নিজস্ব সংবাদদাতা , বান্দারবান

পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্ব নেয়ার পর আজ নিজ জেলা বান্দরবানে আসছেন বীর বাহাদুর উশৈসিং। মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে আওয়ামী লীগের পক্ষ হতে বিশাল সংবর্ধনার আয়োজন করা হয়েছে। শহরের রাজার মাঠে বিশাল জনসভায় বক্তব্য দেবেন ৬ষ্ঠ বারের মত নির্বাচিত সংসদ

সদস্য বীর বাহাদুর। মন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে পুরো বান্দরবানেই এখন সাজ সাজ রব। নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই। সাজানো হয়েছে রাজার মাঠ। আজ বিকেল ৪ টায় গাড়ি বহর নিয়ে মন্ত্রী বান্দরবান শহরে প্রবেশ করবেন। নেতা কর্মীরা জেলা শহর থেকে ২৩ কিলোমিটার দুরে কেরানীরহাট হতেই মন্ত্রীকে স্বাগত জানিয়ে নিয়ে আসবেন বলে আওয়ামী লীগের নেতা কর্মীরা জানিয়েছেন। তবে এবার কেন্দ্রীয় নির্দেশে তোরণ কম হচ্ছে। জেলা শহরে মাত্র ৭টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৬ বছর পর পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের একজন পূর্ণমন্ত্রী পেল পাহাড়ের লোকজন। আর এতে সবচেয়ে বেশি খুশি বান্দরবানের লোকজন। বীর বাহাদুর উশৈসিং এর আগে ৫ বছর একই মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে ৬ষ্ঠ বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর বীর বাহাদুরকে পূর্ণ মন্ত্রীর দায়িত্ব দেয়া হয়। ১৯৯৮ সালে এই মন্ত্রনালয়ে খাগড়াছির প্রয়াত সংসদ সদস্য কল্পরঞ্জন চাকমা পূর্ণমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। পরে রাঙ্গামাটির দীপকংর তালুকদার ও বান্দরবানের বীর বাহাদুর উশৈসিং প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। এবার বীর বাহাদুরকে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের পূর্ণমন্ত্রী করা হয়েছে। গত পাঁচ বছর প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকার সময়ে বান্দরবানে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকার উন্নয়ন হয়েছে। তিন পার্বত্য জেলায় উন্নয়ন হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকার। পুরো বান্দরবানেই বীর বাহাদুরের উন্নয়নের ছোঁয়া রয়েছে। শিক্ষা ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন এসেছে। উন্নত হয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ব্রিজ কালভার্ট সড়ক, নতুন নতুন ভবন, স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় পরিবর্তন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার উন্নয়ন সব কিছুই হয়েছে প্রতিমন্ত্রী থাকার সময়ে। এছাড়া বীর বাহাদুর দীর্ঘ সময়ে পার্বত্য চট্রগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান ছিলেন। সে সময়ে পাহাড়ের আনাচে কানাচে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। এবার তাঁকে পূর্ণমন্ত্রী করায় উন্নয়নের এই ধারা আরো বাড়বে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা। বীর বাহাদুর উশৈসিং পূর্বকোণকে জানান, এবার কৃষি ব্যবস্থার পরিবর্তনে গুরুত্ব দেয়া হবে। চাষাবাদ বৃদ্ধি, পাহাড়ে মিশ্র ফলের চাষ, উৎপাদিত কৃষি পণ্যের বাজারজাত করন, সেচ সুবিধা বৃদ্ধি, ছোট ছোট বাধ নির্মাণের মাধ্যমে মৎস্য চাষ, জুম চাষের আধুনিকায়নসহ কৃষি উৎপাদনে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে। যাতে করে এলাকার আর্থসামাজিক অবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন আসে। কারণ, পাহাড়ে জুম চাষ দিন দিন কমে আসছে। টিকে থাকতে হলে বিকল্প কৃষি উৎপাদনের দিকে নজর দিতে হবে। পাশাপাশি কর্মস্ংস্থান বাড়াতে কারিগরি শিক্ষার দিকে গুরুত্ব দেয়া হবে। প্রতিটি উপজেলায় কারিগরী শিক্ষা ইনস্টিটিউট গড়ে তোলা হবে। ইতিমধ্যে নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় তা শুরু হয়েছে। এছাড়া শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে আবাসিক স্কুল গড়ে তোলার ওপর নজর দেয়া হবে। যেসব জায়গায় এখনো বিদ্যুৎ সুবিধা পৌঁছায়নি সেসব জায়গায় সোলার বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। আরো ৩০ হাজার সোলার দেয়া হবে প্রত্যন্ত এলাকায়। এসব উন্নয়নের পাশাপাশি রাস্তা ঘাট, অবকাঠামো, ব্রিজ, কালভাট নির্মাণসহ প্রয়োজনীয় সব উন্নয়ন করা হবে। বীর বাহাদুর বলেন, সবার সহযোগিতায় এমনকি বিরোধী দলের নেতাদের পরামর্শ নিয়ে বান্দরবানেকে একটি আধুনিক জেলা হিসেবে গড়ে তোলা হবে। এদিকে বীর বাহাদুর এলাকার উন্নয়নের কথা বললেও অভিজ্ঞরা মনে করছেন পাহাড়ের অপর দুই জেলার রাজনৈতিক চাপও তার ওপর এসে পড়বে। বিশেষ করে পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া হবে বীর বাহাদুরের জন্য বড় চ্যালেজ্ঞ। চুক্তি বাস্তবায়নে আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘসূত্রিতা ও সদিচ্ছার অভাবের কথা দীর্ঘদিন থেকেই অভিযোগ করে আসছেন আঞ্চলিক রাজনৈতিক দল জনসংহতি সমিতির নেতারা। এ নিয়ে জনসংহতির সাথে আওয়ামী লীগের দূরত্বও বেড়েছে। একাদশ সংসদ নির্বাচনে এই বিরোধের প্রভাবও পরেছে বেশ। পার্বত্য মন্ত্রণালয়ে পূর্ণমন্ত্রী দেয়ার পর চুক্তি কতটুকু বাস্তবায়ন হবে তার দিকেই নজর রাখবেন নেতৃবৃন্দ। তবে এ বিষযে মন্ত্রী বীর বাহাদুর জানিয়েছেন, চুক্তির অধিকাংশ বিষয়ই বাস্তবায়ন হয়েছে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে। যেসব বিষয় বাস্তবায়ন হয়নি বা বিরোধপূর্ণ সেব বিষয় নিয়ে সবার সাথে আলোচনা করেই উদ্যোগ নেয়া হবে। হতাশার কিছুই নেই। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পাহাড়ের বিষয়ে খুবই আন্তরিক।
উল্লেখ্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর ঊশৈসিং গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে রিজেন্ট এয়ারওয়ের একটি ফ্লাইটে চট্টগ্রাম শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে এসে পৌঁছান। এসময় মন্ত্রীকে শুভেচ্ছা জানানতে ফুল হাতে অনেকে বিমানবন্দরে ছুটে আসেন।

Share