ঊর্মি বড়–য়া

ঈদ উপলক্ষে থান কাপড়ে বৈচিত্র্যময় পসরা এখন মার্কেটগুলোতে। এক রঙা থেকে প্রিন্টেড, সুতি থেকে জর্জেট, কিংবা নেট, ভেলভেটসহ বাহারি কাপড় আর বাহারি রঙে ছেয়ে গেছে দোকানগুলো। প্রায় হামলে পড়েই নিত্যনতুন কাপড় সংগ্রহ করছেন বিভিন্ন বয়সী মহিলারা। বাদ নেই পুরুষরাও। পাঞ্জাবির কাপড় সংগ্রহে নেমেছেন তারাও। তাই সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিকিকিনিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন দোকানিরা।
নগরীর টেরিবাজার, সেন্ট্রাল প্লাজা, রিয়াজউদ্দিনবাজার, মতি টাওয়ার, চকভিউ মার্কেটজুড়ে থান কাপড়ের ছড়াছড়ি। বাংলাদেশি, ভারতীয়, পাকিস্তানি চায়না কাপড়ে ভরপুর প্রতিটি দোকান। ঈদকে সামনে রেখে দোকানিরা এক রঙা, প্রিন্ট, এমব্রয়ডারি, মেশিন এব্রয়ডারি, ইন্ডিয়ান ভেজিটেবল ডাই, লিনেন প্রিন্ট, সামুরা, ডাবল জর্জেট প্রিন্ট, বেক্সিভয়েল, বাটিকসহ নানা ধরণের থান কাপড়ের পসরা সাজিয়েছেন দোকানজুড়ে। এবার নতুন আসা কাপড়ের মধ্যে রয়েছে চায়নার গর্জিয়াস নেট, পিউর জর্জেট ( চুমকি, সুতোর কাজ), গুজরাটি কাজ করা, কলমকারি। চায়না কাপড়ের ওপর গর্জিয়াস নেটের কাজ করা কাপড়ের প্রতি গজের দাম পড়বে শত থেকে ১২ টাকা, পিউর জর্জেটের হাজার থেকে ১৩ টাকা, টুপিস প্রিন্টেড ১২ ৫০ টাকা (প্রতি পিস), কলমকারি প্রতি গজ ২৫০ শত টাকা। এছাড়া লিনেন প্রিন্ট ১শত ৫০ টাকায়, সামুরা ১শত ৩০ থেকে দেড়শত টাকায়, ডাবল জর্জেট প্রিন্ট শত টাকা, বেক্সি শত ১০ টাকা, ভেজিটেবল ডাই শত ২০ টাকা, লিনেন শত ৩০ টাকা, গুজরাটি কাজ করা থান কাপড় থেকে শত টাকা, নেট জর্জেটের ওপর মেশিন এব্রয়ডারি শত থেকে শত টাকা, সুতির ওপর নানা ধরণের স্টিচ করা কাপড় প্রতি গজ শত থেকে শত টাকায়,

সুতি কাপড়ের দাম শুরু ৮০ টাকা থেকে, সর্বোচ্চ ২৫০ শত টাকা পর্যন্ত।
গতকাল নগরীর টেরিবাজারে অবস্থিত হারুন ব্রাদার্সে গিয়ে দেখা যায় বেচাবিক্রিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন বিক্রেতারা। তিনতলাজুড়ে এই দোকানে রয়েছে বাহারি থান কাপড়, থ্রিপিসের বিশাল সম্ভার। তাই পছন্দের কাপড় সংগ্রহে মহিলাদের প্রায় ভিড় লেগেই থাকে দোকানটিতে। দল বেঁধে অনেকেই আসেন এখানে। তেমনি সদস্যের একটি দলের দেখা পাওয়া গেল দোকানটিতে। সম্পর্কে সকলেই বোন। ঈদ উপলক্ষে একই রঙ, একই প্রিন্ট সঙ্গে উন্নতমানের কাপড় কিনতে প্রতিটি মার্কেট ঘুরে ফিরছেন তারা। অবশেষে মানানসই রঙের পিউর জর্জেটের কাপড় কিনছেন সকলে মিলেই। পিছিয়ে নেই পুরুষরাও। যারা পাঞ্জাবি কিংবা শার্ট বানিয়ে পরতেই পছন্দ করেন, তাদের উপস্থিতি টেরিবাজারের শার্ট, পাঞ্জাবির গজ কাপড়ের দোকানগুলোতে।
একইভাবে নগরীর সেন্ট্রাল প্লাজার প্রতিটি দোকানে উপচে পড়া ভিড় তরুণী আর বিভিন্ন বয়সী মহিলাদের। থান কাপড়ের পাশাপাশি আনস্টিচ থ্রিপিস, টুপিস সংগ্রহ করছেন তারা।
এখানেই কথা হলো স্কুলশিক্ষিকা সামিয়া রহমানের সঙ্গে। ছোট বোন আর মায়ের সঙ্গে এসেছেন ঈদ শপিংএ। জানালেন, সবসময় থান কাপড় সেন্ট্রাল প্লাজা থেকেই নিয়ে থাকেন। সুন্দর কালেকশন, উন্নতমানের কাপড়ের জন্যই প্রথম পছন্দ সেন্ট্রাল। সঙ্গে টেইলার্সগুলো পাশেই রয়েছে। তাই কাপড় কিনেই সেলাইয়ের কাজটাও এখানে সেরে ফেলা যায়।
ঈদের বাকি আরো দেরি। তবে মার্কেটগুলো দেখে বোঝার উপায় নেই তা। ঈদের আমেজ শুরু হয়ে গেছে প্রতিটি শপিং মলে। আর বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ভিড় বাড়তে থাকে সেখানে। সকলের ইচ্ছা ঈদে দিন নিজেকে সুন্দরভাবে আর নতুন পোশাকে উপস্থাপন করা

Share