হারুনুর রশিদ ছিদ্দিকী, পটিয়া

পটিয়ার ফারহানা ইয়াছমিন ৪ লাখ টাকা মূলধন দিয়ে ডেইরি ফার্ম শুরু করেন। গত ৩ বছরে এই মূলধন বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৫০ লাখ টাকায় দাঁড়িয়েছে।
পটিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহায়তায় খামার করার উৎসাহ পান বলে জানান ফারহানা। ডেইরি ফার্ম করে তিনি স্বামী ও ৩ ছেলেসহ স্বাবলম্বী হয়ে জীবনযাপন করছেন। আরো বৃহত্তর পরিসরে ডেইরি ফার্ম করে কোটিপতি হওয়ার স¦প্ন দেখছেন তিনি। ফারহানা ইয়াছমিন তালুকদার বাড়ির রূপালী ব্যাংকের সাবেক ম্যানেজার নুরুল আলমের পুত্রবধূ।
জানা যায়, পটিয়া পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের গোবিন্দারখীল তালুকদার বাড়ির শফিউল আলম মনির স্ত্রী ফারহানা ইয়াছমিন ২ লাখ ৮০ হাজার টাকা দিয়ে ২টি গাভী ক্রয় করে ও ১ লাখ টাকা দিয়ে গোয়ালঘর তৈরি করে ২০১৬ সালে ডেইরি ফার্ম শুরু করেন। ২ জন শ্রমিক সহকারে স্বামী-স্ত্রী মিলে খামার দেখাশুনা করে আসছেন। সেই শুরু থেকে দুধ বিক্রি করে ক্রমান্বয়ে খামার বৃদ্ধি করা হয়। পরবর্তীতে পটিয়া রূপালী ব্যাংক থেকে ২০ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে আরো ২টি গাভী ক্রয় করে খামার বৃদ্ধি করা হয়। বর্তমানে খামারে ১৯টি গাভী ও ৮টি বাছুর রয়েছে। বর্তমানে প্রতিদিন ১৭০ লিটার করে দুধ পাচ্ছেন তিনি। তা পটিয়ার হোটেল ও মিষ্টির দোকানে বিক্রি করেন। এতে প্রতিদিন ৮/৯ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। প্রতি মাসে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পাচ্ছেন। এর মধ্যে গরুর খাদ্যক্রয় ও শ্রমিকের বেতন-ঔষধসহ ১ লাখ ১০ হাজার টাকা খরচ হয়। ফলে প্রতিমাসে ১ লাখ ৪০ হাজার টাকার মতো আয় হয়। এ ছাড়াও ২০১৭ সালে খামারের গোবর দিয়ে প্রায় ১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ব্যয়ে বায়োগ্যাস প্ল্যান্ট তৈরি করা হয়। এ প্ল্যান্ট দিয়ে তার পরিবারের জ্বালানি খরচ বাদ দিয়ে আরো ৬ পরিবারে গ্যাস সরবরাহ করা হয়। এতে প্রতিমাসে প্রায় ৫ হাজার টাকা আয় হয়। অন্যদিকে জৈব সার বিক্রি করে প্রতিমাসে ৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে। এর বাইরেও বর্তমানে স্বামী-স্ত্রী দুজন পটিয়া জীবন বীমা কর্পোরেশনে চাকরি করে প্রতিমাসে ৫০ হাজার টাকা আয় করছেন। তাদের ৩ ছেলে রয়েছে। প্রথম ছেলে সারাফাতুল আলম এসএসসি পরীক্ষার্থী। ২য় ছেলে মেজবাউল আলম পটিয়া আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ শ্রেণির ছাত্র ও ৩য় ছেলে পটিয়া মোহছানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৪র্থ শ্রেণিতে লেখাপড়া করে। বর্তমানে তাদের একটি সেমিপাকা ঘর রয়েছে। সরকারিভাবে পৃষ্ঠপোষকতা পেলে আরো বৃহত্তর পরিসরে খামার গড়ে তোলার কথাও জানান ফারহানা।

Share