নিজস্ব সংবাদদাতা , রাঙ্গুনিয়া

কাপ্তাইয়ের বিএফআইডিসি শিল্প এলাকাসহ আশপাশের গ্রামগুলোতে একদল বন্যহাতি দীর্ঘদিন ধরে তা-ব চালাচ্ছে। ফলে এই এলাকায় বসবাসকারী মানুষদের মাঝে রাতের বেলায় ঘুম হারাম হয়ে গেছে। দিনের বেলায়ও আতঙ্কে থাকেন তারা। গতকাল বৃহস্পতিবার ভোররাত তিনটায় ১৫-১৬টির একটি বন্যহাতির দল বিএফআইডিসি শিল্প এলাকায় ঢুকে গর্জন শুরু করলে গ্রামের নারী-শিশুসহ বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য ছুটোছুটি শুরু করেন। কয়েকমাস ধরে কাপ্তাইয়ের পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান নিয়ে বন্য হাতির দলটি জীপতলী এলাকা, চেয়ারম্যানপাড়া, নাবিক কলোনি, নৌবাহিনী এলাকা, কাপ্তাই জোন ও বিএফআইডিসি শিল্প এলাকার বাসিন্দাদের অতিষ্ঠ করে তুলেছে। এসব এলাকায় বসবাসকারীরা প্রতিনিয়ত হাতি আতঙ্কে দিনাতিপাত করছেন। অনেক সময় কাপ্তাই নেভি সড়ক ও আসামবস্তি সড়কের ওপর ১৫/২০ টি বন্য হাতির দলটি প্রায় সময় অবস্থান করে সড়ক অবরোধ করে রাখে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে।
বিএফআইডিসি শিল্প এলাকার বাসিন্দা মো. ইকবাল, মো. ইউসুফ, মো. জাহাঙ্গীর ও জুলেখা বেগম জানান, সর্বশেষ বৃহস্পতিবার ভোররাত তিনটার দিকে বন্যহাতির দলটি পার্শ্ববর্তী বন থেকে কাপ্তাই এলপিসি শাখার ভিতর দিয়ে শিল্পাঞ্চলের কলাবাগান নামক এলাকায় এসে হামলা চালায়। লোকালয়ে ঢুকে বিকট শব্দে গর্জন করতে শুরু করে। এসময় কয়েকটি কলা বাগান, বিভিন্ন বাড়ি ঘরের ঘেরাবেড়া ও একটি গেট ভেঙে ফেলে। গ্রামে হাতির উপস্থিতি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত নারী শিশুসহ সাধারণ মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানের খোঁজে পালাতে থাকে। পরে গ্রামের পুরুষরা নারী শিশুদের নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে আগুন জ্বালিয়ে ও পটকা ফুটিয়ে হাতির

দলটিকে তাড়ানোর চেষ্টা চালায়। প্রায় দুই ঘণ্টা তা-ব চালিয়ে হাতিগুলো পাহাড়ে ফিরে যায়। সকালে বাসিন্দারা ঘরে ফিরেন।
প্রত্যক্ষদর্শী কাপ্তাই নৌ বাহিনী স্কুলের প্রধান শিক্ষক জেলা নৌ স্কাউটস লিডার এম জাহাঙ্গীর আলম জানান, প্রায় সময় কাপ্তাই- নেভী আসামবস্তি সড়কে বন্যহাতি হানা দেয় দিন দুপুরে। ইতিমধ্যে হাতির আক্রমণে প্রাণ হারিয়েছে বেশ কয়েকজন। সড়ক দুটিতে গত কয়েক বছরে আহত হয়েছেন অনেক পথচারী। মাঝে মাঝে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয় নৌ বাহিনী এবং জীবতলীসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দাদের।
কাপ্তাই ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ জানান, যতদিন পর্যন্ত জঙ্গলে হাতির খাবারের আবাসস্থল তৈরি হবেনা ততদিন বন্যহাতির এই আচরণের পরিবর্তন হবেনা। এই এলাকার বাসিন্দাদের একটি দাবি বেশি করে জঙ্গলে হাতির বিচরণ ক্ষেত্রে হাতির খাওয়া উপযোগী গাছ লাগিয়ে বনের হাতিকে যেনো বনে থাকার ব্যবস্থা করা হয়।
কাপ্তাই ফরেস্ট কলোনির বাসিন্দা নুর মোহাম্মদ জানান, বন বিভাগের পক্ষ থেকে একাধিকবার বন্য হাতি তাড়ানোর পদক্ষেপ নেয়া হলেও এতে কোনো কাজ হয়নি বলে তিনি জানান।
এ ব্যাপারে পার্বত্য চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের এসিএফ মো. নুুরুল আলম বলেন, মূলত হাতি খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে ঢুকে পড়ছে। বনে হাতির কোনো খাবার নেই। তাই তাড়ালেও হাতি আবার লোকালয়ে ফিরে আসছে। তারপরও জনস্বার্থে বন্য হাতি তাড়ানোর জন্য বন বিভাগের পক্ষ থেকে প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে।

Share
  • 203
    Shares