৩০ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখ বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রত্যাশিত একটি নির্বাচিত সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ,অংশগ্রহণমূলক একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে সমুন্নত রেখে সকল রাজনৈতিক দলের স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ এই নির্বাচন অনুষ্ঠানে ছিল লক্ষ্যণীয় ও দৃশ্যমান। এ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধু তনয়া বাংলাদেশের গণমানুষের আস্থার প্রতীক, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে তৃণমূল থেকে উঠে আসা নেতা-কর্মীদের মতামতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও প্রাধান্য দিয়েছেন বিচার-বিশ্লেষণের মাধ্যমে সৎ, দক্ষ, নেতৃত্বের গুণাবলী অধিকারী মেধাবী তরুণদের বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট থেকে মনোনয়ন প্রদান করেন।
নির্বাচনের পূর্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা মহাজোট জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে কল্যাণমুখী মানবিক রাষ্ট্র, বিজ্ঞানমনস্ক, তথ্য-প্রযিুক্তিনির্ভর, গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক, দুর্নীতি-জঙ্গি-সন্ত্রাস ও মাদকমুক্ত সকলের কাঙ্খিত জাতির জনকের প্রত্যাশিত সোনার বাংলা গঠনে দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতিকে সামনে রেখে সময়োপযোগী যে ইস্তেহার ঘোষণা করেছিল। এ ইস্তেহারের প্রতি পূর্ণ আস্থা রেখে দেশের আপামর জনসাধারণ তাদের প্রত্যক্ষ ভোটাধিকার প্রয়োগ করে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটকে নিরঙ্কুশ বিজয় এনে দেয়।
এ নির্বাচনের পক্ষে ছিল জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শে বিশ^াসী মহান মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি। অপরপক্ষে ছিল স্বাধীনতাবিরোধী দুর্নীতিবাজ, জঙ্গি-অগ্নি-সন্ত্রাস, বর্ণচোরা, সাম্প্রদায়িক অপশক্তি। এ নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের প্রায় সোয়া ২ কোটি তরুণ ভোটারসহ দেশের আপামর জনগণ স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনার প্রতি অবিচল বিশ^াস ও আস্থা রেখে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটকে নিরঙ্কুশ রায় প্রদান করেন।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের এ বিজয় ১৯৭০ এর সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের বিজয়ের মতো। নির্বাচন পরবর্তী দেশের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ, দেশি-বিদেশী পর্যবেক্ষকসহ বিশে^র বৃহৎ প্রতিবেশি দেশ ভারত, চীন, মালয়েশিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ সকল দেশ এ নির্বাচনকে সাধুবাদ জানায়।
বিপুল ভোটে বিজয়ী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংসদ সদস্যবৃন্দ ৩ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ শপথ গ্রহণ করেন। শপথ গ্রহণের পর দেশের উন্নয়ন-অগ্রগতির চাকাকে আরও গতিশীল করে ‘ভিশন-২১’ ও ‘ভিশন-৪১’ সঠিক বাস্তবায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগানোর প্রত্যয়ে ৬ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ এক ঝাঁক মেধাবী তরুণদের সমন্বয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ ৪৭ সদস্যবিশিষ্ট মন্ত্রী পরিষদের নাম ঘোষণা করেন। এই জনকল্যাণমুখী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে জানাই আন্তরিক অভিনন্দন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী হিসেবে যাঁরা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পেয়েছেন তাঁরা তাঁেদর মেধা, প্রজ্ঞা, অভিজ্ঞতা এবং দূরদৃষ্টি দিয়ে দেশের প্রতি অর্পিত দায়িত্ব অত্যন্ত সততা ও নিষ্ঠার সাথে পালন করবেন নতুন সরকারের কাছে জনগণের এটাই প্রত্যাশা। আমি আশা করছি, সংরক্ষিত নারীসাংসদ মনোনয়নেও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চমক দেখাবেন।
বিশেষ করে বলতে চাই শিক্ষা ছাড়া দেশ-জাতির উন্নয়ন সম্ভব নয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে ডা. দীপুমণিকে এবং শিক্ষা উপমন্ত্রী হিসেবে ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান নওফেলকে নিয়োগ দিয়ে অত্যন্ত বিচক্ষণতার পরিচয় দিয়েছেন। তাঁরা দু’জনে অত্যন্ত সৎ ও মেধাবী। তাঁদেরকে জানাই প্রাণঢালা অভিনন্দন। আমার বিশ^াস এ মেধাবী মন্ত্রী এবং উপমন্ত্রী দেশে শিক্ষা, উচ্চ শিক্ষার উন্নয়নে তথা প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে জ্ঞান-গবেষণার তীর্থ কেন্দ্রে পরিণত করতে তাঁদের মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারবেন।
এখন, দেশের উচ্চ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তথা বিশ^বিদ্যালয়গুলোতে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য নিয়োগের ক্ষেত্রে দক্ষতা, অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, নীতি-নৈতিকতা সর্বোপরি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নির্ভীক সৈনিকদের প্রাধান্য দেবেন, এই বিষয়টি নিয়ে আশ^স্ত হওয়া যায়। এই ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার দায়বদ্ধ। অন্যদিকে, দেশ ও জাতির বৃহত্তর মঙ্গলার্থে হাইব্রিড আওয়ামী লীগ, বর্ণচোরা, নীতি-নৈতিকতা বিবর্জিত, সাম্প্রদায়িক ভূইফোঁড়দের প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানাই। কোনভাবেই যেন দেশের শিক্ষাব্যবস্থা লুটেরাদের হাতে চলে না যায় মাননীয় মন্ত্রী-উপমন্ত্রী মহোদয় সেদিকে সজাগ দৃষ্টি রাখবেন বলে আমার বিশ^াস।
এছাড়া, আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক চট্টগ্রাম-৭ আসন থেকে নির্বাচিত আওয়ামীলীগ-এর অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য জাতির জনকের আদর্শের নির্ভীক সৈনিক জনাব মোহাম্মদ হাছান মাহমুদকে তথ্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত দূরদর্শিতার পরিচয় দিয়েছেন। তারুণ্যের প্রতীক তথ্যমন্ত্রী দেশের যে কোন ক্রান্তিকালে অত্যন্ত দক্ষতা ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে নিজের দল ছাড়াও সকলের কাছে হয়ে উঠেছেন গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিত্ব রূপে।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নির্ভীক সৈনিক জনাব আখতারুজ্জামান চৌধুরীর সুযোগ্য পুত্র চট্টগ্রাম-১৩ আসন থেকে নব-নির্বাচিত সাংসদ। জনাব সাইফুজ্জামান চৌধুরীকে তাঁর অতীত অভিজ্ঞতাকে আরও সুচারুভাবে কাজে লাগানোর প্রত্যয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব প্রদান করে দেশের রাষ্ট্রীয় সম্পদ সুরক্ষায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তা অত্যন্ত প্রশংসার দাবীদার।
বঙ্গবন্ধু তনয়া আধুনিক বাংলাদেশের রূপকার মাননীয় প্রধানমন্ত্রী মানবতার জননী বিশ^নেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা নবগঠিত একাদশ জাতীয় সংসদের মন্ত্রী পরিষদে নির্বাচিত সাংসদদের ভেতর থেকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে যে সকল তরুণ-মেধাবী-দক্ষ-যোগ্য এবং বঙ্গবন্ধুর আদর্শের নির্ভীক সৈনিকদের দায়িত্ব প্রদান করেছেন তাঁরা নবযুগ সৃষ্টির সৈনিক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা চতুর্থবারের মতো রেকর্ড গড়ে যে অসাম্প্রদায়িক মানবিকসমাজ প্রতিষ্ঠার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন তারই আলোকে এই মন্ত্রীসভা গড়েছেন। আগামীতে দেশ ও জাতির আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলনে বাস্তব রূপ লাভ করবে প্রত্যাশার অগ্রযাত্রা, এটাই প্রত্যাশিত।

লেখক : শিক্ষাবিদ, উপাচার্য, চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়।

Share