নিজস্ব সংবাদদাতা, মহেশখালী

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই বেজে ওঠছে মহেশখালী উপজেলা নির্বাচনের ডামাডোল। আগামী মার্চ মাসে দেশের সর্বত্র উপজেলা নির্বাচনের পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। চলতি মাসের শেষের দিকে তফসিল ঘোষণা ইঙ্গিত দিয়েছেন ইসি সচিব। তার এই ঘোষণার পর দ্বীপ উপজেলা মহেশখালীর রাজনীতির মাঠে উপজেলা নির্বাচনের হাওয়া বইতে শুরু করেছে।
বিশেষ করে অনুষ্ঠিতব্য আসন্ন মহেশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী। বর্তমানে নির্বাচনী কার্যক্রম শুরু করেছে। দ্বিতীয়বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন কক্সবাজার-২ আসন থেকে মহেশখালীর সন্তান আলহাজ আশেক উল্লাহ রফিক। সেই কারণে ভোটের মাধ্যমে উপজেলা চেয়ারম্যানের পদে আসতে আওয়ামী লীগের প্রথম সারির নেতা ও অঙ্গ সংগঠনের একাধিক নেতা প্রস্তুতি নিয়েছেন। ইতিমধ্যে অনেকে দলের কেন্দ্রীয় হাইকমান্ডের সঙ্গে মনোনয়ন লুপে নিতে তদবিরও শুরু করেছেন বলে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।
সোস্যল মিডিয়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনুসারী ও ভক্তরা দোয়া চেয়ে স্ট্যাটাসও দিচ্ছেন। ফলে উপজেলা পরিষদ নির্বাচন নিয়ে হৈ চৈ শুরু হয়েছে মহেশখালীতে। নির্বাচনে নিজের পক্ষ সমর্থন ও দোয়া চেয়ে মাঠে তাঁরা ভোটারদের মনজয়ের চেষ্টা করছেন। প্রতিদিনই নেতাকর্মীদের নিয়ে মতবিনিময় ও কুশলবিনিময় করে যাচ্ছেন সম্ভাব্য প্রার্থীরা। এর মধ্যে অনেকে নিশ্চুপ রয়েছেন দলের হাইকমান্ডের নির্দেশ পেতে। তার পরও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে তাঁদের কর্মী সমর্থকরা। আশেক উল্লাহ রফিক দ্বিতীয় বারের মত এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর এবারের উপজেলা পরিষদের নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে আওয়ামীলীগ,যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নতুন মুখের ছড়াছড়ি পরিলক্ষিত হচ্ছে। অনন্ত ১২ জন প্রার্থীর নাম আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মাঝে উচ্চারিত হচ্ছে। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে যাদের নাম শুনা যাচ্ছে তাঁরা হলেন, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও বড় মহেশখালী ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শরীফ বাদশাহ, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের শ্রম বিষয়ক সম্পাদক মোস্তাফা আনোয়ার চৌধুরী, উপজেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও মাতারবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মাস্টার মো. উল্লাহ, কালারমারছড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও কালারমারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তারেক শরীফ, আওয়ামী লীগ নেতা ও ধলঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল হাসান, মহেশখালী উপজেলা দুর্নীতি দমন কমিশনের সাবেক সভাপতি গোলাম কুদ্দস চৌধুরী, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের উপ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক প্রভাষক এহেছানুল করিম, কক্সবাজার জেলা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি আসাদুল্লাহ সায়েম, নুরুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মার্শাল পাভেল, মহেশখালী উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক আলহাজ সাজেদুল করিম, মহেশখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা সেলিম চৌধুরী, ঢাকা উত্তরের জাতীয় শ্রমিক লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হারুনুর- অর রশিদ।
জানা গেছে, মহেশখালী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক সকলেই এবার রাজনীতির মাঠের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাঁরা দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহেশখালী-কুতুবদিয়া আসনে নৌকার বিজয় ঘরে তুলতে আওয়ামী লীগের ক্লিন ইমেজের প্রার্থী আলহাজ আশেক উল্লাহ রফিকের পক্ষে দিনরাত কাজ করেছেন। ফলে বিজয়ের মুখ দেখেছে আওয়ামী লীগ। তবে দলের নেতাকর্মীরা একতাবদ্ধ হয়ে থাকলে বিজয় নিশ্চিত তা প্রমাণ করলেও অনেকে উপজেলা নির্বাচনে নৌকার মাঝি হওয়ার জন্য সদ্য সমাপ্ত সংসদ নির্বাচনে লোক দেখানো প্রচারণা চালিয়েছে বলে এমন কথা শোনা যাচ্ছে। এখন প্রশ্ন উঠেছে, আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নতুন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের বর্তমানে প্রেক্ষাপটে পুনরায় এমপি আলহাজ আশেক উল্লাহ রফিকের সঙ্গে উপজেলা নির্বাচনের সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী এসব নেতাদের অনেকের সঙ্গে সু-সম্পর্ক রয়েছে। তবে এখন দেখার বিষয় নির্বাচনের চেয়ারম্যান পদে দলের মনোনয়ন প্রাপ্তি তিনি কার পক্ষে সায় দিচ্ছেন। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের ধারণা, আশেক উল্লাহ রফিক এমপি এখন যাকে সমর্থন দেবেন তিনিই দলের মনোনয়ন পাবেন এমন কথাও শোনা যাচ্ছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের মাঝে। নির্বাচনে তিনিই বিজয়ী হবেন এটি শতভাগ।
কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সাবেক পাঠাগার বিষয়ক উপ-সম্পাদক মহেশখালীর বাসিন্দা সোহেল উদ্দিনসহ আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা অনেকে বলছেন, বর্তমান সরকারের হাজার-হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হচ্ছে মহেশখালীতে। আর অনেক মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। নৌকার মনোনয়ন দিলে বিজয় লাভ করে সরকারের চলমান উন্নয়ন কাজে সহযোগিতা করতে পারবেন।

Share