নীড়পাতা » শেষের পাতা » এবার সাজানো হচ্ছে সার্সন রোড মোড়

এবার সাজানো হচ্ছে সার্সন রোড মোড়

নিজস্ব প্রতিবেদক

এবার ঢেলে সাজানো হচ্ছে জামালখানের সার্সন রোডের মোড়।সবুজে সাজবে চট্টগ্রাম শ্লোগানকে সামনে রেখে মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে মডেল ওয়ার্ডে রূপ নিয়েছে জামালখান। চেরাগীর মোড়, লাভলেইন, রহমতগঞ্জ ডা. হাশেম স্কয়ারের পর এবার সাজানো হচ্ছে সার্সন রোডের মোড়। আমূল পরিবর্তন আনা হচ্ছে আইডিয়েল স্কুলের দেয়ালেও। সিটি কর্পোরেশন থেকে চেরাগী, হেমসেন লেইনের গ্রিনল্যাজ কলোনীর মুখে কিংবা ডিসি হিলের ফুটপাতের ময়লা সরিয়ে ফেলা হচ্ছে আরো অনেক আগে। গতকাল বৃহস্পতিবার সার্সনরোডের মুখে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে নতুন করে ভাস্কর্য তৈরির কাজ চলছে। দীর্ঘদিন আগাছা আর ময়লায় ভরা মোড়টি চলতি মাসের মধ্যেই ফিরে পাবে তার হারানো যৌবন। স্থপতি আইনুল ইসলাম শাওনের ডিজাইন করা মৈত্রী ভার্স্কয বসানো হবে সেখানে। ভাস্কর প্রণব সরকার বলেন, সার্সন রোডের মুখে ভাস্কর্যটি মৈত্রি এবং নেভাল মোড়ের স্থাপন করা হবে মেত্রী নামে আরো এক ভাস্কর্য। টাইলস, সিরামিক সাদা সিমেন্ট ব্যবহার করা হচ্ছে এসব ভাষ্কর্যে। জামালাখান ওয়ার্ডের কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন বলেন, জামালখান হবে নগরীর একটি জানালা। যার চারপাশে থাকবে সবুজে ভরা। শুধু মোড় সৌন্দর্যবর্ধন করা হচ্ছে তা নয়। শ্যাওলা আর আগাছায় ভরা জামালখানের প্রতিটি স্কুলের

দেয়ালগুলো করা হয়েছে দৃষ্টি নন্দন। ডা. খাস্তগীর, সেন্টমেরিস, এজি চার্চ, বৌদ্ধ মন্দির মোড়ের ন্যাশনাল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পর এবং সাজানো হচ্ছে আইডিয়েল স্কুলের দেয়াল। কয়দিন পর আসকার দিঘির পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত সালেহ জহুর স্কুলের দেয়াল সৌন্দর্যবর্ধন করা হবে।
নতুন ভাস্কর্যের নাম মৈত্রী দেওয়া প্রসঙ্গে শৈবাল দাশ বলেন, সমন্বিত উদ্যোগ থাকলে কোন কিছুই অসম্ভব নয়। মানুষের দর্শন ভিন্ন থাকতে পারে। কিন্তু উন্নয়নের ক্ষেত্রে সবাই একই প্লাটফরমে দাঁড়ালে একটি এলাকার আমূল পরিবর্তন করতে তেমন সময় লাগেনা।
শৈবাল দাশ বলেন, জামালখানের সৌন্দর্যবর্ধনের কাজে যেসব কাজ করা হয়েছে, সেখানে সিটি কর্পোরেশনের কোন অর্থ খরচ করতে হয়নি। প্রত্যেকটি কাজে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান আর্থিক সহায়তা দিয়েছে। সার্সন রোডের ভাস্কর্য তৈরিতে খরচ হবে চারলাখ টাকা। ভেগাস ফার্নিচার নামে একটি প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে ভাস্কর্য তৈরি করা হবে।
সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী লিখনীতে জামালখানকে বলা হয়েছে মনের জানালা। তিনি বলেন, আন্দরকিল্লা চট্টগ্রামের রাজধানী। কিন্ত জামালখানের মতো পয়মন্ত নয়। আন্দরকিল্লার আগে চকবাজার এবং তারও আগে ১৮৯৬৯৭ সালের পর পরীর পাহাড়ে আদালত ভবন সংলগ্ন পানির পাহাড়ে এডিওমের বাসভবন (সাহিত্যিক অন্নদাশংকর রায় যখন চট্টগ্রামের এডিএম ছিলেন, তখন তাঁর অফিসও এখানেই ছিল) এবং সিভিল সার্জনের অফিস স্থপিত হওয়া থেকে ১৯০৪ সালে আন্দরকিল্লায় পৌরসভা স্থানান্তরিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত লালদিঘী এলাকা চট্টগ্রামের রাজধানী ছিল। আদালত এন্তেকালি পাহাড় (বর্তমান ডিবি এসপি অফিস) কোতোয়ালি, জেলখানা ইত্যাদির পরপর অবস্থান প্রমাণ করে লালদিঘী একসময় চট্টগ্রামের নাভি ছিল। কিন্তু জামালখান মনের জানালা খুলে দিয়ে সবার ওপর টেক্কা দিয়ে বসে আছে। এই ওয়ার্ডের প্রতিটি ইটপাথরের গাঁথুনী অলিগলি, রাজপথ, ঘরবাড়ি, দালানকোঠার পরতে পরতে ইতিহাসের পরম্পরা; ঐতিহাসিক ঘটনার ঘনঘটা

Share