নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » স্বাস্থ্য-সুরক্ষার জন্য প্রতিরোধমূলক সচেতনতাই উত্তম ব্যবস্থা

স্বাস্থ্য-সুরক্ষার জন্য প্রতিরোধমূলক সচেতনতাই উত্তম ব্যবস্থা

স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল’-এই প্রবচনটি আমাদের সকলেরই জানা। তবে, বাস্তব ক্ষেত্রে এই বচনের সারসত্যকে সচেতনতার সাথে অনুসরণ করার বিষয়ে এদেশের মানুষের শ্রেণীস্তরে আন্তরিক অভ্যাসের অভাব রয়েছে। তাতে স্বাস্থ্য নিরাপদ রাখার বিষয়ে কিছু করণীয় প্রবণতাকে প্রায়শই উপেক্ষা করা হয়। এই উপেক্ষার ফল ভোগ করতে হয় অসুস্থতায় আক্রান্ত হয়ে। এতে চূড়ান্ত ভোগান্তি নেমে আসে। আমাদের পরিবারগুলোকে অর্থনৈতিকভাবে বিপর্যয় হতে হয়।
একটি স্বাস্থ্যবার্তা কিছুদিন ধরে মানুষের কাছে পৌঁছানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এ বিশে^র দেশে দেশে। “নিরাপদ জীবনের জন্য চাই পরিচ্ছন্ন হাত।” এই বার্তা পৌঁছে দেবার উদ্দেশ্যে অক্টোবর মাসে জাতিসংঘের উদ্যোগে বিশ^ব্যাপী পালিত হয় ২২ তারিখে বিশ^ হাত ধোয়া দিবস। বিশেষ করে কোমলমতি কচিকাঁচা ছাত্র-ছাত্রীর এই সচেতনতার আওতায় এনে দরিদ্র বিশে^র দেশগুলোতে শিশুমৃত্যুর হার উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে আনা যাবে বলে বিশেষজ্ঞ মহল ধারণা করছেন।
অপরিষ্কার হাতে খাদ্য গ্রহণের প্রবণতায় দরিদ্র বিশে^র দেশগুলোতে শিশুমৃত্যুর হার অত্যন্ত ব্যাপক। বয়স্ক জনদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতার অভাব থাকায় দারিদ্র্যপীড়িত দেশে মৃত্যু হার উচ্চ। খাদ্য গ্রহণের আগে সাবান কিংবা ছাই দিয়ে হাত ধুয়ে যদি খাওয়া দাওয়াতে শিশু-কিশোরদের এবং সেই সাথে বয়স্কজনদেরও অভ্যস্ত করে তোলা যায় তবে রোগাক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণের আশঙ্কা কমে যায়। অপরিচ্ছন্ন হাত ব্যবহারের ফলে বিশে^ প্রতিবছর ডায়রিয়া, আমাশায়, কৃমিসহ রোগের সংক্রমণ প্রায় ৯০ কোটি লোক মারা যায়। আর, এ বেশীর ভাগই মারা যায় দরিদ্র দেশে। এসব ঘটে একমাত্র সচেতনতার অভাবে। তাই, সচেতনতাকে প্রতিটি পরিবারের মধ্যে গভীরভাবে পৌঁছে দিতে হলে শিশুকাল থেকেই আমাদের শিশুদের এই বিষয়ে সচেতন করে তোলার আবশ্যকতা রয়েছে।
শিশুকাল থেকেই যদি পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা বিষয়কে সচেতনতা প্রোথিত করে দেওয়া যায় তাহলে ভবিষ্যতে আমরা প্রতিটি শিশুর কাছ থেকেই একটি করে স্বাস্থ্য সচেতন পরিবার উপহার পাবো।
ইউনিসেফের প্রদত্ত তথ্য মতে, হাত ধোয়ার নিয়ম মেনে যদি আমরা জীবনযাত্রা পরিচালনা করি তা হলে আমাদের শরীর, পেটের বিভিন্ন ধরনের রোগব্যাধিসহ ৩০ শতাংশ রোগের সংক্রমণ থেকে আমরা রেহাই পাবো। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য সচেতনতার বার্তাাটুকু হলো, নিজেরা খাওয়ার আগে এবং শিশুদের খাওয়াবার পূর্বে কিংবা খাবার পরিবেশনের আগে হাত ভাল করে সাবান দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। শৌচকর্মের পর, শিশুকে শৌচকর্ম সম্পাদনের পর কিংবা বাইরে ক্ষেতে খামারে ও অন্যত্র কাজ কর্ম সম্পন্ন করে আসার পর সাবান অথবা ছাই দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলতে হবে। উন্মুক্ত স্থানে মলমূত্র পরিহার করে প্রতি পরিবারেই নিরাপদ শৌচাগার ব্যবহার করতে হবে। এই ধরনের সচেতনতা অনুসরণ করা কঠিন নয়। এভাবে স্বাস্থ্য সচেতন হতে পারলে আমরা অনাকাক্সিক্ষত রোগের হাত থেকে রক্ষা পেতে পারি। এ ব্যপারে একটি সামাজিক সচেতনতার আন্দোলন গড়ে তোলা দরকার। বাংলাদেশে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে জনগণের স্বাস্থ্য সচেতনতার প্রতি গভীর মনোযোগ দেয়া হয়েছে। খাদ্য গ্রহণের পূর্বে যথাযথভাবে হাত ধোয়ার বিষয়ে শিশুদের পাশাপাশি বয়স্কজনদেরও সচেতনভাবে অভ্যস্ত করা গেলে সকলের স্বাস্থ্য নিরাপত্তা বৃদ্ধি পাবে। রোগ সংক্রমণের ভোগান্তি ঠেকাতে নিরাপদ ব্যবস্থা অনুসরণই উত্তম। প্রতিরোধমূলক আচার আচরণই জনগণকে দিতে পারে নিশ্চিত সুখ ও নিরাপত্তা।

Share