আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়। শিক্ষাখাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন হয়েছে। ভবিষ্যতেও এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে আমাদের চেষ্টা থাকবে।
গতকাল শনিবার সকালে নগরের চশমা হিলের বাসভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল এসব কথা বলেন।-বাংলানিউজ
১৮ বছর আগেও দেশে শিক্ষা ব্যবস্থার এমন চিত্র ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিদেশে উচ্চশিক্ষা নিতে গেলে পুনরায় স্নাতক শ্রেণিতে পড়তে হতো। এখন দেশে শিক্ষার মান উন্নত হয়েছে এবং সনদও আন্তর্জাতিক মানের হওয়ায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সহজেই মেধাবী শিক্ষার্থীরা উচ্চশিক্ষা নিতে পারছে। এই মান ধরে রাখতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাবো।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বানিয়ে সেটিকে প্রতিষ্ঠিত করতে যে সময় ও অর্থ ব্যয় হবে-তার চাইতে বিভিন্ন এলাকার ঐতিহ্যবাহি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন করে শিক্ষক সংখ্যা বাড়ানোর দিকেই নজর দিচ্ছি। প্রয়োজনে অধিক শিক্ষার্থীর চাপ সামলাতে দুই শিফটে পাঠদানের ব্যবস্থাও করা যেতে পারে।
নামি-দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি অভিভাবকদের নির্ভরশীলতা কমাতে প্রান্তিক এলাকার শিক্ষাঙ্গনে লেখাপড়ার মান বৃদ্ধিতে যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
মেয়েদেরকে স্কুল-কলেজে না দিতে এবং দিলেও সর্বোচ্চ ক্লাস ফোর বা ফাইভ পর্যন্ত পড়ানোর জন্য ওয়াদা নেয়ার বিষয়ে আহমদ শফীর প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, নারীরা শিক্ষায় এখন অনেক এগিয়ে। কারও ব্যক্তিগত অভিমত এই অগ্রযাত্রায় প্রভাব ফেলতে পারবে না। বর্তমান সরকার নারীশিক্ষাকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
পাঠ্যপুস্তকে প্রগতিশীলদের লেখা বাদ দিয়ে সাম্প্রদায়িক মনোভাবাপন্ন লেখা সংযুক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে নওফেল বলেন, এ প্রক্রিয়ায় জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনা হয়েছে। ভবিষ্যতে এই ধরনের অপতৎপরতা রোধে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করা হবে।
মতবিনিময় সভায় উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এম এ সালাম, চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সভাপতি কলিম সরওয়ার ও সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমউদ্দিন শ্যামল, স্বাচিপ নেতা ডা. শেখ শফিউল আজম, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি গিয়াস উদ্দিন, শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক বেদারুল আলম চৌধুরী বেদারসহ নেতাকর্মীরা।

Share