নিজস্ব প্রতিবেদক

সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. মহিউদ্দিন সোহেল হত্যা মামলায় নিহতের বন্ধু রিদোয়ান ফারুক রাজীবকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রবিবার রাতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ডবলমুরিং থানার ওসি এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম জানান, রিদোয়ান ফারুককে পাহাড়তলী বাজার এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। গতকাল সোমবার বিকেলে তাকে আদালতে হাজিরের পর কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, মহিউদ্দিন সোহেলকে হত্যার পুরো পরিকল্পনা রিদোয়ান ফারুক জানতেন। ‘কিলিং স্কোয়াডের’ কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথোপকথনের একটি অডিও রেকর্ড পুলিশের হাতে আসার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। হত্যা পরিকল্পনার কথা জেনেও হত্যাকা-ের পর নির্বিকার ছিলেন ফারুক। তবে মামলার এজাহারে তার নাম নেই।
৭ জানুয়ারি সকালে নগরীর ডবলমুরিং থানার পাহাড়তলী বাজারে মহিউদ্দিন সোহেলের মৃত্যু হয়। ঘটনার পর পুলিশ ও বাজারের ব্যবসায়ীরা দাবি করেছিল, চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে ব্যবসায়ী ও স্থানীয় জনতা মিলে মহিউদ্দিন সোহেলকে গণপিটুনি দেয়। গণপিটুনিতে তার মৃত্যু হয়।
ওসি এ কে এম মহিউদ্দিন সেলিম বলেন, ‘হত্যাকা-ের আগেরদিন মামলার আসামিদের কয়েকজনের সঙ্গে ফারুকের কথা হয়। সেই তথ্যপ্রমাণ আমাদের কাছে আছে। কিলিং স্কোয়াডের কয়েকজনের সঙ্গে কনভারসেশনের একটি অডিও আমরা পেয়েছি। সার্বিকভাবে হত্যাকা-ের সঙ্গে তার জড়িত থাকার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, ফারুক হত্যার পরিকল্পনার কথা জেনে মহিউদ্দিন সোহেলকে সাবধান করেছিলেন। ফারুকের কথা শুনে হত্যার আগের রাতে মহিউদ্দিন সোহেল তার অনুসারী কয়েকজন যুবককে পাঠিয়ে পরিকল্পনাকারীর ওপর হামলাও করান। কিন্তু পরদিন সকালেই মহিউদ্দিন সোহেলকে খুন করা হয়।
পাহাড়তলী বাজারের আশপাশে মাদকের আখড়া হিসেবে ব্যবহৃত কয়েকটি দোকান উচ্ছেদে ভূমিকা রাখেন মহিউদ্দিন সোহেল। উচ্ছেদ করা দোকানের মধ্যে রিদোয়ান ফারুকেরও দোকান ছিল। দোকান উচ্ছেদের পর বন্ধু হলেও মহিউদ্দিন সোহেলের প্রতিপক্ষ হয়ে যান ফারুক।
গত ৮ জানুয়ারি রাতে মহিউদ্দিন সোহেলের ছোট ভাই শাকিরুল ইসলাম শিশির বাদী হয়ে নগরীর ডবলমুরিং থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় সরাইপাড়া ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও পাহাড়তলী বাজার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির আহ্বায়ক সাবের আহমদ সওদাগর ও সদস্য ওসমান খানসহ ২৭ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। এছাড়াও আরও ১০০ থেকে ১৫০ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়। মামলার পর ওসমান খানসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ।
নিহত মহিউদ্দিন সোহেল চট্টগ্রাম সরকারি কমার্স কলেজ ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের উপ-কমিটির সাবেক সহ-সম্পাদক ছিলেন।

Share
  • 70
    Shares