নওশের আলী খান

চট্টগ্রামের নৌ শিল্পের ঐতিহ্য প্রায় ১২শ বছরের। সমুদ্রের তীরে চট্টগ্রামের অবস্থান। পরিবেশগত কারণে সমুদ্র নির্ভর চট্টগ্রামের মানুষ সমুদ্রকে জয়ের নেশায় আবিষ্কার করেছিল এক ধরনের নৌকা ও সাম্পান। ঐতিহাসিকদের তথ্যমতে ৮ম শতক থেকে চট্টগ্রাম থেকে কাঠের তৈরি জাহাজ বিভিন্ন দেশে রপ্তানি হত। উনিশ শতকের প্রথম দিক পর্যন্ত জাহাজ রপ্তানীর এই ধারা অব্যাহত ছিল। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ১৯২০ সাল থেকে জাহাজ রপ্তানি বন্ধ হয়ে যায়। দীর্ঘ প্রায় এক শতক জাহাজ রপ্তানি বন্ধ থাকার পর ২০১০ সাল থেকে পুনরায় শুরু হয় জাহাজ রপ্তানী। তবে কাঠের নয় ইস্পাতের তৈরি জাহাজ।

ইতিহাস
বিভিন্ন সুত্রে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, চট্টগ্রামের নৌকা বা সাম্পানের নির্মাণ শৈলী ভিন্ন। চট্টগ্রামে অতি পরিচিত ও অত্যন্ত উপযোগী নৌকাই “সাম্পান” নামে পরিচিত। তরঙ্গ বিক্ষুব্ধ যাত্রা পথে বিশাল বিশাল ঢেউ এর মাথায় নৃত্য করতে করতে সাম্পান পাড়ি দিতে পারে জল পথে অনায়াসে। জানা যায়, চীনা শব্দ “সাং পাং”(তিন মাথা যুক্ত) শব্দ থেকে চট্টগ্রামের সাম্পান শব্দের উৎপত্তি। চট্টগ্রামের সাম্পানেও সামনে ১টি পেছনে ২টি অংশকে আপাতদৃষ্টিতে তিনটি মাথার মতোই মনে হয়। বার্মার লোকেরা সাম্পানকে বলে “থাম্পান”, জাপানীরা বলে “জুমপেন”, মালয়ীরা বলে “সমপেন”। তৎকালে চট্টগ্রামের অকুতোভয় সাগর পিয়াসী নাবিকেরা মালয় কোচিন, জাভা, সিংগাপুর, পেনাং এলাকাতে বাণিজ্যের উদ্দেশে বিচরণ করতো অনায়াসে। এ যোগসূত্রেই তাদের ভাষা ও শব্দের বিবর্তন এবং সংক্ষেপণের মাধ্যমে ঐ জলযানটার নাম চট্টগ্রামীদের নিকট “সাম্পান” হয়েছে সন্দেহ নেই। চট্টগ্রামীদের অর্থনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও সাহিত্য অঙ্গনে সাম্পানের রয়েছে এক বিরাট ভূমিকা। উল্লেখিত সাম্পানের বৃহত্তর রূপ হলো কাঠের তৈরি জাহাজ। এ গুলোতে আট-দশ হাজার মণ মালামাল নিয়ে সাগরে পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মালামাল পরিবহন করতো। চীন, জাপান, মালয় উপকূল, কোচিন, বোম্বাই, আকিয়াব, পেনাং, সিংহল, কলিকাতা, তাম্রলিপ্তি ইত্যাদি অঞ্চলে ছিল এ জাহাজগুলোর অবাধ যাত্রা। তখন মূলত এ জাহাজগুলো পরিচালিত হতো পাল বা সর এর মাধ্যমে। সর আরবি শব্দ। মোটা কাপড়ের তৈরি বিরাট এ পালে বাতাসের শক্তিতে এ জাহাজ অনেক সময় বিদ্যুৎ গতিতেও ছুটতো দূর দূরান্তের নৌবন্দর সমূহে। ৮ম শতাব্দীতে আরবীয় উপকূলের সাথে দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর নৌ-বাণিজ্য শুরু হলে চট্টগ্রামের রুমঘাটা, শূলক বহর নামে কর্ণফুলীর চরে ছিল তাদের পোতাশ্রয়। সরের এ জাহাজগুলোর আরেক নাম ছিল “শুলুপ”। এখনো চট্টগ্রামে “জাহাজ শুলুপ” নামে জাহাজের প্রতিশব্দ প্রচলিত আছে। এ জাহাজগুলোকে “সরেয়ানা জাহাজও” বলা হতো। ‘বহর’ মানে কয়েকটি জাহাজের সমষ্টি। বহর প্রধানকে বলা হতো ‘বহরদার’। অনেকগুলো জাহাজ বা শুলুপের বহর বা সমষ্টি এখানে যে স্থানে অবস্থান করত তা ক্রমে “সুলুপ-উল-বহর” নামে পরিচিত হত। বর্তমানে বিবর্তিত হয়ে ‘শুলক বহর’ নাম হয়েছে। চট্টগ্রামের ‘বহরদার হাট’ উক্ত বহর এর স্মৃতিবহ। পার্বত্য চট্টগ্রামের শাল গজারী, জারুল জাম, গর্জন ও অন্যান্য গাছের কর্ণফুলী নদীপথে প্রাপ্যতায় “ষোলশহর” শুলক বহর থেকে বালামী পাড়া হয়ে পতেঙ্গা উপকূল পর্যন্ত এলাকাতে গড়ে উঠেছিল এসব কাঠের জাহাজ তৈরির শিল্প এলাকা। এ এলাকায় “গুদীর পাড়া” নামক স্থানে মাটি অপসারণের মাধ্যমে “নির্মাণরত জাহাজের অসম্পূর্ণ” অংশ আবিষ্কৃত হয়। এ ছাড়াও উক্ত স্থান সমূহের বিভিন্ন স্থানে খনন কার্যে প্রাপ্ত হাতুড়ি, বাঠুল, ভাইস, দা, ব্রম ইত্যাদি এ ধারণার আরো জোরালো প্রমাণ দেয়। চট্টগ্রামে তৈরি এসব জাহাজে পাঁচটি পর্যন্ত পালখাটানো যেত। এগুলো ‘৫ ঢোলী জাহাজ’ নামে খ্যাত হতো।
প্রখ্যাত ঐতিহাসিক এবং জেং হি-র সমুদ্র যাত্রাকালীন দোভাষী ম হুয়ান জানান, ১৪ শতাব্দীর শুরুতে (১৪০০-১৪১০) মিং রাজতন্ত্রের রাজত্বের সময়ে বাংলায় বোট বিল্ডিং শিল্প গড়ে ওঠে।
চৌদ্দ শতাব্দীতে চীনা নৌ-সেনাপতি (অ্যাডমিরাল) জেং হি-র সমুদ্রযাত্রার সময়ে তাঁর জাহাজ বিকল হয়ে পড়ে। এ সময়ে তিনি চট্টগ্রাম ও কেরালা শিপইয়ার্ডে নিয়ে সেগুলো (জাহাজ) মেরামত করান।
ভারতের স্বাধীনতার অর্ধশত বছর পূর্বে বিশ্বের বৃহৎ শিপবিল্ডিং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে ভারত ছিল অন্যতম। ভারতের শিপবিল্ডিং স্থাপনা গড়ে ওঠে পশ্চিম উপকূলের কল্যাণ ভিভান্দি ও মুম্বাইয়ে, দক্ষিণ ভারতের নার্সাপুরপিতা এবং বাংলায় চট্টগ্রাম ও হুগলিতে। ষোড়শ শতাব্দীতে ক্যালিকাট বন্দরের চিত্রপটে (পেইন্টিং) শিপ বিল্ডিং ইয়ার্ডের ছবি ভেসে ওঠে। তখন বাংলা ছিল অপর একটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর, যেখানে বিশ্ববাজারের জন্য শিপবিল্ডিং শিল্পের বিকাশ ঘটে। আর এখানে শিপবিল্ডিং-এর প্রাণকেন্দ্র ছিল চট্টগ্রাম। এখানকার মূল ক্রেতা ছিল তুর্কি নৌ বাহিনী (প্রথম বিশ্বযুদ্ধ পর্যন্ত বিশ্বের বড় শক্তিধর সেনাবহর)।
মুঘল এবং ব্রিটিশ নৌ সেনারাও ক্রেতার তালিকায় ছিল। এদের কাছে মার্চেন্ট কার্গো শিপের চাহিদা ছিল বেশি।
এখানকার তৈরি জাহাজ বিদেশেও চালান হতো। তুরস্কের সম্রাট চট্টগ্রাম থেকে একসঙ্গে ১৩টি জাহাজ ক্রয় করেছিলেন বলে জানা যায়। জার্মান সরকার ১৮১৮ সালে চট্টগ্রাম থেকে কাঠের তৈরি জাহাজ নিয়ে তার নাম রেখেছিল “ডয়েচ ল্যান্ড ফ্রিগেট” পরবর্তীতে বয়সের ভারে জীর্ণ হওয়াতে ঐ জাহাজকে পশ্চিম জার্মানির “ব্রিমেন হাফেন শিপ বিল্ডিং মিউজিয়ামে” সংরক্ষণ করা হয় এবং ঐ জাহাজের স্মৃতি স্বরূপ জার্মানির আধুনিক একটি জাহাজের নাম রাখা হয়েছে “ডয়েচ ল্যান্ড”।
এখনও জার্মানির তৈরি তৈজষপত্রে ঐ জাহাজের ফটো মনোগ্রাম হিসেবে ব্যবহৃত হয়। ১৯০৫ সালে বিলাতের ‘ট্রাফালগার’ যুদ্ধে চট্টগ্রামে নির্মিত কাঠের জাহাজ ব্যবহৃত হয়েছিল বলেও এম মার্টিন রচিত হিস্ট্রি অব ইংলেন্ডে উল্লেখ আছে। ১৫৬৭ সালে চট্টগ্রাম ভ্রমণকারী ইউরোপীয় সিজার ফ্রেডারিক এর ভ্রমণ গ্রন্থে জানা যায় তুরস্ক ও আলেকজান্দ্রিয়ায়ও চট্টগ্রামের কাঠের জাহাজ চালান হত। হালিশহরের ইশান মিস্ত্রী, (ইশাইন্যা হাটের প্রতিষ্ঠাতা) আগ্রাবাদের ইমাম আলী মিস্ত্রী ও কালিপদ মিস্ত্রীর নাম এ সবজাহাজ নির্মাণ শিল্পের সাথে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে।
১৮/১৯ শতকের প্রথম দিকে নির্মিত এসব সরের জাহাজের নাম ও কয়েকজন মালিকের নাম জানা যায়। যথা রামসুন্দর সেন, উজির আলী সওদাগর, আব্দুর রহমান দোভাষ, মকবুল আহম্মদ সওদাগর, হায়দর আলী, আনুমিয়া সওদাগর আবদুল মালুম, শরিয়ত উল্লাহ সওদাগর, মুন্সী নুরুল বাহার, নিত্যানন্দ কু-ু, মহেন্দ্র ঘোষাল, এয়াকুব আলী দোভাষ, আবুল খায়ের, আব্দুল বারিক ও শশী কান্ত। এছাড়াও দেওয়ান আলী, মদন কেরানী, জগমহন মহাজন, রৈঙ্গা বসির, জব্বর আলী, কোরবান আলী, আবজান বিবি, আচমত আলী, দাতারাম চৌধুরী, রাম মোহন দারোগা, কিশোরী মোহন সেন, পিরু সওদাগর ও নসুমালুমদেরও কাঠের জাহাজ ছিল বলে জানা যায়।
বৃটিশ নাগরিক ডবিউ, ডবিউ. হান্টার তাঁর বইতে লিখেছেন, ১৮৭৫ খ্রিস্টাব্দ অবধি জাহাজনির্মাণ শিল্পে চট্টগ্রামের শ্রেষ্ঠত্ব বজায় ছিল। এই শতকের দ্বিতীয় দশকে প্রথম মহাযুদ্ধের কিঞ্চিৎ পূর্বে চট্টগ্রাম শহরে ফিরিঙ্গি বাজারের দোভাষ পরিবারের পরলোকগত আবদুর রহমান দোভাষ দুখানি সরের জাহাজ নির্মাণ করিয়েছিলেন। ১৯১৩ সালের এপ্রিল মাসে জাহাজ দুখানির নির্মাণকাজ আরম্ভ হয়েছিল। জাহাজ দুখানি দৈর্ঘ্যে ছিল ৮০ ফুট, প্রস্থে ৪০ ফুট।
পণ্য বহনের ক্ষমতা ছিল ছয় হাজার মণ। প্রতি জাহাজের নির্মাণ ব্যয় পড়েছিল ত্রিশ হাজার টাকা। জাহাজ দুখানির প্রধান মিস্ত্রী ছিলেন হালিশহর বালামী পাড়ার কালীপদ মিস্ত্রী। তাঁর পরিচালনায় প্রতি জাহাজে ৪০ জন মিস্ত্রী সাড়ে এগারো মাস অবিরাম কাজ করে জাহাজ দুখানির নির্মাণকাজ শেষ করেছিল। আবদুল রহমান দোভাষের দুই কন্যা আমেনা খাতুন ও জামেনা খাতুন নামে জাহাজ দুখানির নামকরণ করা হয়েছিল। ১৯১৪ সালের ১৫ মার্চ তারিখে এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আমেনা খাতুন নামক জাহাজখানি প্রথম কর্ণফুলীর পানিতে ভাসান হয়েছিল।

নির্মাণ শৈলী
উত্তরাধিকার সুত্রে শিক্ষাপ্রাপ্ত চট্টগ্রামের হিন্দু-মুসলমান কারিগরেরা কোন ব্লু-প্রিন্ট বা নীল-নকশা ব্যতিরেকে প্রথমে বাঁশের তৈরি তলই এ রং দিয়ে দাগ কেটে তার উপর জাহাজের দৈর্ঘ্য পরিমাণের সমান ও পরিমিত ওজনের চৌকোণা ভারী একটা লোহা কাঠের ওজন/ভর দিত। এর নাম এরাগ (আরবি শব্দ), চট্টগ্রামের ভাষায় দাঁড়া। এরপর দুই পার্শ্বে স্থাপন করা হত কাঠের তৈরি বাঁকা, সামনের বাঁকাগুলো ক্রমশ প্রস্থে কম হত। এরপর দুপাশে খাড়া অবস্থায় স্থাপন করা হত ‘চাবা’ ও শায়িত অবস্থায় ‘গোছা’। এরপর স্থাপন করা হত কাঠের অনেক বীম-বাত্তি, বাটাম ইত্যাদি স্থান ভেদে দেড় ফিট থেকে দুই ফিট লম্বা বিশেষ ধরনের গজাল/ পেরেক দিয়ে এ সমস্ত কাঠ ফিট করা হত। এভাবে জাহাজের খোল নির্মাণের পর বাইরের দিকে তক্তা লাগিয়ে এরপরে তৈরি করা হতো পাটাতন বা ডেক। জাহাজের অগ্রভাগ “আন্নী” নামে পরিচিত। আন্নীর নির্মাণ শৈলী হত সবচেয়ে শক্ত। কারণ ঝঞ্ঝা বিক্ষুব্ধ উত্তাল তরঙ্গমালা কেটে ও ধাক্কা সামলাতে হয় আন্নী বা জাহাজের অগ্রভাগ দিয়ে। পাটাতন বা ডেগের উপরে তৈরি হতো পাকঘর, থাকার কেবিন, খাবার ভা-ার ঘর, জাহাজের মালের ভা-ার ঘর, পেছনের হাল ধরার স্থান বা ছুকানী এলাকা। তিন মণ ওজনের লোহার তৈরি নোঙর জাহাজ থেকে সাগরে উঠানামা করা হয়। পাটাতনের নিচে আন্নির সাথে সন্নিহিত স্থানে মাটির তৈরি বিরাট ‘মটকায়’ করে রাখা হত খাবার পানি (মিঠা পানি)। জাহাজের কাঠের কাজ শেষ হলে জাহাজকে পানিতে নামিয়ে ছুয়ান বা হাল সংযুক্ত করা হত। এর আগে উপরে থাকাকালীন ছালি,আলকাতরা, তুষ, ধূপ-ধুনার খামীর প্রলেপ দিয়ে জাহাজের কাঠের জোরা ও ছিদ্র বন্ধ করা হত একে বলা হয় ‘কালপাত’ করা। এর পরে দেওয়া হত, মাটিয়া তেলের প্রলেপ। এরাগ থেকে পাটাতন ভেদ করে ৪০/৫০ হাত উপড়ে উঠে যেত পাল/সর খাটানোর বিরাট দ- বা গাছ। চট্টগ্রামী ভাষায় ঢোল, কোন কোন জাহাজে ৫টি পর্যন্ত ‘ডোল’ থাকত। ডোলে বাঁধা থাকত বিরাট আকারের এক একটি পাল বা সর। এগুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য থাকত ১২/১৮ হাত লম্বা কাঠের তৈরি ‘বোম’। ‘বোম’গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আর থাকত ‘ দেবান’ রশি। পাল নিয়ন্ত্রণ করার জন্য থাকত উপরের রশি, হেড রশি ও নিচের রশি। মালুমের নির্দেশে রশি নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে বাতাস নিয়ন্ত্রণ করে প্রয়োজনে বাতাসের বিপরীতেও জাহাজ চালানো সম্ভব হত। প্রতিটি ডোলকে চারটি করে রশি দিয়ে বাঁধা হতো যাতে বাতাসের তোড়ে ডোল ভেঙে না যায়। জাহাজের সন্নিবেশিত ডোলগুলোর বিভিন্ন নাম ছিল। যেমন বড়ডোল, আগিল ডোল, পাছিল ডোল, মাজিলা ডোল নির্মিত বিরাটকায় জাহাজ পানিতে নামানোর দৃশ্য ছিল মনোহর।
ওয়েস্টার্ণ মেরিন শিপইয়ার্ড লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী সাখাওয়াত হোসেন জানান, বহুবছর জাহাজ রপ্তানী বন্ধ থাকার পর ২০১০ সালে চট্টগ্রাম থেকে পুনরায় জাহাজ রপ্তানি শুরু হয়। ওয়েস্টার্ন মেরিনে নির্মিত ৫২০০ টন ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন ইস্পাতের তৈরি জাহাজ ওই বছরের ২৬ নভেম্বর জার্মানীতে রপ্তানি করা হয়। এরপর আরো কয়েকটি শিপইয়ার্ড থেকে বিভিন্ন দেশে জাহাজ রপ্তানী করা হয়। তিনি বলেন, বর্তমানে ওয়েস্টার্ন মেরিন ৬টি দেশের জন্য জাহাজ তৈরি করছে। দেশগুলো হচ্ছে, ভারত, দুবাই, ডেনমার্ক, গাম্বিয়া, উগান্ডা ও কেনিয়া।