নিজস্ব প্রতিবেদক

কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে নির্মাণাধীন দ্বিতীয় আউটার রিং রোড বাস্তবায়নের আগেই প্রকল্প এলাকাটি বিনোদন স্পট হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাকলিয়াসহ আশপাশ এলাকার মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ আর রিং রোড, কর্ণফুলী ড্রেজিং-বিশাল কর্মযজ্ঞ দেখতে ছুটে যাচ্ছেন নদীর তীরে। মেগা প্রকল্পটিকে ঘিরে বাকলিয়া এখন ব্যস্ত এলাকায় পরিণত হয়েছে। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) কর্ণফুলী নদীর তীর ঘেঁষে আউটার রিং রোড দ্বিতীয় পর্যায় (সেকেন্ড ফেজ) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। নগরীর শাহ আমানত সেতু থেকে কালুরঘাট ব্রিজ পর্যন্ত সড়ক নির্মাণ করা হবে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সঙ্গে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন সূচিত হবে। নগরীর যানজট নিরসনেও বড় ভূমিকা রাখবে। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ১৮ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারুণ-উর-রশিদ পূর্বকোণকে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হওয়ার আগেই লোকজন ভিড় জমাচ্ছে। বাকলিয়া ও আশপাশের এলাকার মানুষ নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ আর নির্মল বাতাস সেবনে ছুটে যাচ্ছে নদীর তীরে। সকাল ও বিকেলে প্রচুর লোক সমাগম হয় সেখানে। দেখা যায়, কর্ণফুলী নদীর বাকলিয়ায় আউটার রিং রোড ও কর্ণফুলী ড্রেজিং কাজ শুরু হয়েছে। বেড়িবাঁধ কাম রিং রোডের কাজ চলছে। শুক্রবার বন্ধের দিন প্রচুর দর্শনার্থী ভিড় করে। পরিবার-পরিজন নিয়ে এসেছেন অনেকেই। বাকলিয়া এলাকার শহীদুল ইসলাম জানান, বৃহত্তর বাকলিয়া এলাকার লোকজনের বিনোদনের উপযুক্ত কোনো স্থান নেই। বন্ধের দিন মানুষ কল্পলোক আবাসিক এলাকার আশপাশে ঘুরে বেড়ানো ছাড়া অন্য উপায় ছিল না। এখন রিং রোড ও নদী ড্রেজিংয়ের কর্মযজ্ঞ শুরু হয়েছে। বদলে যাচ্ছে বাকলিয়ার চিত্র। বৃহত্তর বাকলিয়াসহ আশপাশের মানুষ কর্মযজ্ঞ দেখা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে ছুটে যাচ্ছে নদীর তীরে। সিডিএ সূত্র জানায়, মেগা প্রকল্পটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে মাস্টারপ্ল্যানের শতভাগ বাস্তবায়ন হবে। বৃহত্তর বাকলিয়া ছাড়াও চাক্তাই, খাতুনগঞ্জ এলাকা জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পাবে। এছাড়াও দেওয়ানবাজার, চকবাজার, বৃহত্তর তিন বাকলিয়া, চান্দগাঁও এবং মোহরার কিছু অংশ জলাবদ্ধতা থেকে রেহাই পাবে। এছাড়াও দক্ষিণ চট্টগ্রামের সঙ্গে নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থায় পরিবর্তন ঘটবে। নগরীর যানজট সমস্যার সমাধান হবে। কর্ণফুলীর তীর ঘেঁষে চাক্তাই খালের মোহনা থেকে শুরু হয়ে কালুরঘাট ব্রিজ পর্যন্ত বিস্তৃত ফোর লেন বিশিষ্ট এই রিং রোডের দৈর্ঘ্য হবে সাড়ে আট কিলোমিটার। নিচে রাস্তার দৈর্ঘ্য হবে আড়াই শ ফুট, উচ্চতা ২৪ ফুট এবং চওড়া হবে ৮০ ফুট। এতে ১২টি খালের প্রতিটির মুখে পাম্পসহ জোয়ার নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থ্ া(টাইডাল রেগুলেটর পাম্প) থাকবে। এছাড়াও স্লোভ প্রোটেকশন, বনায়ন, সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে। এটি সিডিএর ১৯৯৫ সালের মাস্টার প্ল্যানের দিক নির্দেশনা অনুযায়ী বাস্তবায়িত হচ্ছে। এদিকে, ফিরিঙ্গীবাজার, ফিশারিঘাট চাক্তাই এলাকায় বন্দরের উদ্যোগে ড্রেজিং এবং নদীর তীরে সৌন্দর্যবর্ধন করা হয়েছে। এটি এখন নেভাল-২ নামে পরিচিতি পেয়েছে।
আউটার রিং রোড প্রকল্পও একই আদলে নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।কর্ণফুলী নদীর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ঘিরে নির্মিত রিং রোড প্রকল্প যানবাহন চলাচল ছাড়াও বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠবে। কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে সরকারি খাস জমিতে একটি বিনোদন পার্ক স্থাপনের দাবি করেছেন এলাকাবাসী। ওয়ার্ড কাউন্সিলর হারুন-উর-রশিদ বলেন, কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে আলাদা বিনোদন কেন্দ্র বা পার্ক নির্মাণের দাবি করেছিলাম আমরা। মেয়র, মন্ত্রী-এমপির কাছে লিখিতভাবে আবেদন করেছিলাম। এখন বাকলিয়া-কোতোয়ালী আসনের সাংসদ ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেলের কাছেও একই দাবি থাকবে। তিনি আরও বলেন, রিং রোড প্রকল্প বাস্তবায়নের পর চট্টগ্রামের চেহারা পাল্টে যাবে। সিঙ্গাপুরের আদলে কর্ণফুলী নদীকে ঘিরে আরও বিশাল প্রকল্প নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

Share
  • 2
    Shares