নীড়পাতা » শেষের পাতা » চবি শিক্ষক আনোয়ার চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা

মুক্তিযুদ্ধকে হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা বলে উল্লেখ

চবি শিক্ষক আনোয়ার চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা

আদালত প্রতিবেদক

গবেষণা নিবন্ধে মুক্তিযুদ্ধকে হিন্দুমুসলিম দাঙ্গা বঙ্গবন্ধুকে কটাক্ষ করার অভিযোগে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সমাজতত্ত্ব বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরীর বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা দায়ের হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার চট্টগ্রাম সিনিয়র মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেম মো. নোমানএর আদালতে মামলাটি দায়ের করেন ফটিকছড়ি উপজেলা ছাত্রলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক আসাদুজ্জামান তানভীর (২৯)
আদালত অভিযোগটি গ্রহণ করে চকবাজার থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াশেষে এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন। বাদিপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন এডভোকেট মো. আজহারুল হক। তিনি বলেন, আদালত অভিযোগটিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণ করার জন্য চকবাজার থানাকে নির্দেশ দিয়েছেন। আইনজীবী সমিতির সভাপতি এডভোকেট শেখ ইফতেখার সাইমুল চৌধুরী বলেন, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক হয়ে মুক্তিযুদ্ধের কাল্পনিক ইতিহাস লেখা বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কটাক্ষ করা দুঃখজনক ঘটনা।
অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, একটি জাতীয় দৈনিকে অভিযুক্তের গবেষণাকর্মের উদ্ধৃতি দিয়ে সংবাদ ছাপা হয়। মে বাদি তার গবেষণা বিষয়ে সংবাদপত্রে একটি সমালোচনাধর্মী প্রতিবেদন পড়েন। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘মুক্তিযুদ্ধ হিন্দুমুসলিম দাঙ্গা, বিতর্কিত

শিক্ষক আনোয়ারের গবেষণায় বঙ্গবন্ধুকে কটূক্তি।সংবাদে আরো উল্লেখ করা হয়, ‘১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকে হিন্দুমুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বলে উল্লেখ করেছেন। বক্তব্যের সপক্ষে তিনি কোন ধরণের প্রমাণ বা রেফারেন্স দেননি। অপরদিকে, বঙ্গবন্ধু তার ঘনিষ্ঠ সহযোদ্ধারা ব্রিটিশ পাকিস্তান আমলের সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ফসল বলে উল্লেখ করেন। গবেষণার উদ্ধৃতি দিয়ে আরো বলা হয়, এক সময়ের নিরপেক্ষ দল বর্তমানে আওয়ামী লীগ সাম্প্রদায়িক দলে পরিণত হয়েছে। কক্সবাজারের রামুতে বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের বাড়িঘরে হামলার সঙ্গে সরাসরি আওয়ামী লীগের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে দাবি করেন। রাজাকার বা পাকিস্তানিরাও ১৯৭১ সালের সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সময় বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের রিসোর্সে হামলা করেনি বলে উল্লেখ করেন। গবেষণার ২৪ নম্বর পাতায় উল্লেখ করেন, আওয়ামী লীগ যা কিনা ধর্মনিরপেক্ষ বুদ্ধিবৃত্তিতে বলীয়ান, তারাও রাজনৈতিক সভা সমাবেশে ইসলামিক আটুল বাক্য ব্যবহার করতে শুরু করে। সর্বোচ্চ নেতা শেখ হাসিনা ধর্মীয় লেবাস দেখানোর জন্য নিয়মিত সৌদি আরব গমণ করেন। এমনকি তিনি জায়নামাজ বহন এবং হিজাব পরিধান আরম্ভ করেছিলেন জনগণের মনোযোগ আকর্ষণের জন্য। তিনি তখন জনসমক্ষে বক্তৃতায় বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম, খোদা হাফেজ এবং ইনশাল্লার মতো ইসলামিক বাক্যাংশ ব্যবহার করা শুরু করেছিলেন।
মামলায় উল্লেখ করা হয়, মুক্তিযুদ্ধ, আওয়ামী লীগ বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বিকৃত তথ্য উপস্থাপন করেছেন অভিযুক্ত। একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বিষয়ে বাদি চুপ থাকতে পারেন না। বিকৃত, ভুল মানহানিকর তথ্য উপস্থাপন করায় বিধির ১২৩ , ১২৪ , ১৭৭, ৫০০, ৫০১ ৫০২ ধারার অপরাধ করেছেন অভিযুক্ত। শুনানিশেষে আদালত অভিযোগটির প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এজাহার গণ্য করার নির্দেশ দিয়েছেন

Share