চালের বাজারে কোনো অস্থিরতা নেই দাবি করে চালকল মালিকরা বলছেন, মাঝে সাময়িক দাম বৃদ্ধি ছিল ভোটের সময় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার কারণে। নির্বাচনের পরপরই চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন সরকারের খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি বৃহস্পতিবার খাদ্য ভবনে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন। চালকল মালিক সমিতি ও চাল ব্যবসায়ী সমিতিকে নিয়ে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সারাদেশ থেকে আসা চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীরা চালের বাজার পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন। বাংলাদেশ অটোমেইল এন্ড হাস্কিং ওনার্স এসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক লায়েক আলী বলেন, ধানের দামও বাড়েনি, চালের দামও বাড়েনি।ভোটের সময় একটু গ্যাপ ছিল। সবাই ভোটের মাঠে ছিল। সেই সময় হয়ত ধানের আমদানি কমেছে, চাল উৎপাদন কমেছে। এটা এক দিনের বা দুই দিনের হতে পারে। নওগাঁ ধান-চাল আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি নিধর বরণ সাহা চন্দন বলেন, দাম বাড়ার যে কথা বলা হয়েছে এমন পরিস্থিতির ক্ষেত্র দেশে তৈরি হয়নি। নির্বাচনের কারণে কোনো কোনো জায়গায় কিছুটা ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়েছিল।”এতে কোনো কোনো অঞ্চলে কিছুটা দাম বাড়ার ঘটনা ঘটে থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। ‘কিন্তু যে সমস্ত উৎপাদিত মোকাম আছে যেমন দিনাজপুর, নওগাঁ, বগুড়া, শেরপুর, আশুগঞ্জ, কুষ্টিয়া; এসব মোকামে চালের দামের একটুও পরিবর্তন হয়নি।’ লায়েক আলী বলেন, ‘চালের দাম কোথায় বেড়েছে, এটা আমাদের জানা দরকার।যারা বলছে চালের দাম বেড়েছে, তাদের আমি অনুরোধ করতে চাই, আসুন নওগাঁ, আসুন কুষ্টিয়া, আসুন দিনাজপুর-শেরপুরে। কার কত চাল লাগবে?” চালের দাম বাড়া নিয়ে ‘ প্রোপাগান্ডা’ ছড়ানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। মদিনা রাইস মিলের মালিক লায়েক আলী জয়পুরহাট জেলার চালকল মালিক সমিতিরও সভাপতি। সভায় সূচনা বক্তব্যে খাদ্যমন্ত্রী সাধন মজুমদার বলেন, এ বছর আমন ও বোরো ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। দেশে কোনো খাদ্য ঘাটতি নাই। তারপর খুচরা বাজারে দাম কেজি প্রতি দুই থেকে তিন টাকা কেন বাড়ল? খাদ্যমন্ত্রী জানতে চাওয়ার পর জয়পুরহাট, নওগাঁ, কুষ্টিয়া, লালমনিরহাট, সিলেট, চট্টগ্রাম ও ঢাকার চালকল মালিক ও ব্যবসায়ীরা তাদের মতামত জানান। লায়েক আলী বলেন, সরকার ৬ লাখ মেট্রিক টন আমন চাল কিনবে। সরকারি দর ৩৬ টাকা প্রতি কেজি। কিন্তু বাংলাদেশের কোনো জায়গায় ৩৪ থেকে ৩৫ টাকা কেজির বেশি মোটা চালের দাম নেই। সরকার প্রতিদিনই কিনছে।তবে চিকন চালের দাম উঠা-নামা করে বলে স্বীকার করেন এই চালকল মালিক। তিনি বলেন, গত দুই দিনে মোটা ও মাঝারি ধানের দাম মণে ৫০ টাকা কমে গেছে। ‘আমরা চাল রাখতে পারছি না। কৃষকের ধান কিনতে পারছি না। কৃষক সর্বোচ্চ ৭৮০ থেকে ৭৯০ টাকা মণে ধান বিক্রি করছে। সেই ধানের দামও সাড়ে ৭শ টাকায় নেমে এসেছে।
‘আমাদের ভেবে দেখতে হবে কৃষককে আমরা উৎসাহিত করব কি না? দাম বাড়ার এই প্রোপাগান্ডা কারা করছে, কারা মিলারদের বিতর্কিত করছে, তা ভাবার সময় এসেছে।” ‘আপদকালীন মজুদ’ রাখতে সরকারকে চাল ব্যবসায়ীদের সহযোগিতা করার পরামর্শ দেন তিনি। নওগাঁ ধান-চাল আড়তদার মালিক সমিতির সভাপতি নিধর সাহা বলেন, মোকামে বৃহস্পতিবারের চিকন চালের মূল্য ছিল কেজি প্রতি ৪৭ টাকা ৮০ পয়সা আর মোটা চালের দাম ২৮ থেকে ৩০টাকা। চিকন চালের দাম বৃদ্ধি নিয়ে প্রশ্নে তিনি বলেন, “এখন চিকন চালের মৌসুম নয়। এপ্রিল মাসে চিকন ধানের মৌসুম এবং তখন চালও পর্যাপ্ত পাওয়া যাবে। তাই চিকন চালের দাম কিছুটা বাড়া স্বাভাবিক।‘মোকাম থেকে বা নদীর ওপার থেকে চাল রাজধানীতে আনতে মোকামের মূল্যের সঙ্গে ৫ থেকে ৬ টাকা পার্থক্য হওয়া স্বাভাবিক।’ গত ১ ডিসেম্বর থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল সংগ্রহ শুরু করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছয় লাখ টনেরও বেশি আমন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার।

Share