওয়ায় আগুন বেড়ে যায় বলে অভিযোগ করেন তিনি।
ঘটনাস্থলে থাকা আগ্রাবাদ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক জসিম উদ্দিন রাত ১১টায় দৈনিক পূর্বকোণকে বলেন, আগুন লাগার খবর পেয়ে বিকেল থেকে এই পর্যন্ত আমাদের ১০টি ইউনিটের ২২টি গাড়ি ও স্পেশাল ইউনিট কাজ করছে। একপাশের আগুন কিছুটা নিয়ন্ত্রণ আসলেও পুরো গোডাউনের আগুন এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। যেহেতু গুদামগুলোর মধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কেমিক্যালজাতীয় দ্রব্য ছিল। তাই আগুন নেভাতে একটু সময় লাগছে। এসব কেমিক্যালে কার্বনের পরিমাণ বেশি ছিল। এখন স্পেশাল ইউনিট কাজ করছে। যেকোন সময় কার্বনগুলো সমস্যা করতে পারে। আশা করি কিছুক্ষণের মধ্যে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা যাবে। তবে কিভাবে অগ্নিকা-ের সূত্রপাত হয়েছে তা এখনো জানা যায়নি। এখানে এত বড় একটি গোডাউন। কিন্তু পানির কোন উৎস ছিল না। পানির উৎস থাকলে হয়তো আরও আগেই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হতো বলেও জানান তিনি।

Share
  • 73
    Shares