নিজস্ব প্রতিবেদক

সারাদেশে ভূমি মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকা সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সম্পত্তির হিসাব দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ। আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেশের ইউনিয়ন থেকে শুরু করে মন্ত্রণালয় পর্যন্ত সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীর স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির হিসাব জমা দিতে হবে। এটা মৌখিক ঘোষণা, ঢাকায় গিয়ে মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এর পরিপত্র জারি করা হবে। গতকাল শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময় কালে তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়কে দুর্নীতিমুক্ত এবং জবাবদিহিতার আওতায় এনে জনগণের সেবা প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা হবে জানিয়ে জাবেদ বলেন, কিছু অসাধু কর্মকর্তার কারণে জনগণকে হয়রানি হতে হয়। তবে অফিসগুলোতে হয়রানিমুক্ত সেবাপ্রদান ও দুর্নীতিমুক্ত করতে অতীতের মতো সারপ্রাইজ ভিজিট অব্যাহত হবে। পাশাপাশি ভূমি অফিসগুলোর স্বচ্ছতা আনতে দেশের প্রত্যেক ভূমি অফিস সিসিটিভির আওতায় আনা হবে এবং ভয়েস রেকর্ডের ব্যবস্থা করা হবে, যা কেন্দ্রীয়ভাবে মন্ত্রণালয় থেকে মনিটরিং করা হবে বলেও জানান তিনি।
দুর্নীতির ক্ষেত্রে সবসময় জিরো টলারেন্স নীতিতে থাকবেন উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, যাদের এখনো সমস্যা আছে, যারা মনে করছেন পারবেন না, তাদের এখনি কেটে পড়া উচিত। প্রধানমন্ত্রী আমাকে দায়িত্ব দিয়েছেন। এই সম্মান ধরে রাখতে চাই। নিজেও দুর্নীতির উর্ধ্বে থাকতে চাই। দুর্নীতি যেদিন স্পর্শ করবে সেদিন হবে আমার শেষ দিন। যে কেউ প্রশ্ন করলে জবাব দিতে বাধ্য থাকব। আমি সবার সেবক হিসেবে সবমসয় থাকতে চাই। প্রয়োজনে সবার আগে আমার সম্পদ মিলিয়ে নেবেন। আমি চাই ভূমি মন্ত্রণালয়কে টপ ফাইভে নিয়ে যেতে। আগে এই মন্ত্রণালয়ের অধীনস্ত বিভিন্ন অফিস নিয়ে অনেক কথা শোনা যেত। এখানো সুযোগ আছে, যারা খারাপ কাজে ছিলেন ভালো হয়ে যান। সবাই মিলে আমরা আমাদের স্বপ্নের সুন্দর সোনার বাংলাদেশ সাজাবো।
কর্ণফুলী টানেল, বে-টার্মিনাল, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেললাইন, অর্থনৈতিক অঞ্চলসহ সব বড় বড় প্রকল্পের ভূমি ছাড়ে প্রায়োরিটি দেয়া হচ্ছে। কর্ণফুলীর দুই পাড়ের সব অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ করা হবে। কাউকে ছাড় দেয়া হবে না উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, কোন সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেয়া হবে না। এখানে অনেক রাজনৈতিক বিষয় থাকলেও স্টেক হোল্ডারদের সাথে আলাপ করে উদ্যোগ নেয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের উন্নয়নের দায়িত্ব নিয়েছেন উল্লেখ করে ভূমিমন্ত্রী জাবেদ বলেন, উপমহাদেশের প্রথম টানেল হচ্ছে চট্টগ্রামে। বড় প্রকল্পতো আছেই। এই বৃহত্তর চট্টগ্রামে চারজন মন্ত্রী আছেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নে সবাই মিলে-মিশে কাজ করবো। আমাদের মধ্যে কোন ভুল বোঝাবুঝি থাকবে না। চট্টগ্রামের সংসদ সদস্য হিসেবে এ অঞ্চলের মানুষের জন্য বিশেষ কিছু করতে চাই।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের নোটিশ ইস্যুর পর মামলা হয়। ভূমি অফিসের নিচু শ্রেণির কর্মীরা এর সঙ্গে জড়িত থাকে। তাই নোটিশ ইস্যুর পর মামলা টিকবে না এমন একটি সিস্টেম বের করছি। অন্যায়ের আশ্রয় নিলে আমি কাউকে ছাড় দেব না। কারো ব্যর্থতার দায়ভার আমি নিতে চাই না।
অনুষ্ঠানে চট্টগ্রামে কর্মরত সাংবাদিকদের আবাসন সংকট নিরসনে নতুন করে জায়গা বরাদ্দ দেয়ার কথাও জানান ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ।
চট্টগ্রাম প্রেসক্লাব সভাপতি কলিম সরওয়ারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শুকলাল দাশ, সাবেক সভাপতি আলী আব্বাস, চট্টগ্রাম সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি নাজিমুদ্দীন শ্যামল ও সাধারণ সম্পাদক হাসান ফেরদৌস।

Share
  • 2
    Shares