নীড়পাতা » প্রথম পাতা » মহেশখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে গুলি দুর্বৃত্তদের

পিতা-পুত্রকে অপহরণ

মহেশখালীতে ইউপি চেয়ারম্যানের বাড়িতে গুলি দুর্বৃত্তদের

নিজস্ব সংবাদদাতা , কক্সবাজার

মহেশখালী কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক শরীফের বাড়িতে গুলি বর্ষণ করেছে সন্ত্রাসীরা। গত রোববার রাতে এ ঘটনা ঘটে। এর দু’দিন আগেও সন্ত্রাসীরা উপজেলায় দুই যুবককে পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করে পঙ্গু করে দিয়েছে। গতকাল সোমবারও পিতা-পুত্র দুজনকে অপহরণ করে চরম নির্যাতন চালিয়েছে দুর্বৃত্তরা। অপরাধ কর্মকা- বেড়ে যাওয়ায় মহেশখালীর সাধারণ মানুষের মাঝে আবারো আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
অভিযোগ উঠেছে, পুলিশের নিষ্ক্রিয় ভূমিকার কারণে সেলিম বাহিনী ও জিয়া বাহিনীর সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে এসব অপরাধ কর্মকা- ঘটাচ্ছে।
জানা গেছে, চেয়ারম্যান তারেক শরীফের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুড়েছে দুর্বৃত্তরা। তবে এলাকাবাসীর তাড়া খেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যাওয়ায় কোনো অঘটন ঘটেনি।
তারেক শরীফের মা জানান, আকস্মিক একদল লোক এসে বাড়ি লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়ে। তারা কমপক্ষে ১০ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। তবে এলাকাবাসী এগিয়ে আসায় কোনো হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
চেয়ারম্যান তারেক শরীফ জানান, নিরাপত্তার আশঙ্কা থাকায় তিনি প্রায় সময় বাড়িতে থাকেন না। বাড়িতে তার মাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরা থাকেন।
প্রতিবেশীদের বরাত দিয়ে তিনি আরো জানান, হামলাকারীরা তিন দলে বিভক্ত হয়ে তিন দিক থেকে তাদের বাড়ি লক্ষ্য করে গুলি ছুঁড়ে। সব হামলাকারীর হাতে ছিলো ভয়ঙ্কর আগ্নেয়াস্ত্র। গুলির শব্দ পেয়ে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে। শত শত এলাকাবাসী এগিয়ে আসায় তাড়া খেয়ে হামলাকারীরা পশ্চিম দিকে পালিয়ে যায়। তাকে হত্যা করার উদ্দেশ্যেই সন্ত্রাসীরা এই হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছেন চেয়ারম্যান তারেক শরীফ। তার পিতা ওসমান গণি চেয়ারম্যানকেও হত্যা করেছিল সন্ত্রাসীরা। তারেক শরীফকে একই কায়দায় হত্যা করার উদ্দেশ্যে হামলা করা হয়েছিল। কিন্তু ভাগ্যক্রমে তিনি বাড়িতে ছিলেন না এবং এলাকাবাসী প্রতিরোধ করতে এগিয়ে এসেছেন। তার বাবার হত্যাকারী জিয়া বাহিনী ও সেলিম বাহিনীর সন্ত্রাসীরা এই হামলা করেছে বলে তিনি জানান।
১২ জানুয়ারি সেলিম বাহিনী ও জিয়া বাহিনী সন্ত্রাসীরা ফকিরজুম পাড়ার জয়নাল ও পাহাড়তলীর নাসির নামে দুই যুবককে ওই সন্ত্রাসীরা পায়ে বন্দুক ঠেকিয়ে গুলি করেছে। এতে তারা পঙ্গু হয়ে গেছে। বর্তমানে তারা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ছে। একইভাবে গতকাল সোমবারও ফকিরজুম পাড়ার সেকান্দর ও তার পুত্র আকতারকে অপহরণ করে মারাত্মক নির্যাতন চালিয়েছে ওই সন্ত্রাসীরা। পরে তাদেরকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে এলাকাবাসী। তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানা গেছে।
এলাকাবাসী জানান, র‌্যাবের হাতে কালারমারছড়া বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী আত্মসমর্পণ করলেও জিয়া বাহিনী ও সেলিম বাহিনীর কোনো সন্ত্রাসী আত্মসমর্পণ করেনি। আত্মসমর্পণ না করা এসব সন্ত্রাসীরা বেপরোয়া হয়ে তাদের প্রতিপক্ষ ভেবে সাধারণ লোকজনের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে। এ ব্যাপারে কালারমারছড়া পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই শাহাজাহান বলেন, ‘সন্ত্রাসীদের পাল্টাপাল্টি অপরাধ প্রবণতার কারণে কালারমারছড়ায় অশান্তি ছড়াচ্ছে। তবে পুলিশ বসে নেই। পুলিশ পরিস্থিতি মোকাবেলায় সার্বক্ষণিক অভিযান জোরদার রেখেছে।’

Share