শিক্ষা বর্ষের প্রথম দিনে ই ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা হাতে নতুন বই পেয়ে তারা যে কি খুশী তা পরিমাপ করা বা ব্যক্ত করার সাধ্য আমাদের নেই। ২০১৯ এর শিক্ষাবর্ষের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্কুল এবং মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিনামূল্যে পাঠ্যবই আনুষ্ঠানিকভাবে বিতরণ শুরু হয় বছরের প্রথমদিনে। কেন্দ্রীয়ভাবে ঢাকার আজিমপুর সরকারি গার্লস স্কুল এন্ড কলেজ মাঠে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে বিনামূল্যে ঝকঝকে নতুন বই তুলে দেন। অন্যদিকে প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী মোস্তাফিজুর রহমান ফোনের মাধ্যমে (অসুস্থতা হেতু বই বিতরণ স্থলে আসতে না পারায়) ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে জমায়েত হওয়া প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন ক্লাসের নতুন বই তুলে দেন। জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি)সূত্রে পত্রিকায় প্রকাশ ২০১৯ সালের জন্য প্রাক প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত ৪ কোটি ২৬ লাখ ১৯ হাজার ৮৬৫ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৩৫ কোটি ২১ লাখ ৯৭ হাজার ৮৮২টি বই বিতরণ করা হবে। এ জন্য খরচ পড়ছে প্রায় ১ হাজার ৮২ কোটি টাকা। এছাড়াও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী ছেলে-মেয়েদের প্রাক-প্রাথমিক এবং প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণীর জন্য ২ লাখ ৭৭ হাজার ৬৮টি পাঠ্যপুস্তক দেওয়া হচ্ছে।
সারা দেশের মত চট্টগ্রামেও প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং হাই স্কুল গুলোতেও বছরের প্রথম দিনেই পাঠ্যপুস্তক বিতরণ করা হয়েছে। দৈনিক পূর্বকোণ ২ জানুয়ারি সংখ্যায় জানা যায় ২০১৯ এর প্রথম দিনেই নগরী ও জেলার ২০ থানা ও উপজেলায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করা হবে ২ কোটি ৯০ হাজার ৮২৫ বই। এর মধ্যে মাধ্যমিকে পৌণে ১২ লাখ শিক্ষার্থী পাচ্ছে ১ কোটি ৫২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৮১টি বই। অন্যদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয় কিন্ডার গার্টেন ও এনজিও সহ ৪ হাজার ৭৩০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পাচ্ছে ৪৮ লাখ ৯৪৪টি বই।
শিক্ষাবর্ষের প্রথম দিনেই সারাদেশের সোয়া চার কোটির বেশি শিক্ষার্থীদের হাতে নতুন পাঠ্যবই তুলে দেয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী এবং কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাধুবাদ জানাই। নতুন বই পেয়ে শিক্ষার্থীদের মুখে যে হাসি ফুটে উঠেছে তা প্রকাশ বা পরিমাপ করা দুরূহ। একটি বিষয় না বললেই নয়, সরকারিভাবে পাঠ্যবই বিতরণের পূর্বে (২০১০ সালের পূর্বে) দেশের অনেক অভিভাবকই সময়মত সন্তানদের হাতে নতুন শিক্ষাবোর্ডের পাঠ্যবই কিনে দিতে পারতেন না।
আবার অনেক আর্থিকভাবে অসচ্ছল অভিভাবক সন্তানের জন্য পুরনো বই কিনে এনে দিতেন বা আত্মীয় স্বজনের সন্তানদের বই চেয়ে আনতেন। সেদিন এখন আর নেই। আমার আপনার সন্তানেরা এখন সরকারিভাবে বিনামূল্যে পাওয়া নতুন বই নিয়ে স্কুলে যাবে।
এই সুবাদে আর একটি কথা না বললেই নয়। আমরা ঘর থেকে বের হলেই দেখি অনেক ছেলে মেয়ে স্কুল গ-ির বাইরেই রয়ে গিয়েছে। এদের পরিচয় পথশিশু। এদের সিংহ ভাগই গরীব ছিন্নমূল সহায় সম্বলহীন পরিবার থেকে আসা। এরা সবাই শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত।
সড়ক মহাসড়ক স্টেশনে এদের রাতযাপন। এরা নানা অসামাজিক কাজেও জড়িত। এদের সুন্দর সামাজিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সরকার সহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের দায়িত্ব। এজন্য সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান রইল। আসুন সবাই মিলে সুখী সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে স্ব স্ব স্থান থেকে ভূমিকা রাখি।

Share