পূর্বকোণ স্পোর্টস ডেস্ক

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ে মাশরাফি বিন মর্তুজার রংপুর রাইডার্সকে হারিয়েছে সাকিব আল হাসানের দল ঢাকা ডায়নামাইটস। বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগে গতকাল দিনের প্রথম ম্যাচে রংপুরকে ২ রানে হারিয়েছে ঢাকা। তিন ম্যাচ খেলে তিনটিতেই জয় পেয়ে পয়েন্ট টেবিলে সেরা অবস্থানে রয়েছে সাকিবের দল। অন্যদিকে, চার ম্যাচ খেলে রংপুর দুইটিতে জয় পেয়েছে ও দুইটিতে হেরেছে। একই ভেনুতে পরের ম্যাচে রাজশাহী কিংসকে ৫ উইকেটে হারিয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্স। প্রথমে ব্যাট করে রাজশাহী ১২৪ রান

সংগ্রহ করে। জবাব দিতে নেমে কুমিল্লা-৮ বল বাকি থাকতেই ৫ উইকেট হারিয়ে জয় কুড়িয়ে নেয়।
দর্শক খরা নিয়ে গত ক’দিন ধরেই তুমুল আলোচনা। গতকাল সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে সেই খরা ঘুচলো। আর হাইভোল্টেজ ম্যাচে ঢাকা ডায়নামাইটস ও রংপুর রাইডার্সও মাঠের খেলায় দর্শকদের পয়সা উসুল করে দিয়েছেন। ঢাকা ডায়নামাইটসের দেয়া ১৮৪ রানের জয়ের টার্গেটে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেটে ১৮১ রান করতে সক্ষম হয় রংপুর। দলের পক্ষে রাইলি রুশো ৪৪ বলে ৮৩ রানের দুর্দান্ত একটি ইনিংস খেলেন। এই রান করার পথে তিনি ৮টি চার মারেন ও চারটি ছক্কা হাঁকান। এছাড়া ৩৫ বলে ৪৯ রান করেন মোহাম্মদ মিথুন। অন্যদের মধ্যে কেউ উল্লেখযোগ্য রান করতে পারেননি। ঢাকা ডায়নামাইটসের ২২ বছর বয়সী বাংলাদেশি স্পিনার এলিস আল ইসলাম টি-টোয়েন্টিতে অভিষেক ম্যাচ খেলতে নেমে হ্যাটট্রিক করেন। বিপিএলের ইতিহাসে এটি তৃতীয় হ্যাটট্রিক। চার ওভারে ২৬ রান দিয়ে ৪ উইকেট শিকার করেন এলিস। এছাড়া আন্দ্রে রাসেল ১টি, সাকিব আল হাসান ১টি, শুভাগত হোম ১টি ও সুনিল নারিন ২টি করে উইকেট শিকার করেন। রংপুর রাইডার্স ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই ওপেনার ক্রিস গেইলকে হারায়। শুভাগত হোমের করা ইনিংসের তৃতীয় ওভারের তৃতীয় বলটি উড়িয়ে মেরেছিলেন গেইল। বলটি ছক্কা হতে পারতো। কিন্তু স্ট্রেইট বাউন্ডারিতে শূন্যে ভেসে বলটি সীমানার মধ্যে থ্রো করেন আন্দ্রে রাসেল। সাথে সাথেই ক্যাচটি নিয়ে নেন কাইরন পোলার্ড। হতাশ হয়ে ফিরতে হয় গেইলকে। ৯ বলে ৮ রান করেন তিনি। আউট হওয়ার আগের বলে গেইলকে এলবিডব্লিউয়ের সিদ্ধান্ত দিয়েছিলেন আম্পায়ার। কিন্তু রিভিউ নিয়ে গেইল বেঁচে গিয়েছিলেন। গেইল ফেরার পরের ওভারে অপর ওপেনার মেহেদী মারুফও ফিরে যান। এরপর ১২১ রানের পার্টনারশিপ গড়েন রাইলি রুশো ও মোহাম্মদ মিথুন। ইনিংসের ১৬তম ওভারে এলিস ইসলামের বলে স্ট্যাম্পিং হয়ে ফিরে যান রুশো। এরপরই রংপুরের ব্যাটিং লাইন আপে ভাঙন শুরু হয়। একের পর এক উইকেট হারাতে থাকে তারা। ১৭তম ওভারে নারিনের হাতে ক্যাচ বানিয়ে রবি বোপারাকে ফেরান সাকিব। ১৮তম ওভারে হ্যাটট্রিক করেন অ্যালিস ইসলাম। ওভারের চতুর্থ বলে মোহাম্মদ মিথুনকে, পঞ্চম বলে মাশরাফি বিন মর্তুজাকে ও ষষ্ঠ বলে ফরহাদ রেজাকে ফেরান তিনি। ১৯তম ওভারে সোহাগ গাজী ও বেনি হাওয়েলকে আউট করেন নারিন। ইনিংসের শেষ ওভারে জয়ের জন্য রংপুরের প্রয়োজন ছিল ১৪ রান। তাদের হাতে ছিল এক উইকেট। ক্রিজে ছিলেন শফিউল ইসলাম ও নাজমুল ইসলাম অপু। বোলিংয়ে ছিলেন এলিস ইসলাম। ওভারের প্রথম দুই বলে চার মারেন শফিউল। তৃতীয় বলে সিঙ্গেল নেন তিনি। চতুর্থ বলে কোনো রান নিতে পারেননি অপু। পঞ্চম বল থেকে এক রান নেন তিনি। শেষ বলে এক রান নেন শফিউল।
কুমিল্লা-রাজশাহির লো-স্কোরিং ম্যাচে কুমিল্লা জিতেছে প্রতিটি বিভাগে সম্মিলিত প্রয়াসে। প্রথমে শহিদ আফ্রিদি (৩)’র সাথে আবু হায়দার রনি, মো. সাইফুদ্দিন ও লিয়াম ডসন মিলে প্রত্যেকে ২টি করে উ্ইকেট নিয়ে রাজশাহীকে ১২৪ রানে বেঁধে রাখে। রাজশাহী যে ১২৪ করতে পারলো সেটা মেহেদী মিরাজের ৩০, উডানার ৩২ ও জাকির হাসানের ২৭ রানের সুবাদে। কুমিল্লা ব্যাটিংয়ে নেমে এনামুল হক বিজয়ের ৪০ রানের সুবাদে সহজ জয়ের দিকে ছুটতে থাকে। মাঝে ৫টি উইকেট হারালেও ল্ইুসের ২৮, তামিম ইকবালের ২১ রানের সুবাদে সহজ জয় নিয়ে বাড়ি ফেরে। ইনজুরির কারণে নিয়মিত অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ দেশে ফিরে যাওয়ায় গতকাল কুমিল্লার আর্মব্যান্ড ছিল ইমরুল কায়েসের হাতে। আরেকটি মজার তথ্য হলো তামিম ইকবাল গতকাল ওপেন না করে ওয়ান ডাউনে নামেন।

Share