স্পোর্টস ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকাপ নিয়ে উন্মাদনা শুরু হয়ে গেছে অনেক আগেই। তবে রাশিযার মাটিতে মর্যাদাকর আসরের বল গড়ানোর খোদ স্বাগতিকরা আছেন বড় চিন্তায়। অবশ্য তাদের মাঠে কেমন
করবে তার চাইতেও আয়োজকদের বেশি ভাবতে হচ্ছে আইএস, কিংবা বাইরের দর্শক হুলিগানদের নিয়ে, সাথে বিশ্ব রাজনীতির উত্তাপতো আছেই। রাজনীতির মারপ্যাঁচকে উপেক্ষা করেই দলগুলো অংশ নিচ্ছে একুশতম বিশ্বসেরার লড়াইয়ে। প্রায় সব ধরনের প্রস্তুতিই নেয়া শেষ। শুরু থেকেই ইউরোপের দেশটির অন্যতম চ্যালেঞ্জ নিরাপত্তা। হুলিগান থেকে জঙ্গি হামলা সবকিছু দমন করতেই বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে রুশ সরকার। এরমধ্যেই গতকাল নতুন করে হুমকি দিয়েছে আইএস। জঙ্গিগোষ্ঠীটির নতুন প্রকাশ করা এক ছবিতে দেখা যাচ্ছে, আইএসের দুই সদস্য মেসি ও রোনালদোর গলা কেটে ফেলছে। সেটাও আবার দর্শকভরা এক ফুটবল স্টেডিয়ামে। এ ছবির সঙ্গে ক্যাপশন হিসেবে লেখা হয়েছে, ‘মাঠভর্তি হয়ে যাবে তোমাদের রক্ত দিয়ে।’ আরো একটি ছবি প্রকাশ করে রাশিয়া বিশ্বকাপে সন্ত্রাসী হামলা চালানোর হুমকি দেওয়া হয়েছে। যেখানে দেখা যায়, আইএসের এক জঙ্গি স্টেডিয়ামের বাইরে বোমা নিয়ে অপেক্ষা করছে। এই ছবির সঙ্গে বার্তা হিসেবে লেখা হয়েছে, ‘ফিফা রাশিয়া বিশ্বকাপ ২০১৮তে জয় আমাদেরই হবে।’ আর্জেন্টিনার তারকা লিওনেল মেসিকে এর আগেও হুমকি দিয়েছিল আইএসের জঙ্গিরা। গত মার্চে মেসিকে দেখানো হয়েছিল গুয়ানতানামো বে-র বন্দিদের মতো এক পোশাক পরিহিত অবস্থায়। যে পোশাকগুলো পরানো হয়েছিল আইএস জঙ্গিদের হাতে নিহত মানুষদের।
আইএসের গতকালের হুমকির পর রুশ সরকার নতুন করে চিন্তায় পড়েছে। গত বছরের শেষ ভাগ থেকে বিশ্বকাপ বন্ধ করতে বেশ কয়েকবার হুমকি দিয়ে আসছিল ইসলামিক স্টেট (আইএস)। মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠনটির পক্ষ থেকে বর্তমান বিশ্বের সেরা সব তারকাদের ছবি নিয়ে হত্যা করার হুমকি দেয়া হচ্ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ফের এই হুমকি দিল নিষিদ্ধ সংগঠনটি। প্রাথমিকভাবে হুলিগানদের নিয়ে বেশি চিন্তা ছিল আয়োজকদের। নিজেদের ক্লাবের বা দেশের নাম ব্যবহার করে তারা করতে পারে না এমন কোন হীন কাজ নেই। পুলিশের সঙ্গে দাঙ্গা, প্রতিপক্ষের সমর্থকদের ওপর হামলা, মাঠে গোলমাল, বর্ণবাদী স্লোগান এমনকি খুন পর্যন্ত সম্ভব হুলিগানদের দ্বারা। বিশ্বের নানা প্রান্তে থাকা এই ‘উগ্র’ সমর্থকদের দমন করতে আগেই কাজ শুরু করেছিল। অনেক অংশেই সফলতাও পেয়েছে রাশিয়ানরা। গত মাসের শেষ দিকে আইএসের ২০ সদস্যকে রাশিয়া থেকে আটক করেছিল দেশটির আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। তার আগের মাসে জঙ্গিদের একটি গোপন আস্তানাও ধ্বংস করে দেশটির সেনাবাহিনী।

Share