নিজস্ব প্রতিবেদক

দুপুর সাড়ে ১২ টা। মাজার আর মসজিদ ঘিরে বসে আছে তারা। বৃদ্ধ নারী-পুরুষ, কোলে ছেলে নিয়ে মা, কয়েকটি ছেলে ও মেয়ে যাদের বাবা মা কেউ নেই। এরা সংখ্যায় ৮০ বা তারও বেশি। খাবারের জন্য তাদের প্রতীক্ষা। কোথা থেকে খাবার আসবে তা কিন্তু কেউ জানে না। বিশ^াস খাবার আসবেই। কারণ খাবার না আসার ঘটনা কখনো ঘটেনি। প্রতিদিন প্রতি বেলায় আসে খাবার। কখনো ডেকচি ভরে, কখনো বা প্যাকেটে করে। খাবারের এই আয়োজন চলে আসছে বছরের পর বছর চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে ও.আর নিজাম রোডের হযরত বদনা শাহের (রাহ.) মাজারে।
নগরীর বিত্তবান ব্যক্তি শিল্প প্রতিষ্ঠান কিংবা সাধারণ মানুষ তাদের সাধ্যের মধ্যেই এই ভিক্ষুকদের খাবারের ব্যবস্থা করে থাকেন। এস আলম, কেএসআরএম, আরএসআরএম, পিএইচপি ও কিছু গার্মেন্টস মালিক প্রায় সময় তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করেন। তন্মধ্যে পিএইচপি তাদের জন্য রুটি ও কলা দৈনিক প্রদান করে বলে জানান মাজারের খাদেম সৈয়দ মনির আহমেদ। মাজারটিকে কেন্দ্র করে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকা থেকে শত শত নারী পুরুষ ‘রোগমুক্তি ও মনের আশা’ পুরণে মানত করে থাকেন। অনেকে দূর-দূরান্ত থেকেও আসেন এখানে। আর মাজারে দান করেন। সেই দানের টাকা দিয়ে মসজিদ ও মাজারের উন্নয়নের জন্য কাজ করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি মাজারের পক্ষ থেকে সপ্তাহে তিনদিন ভিক্ষুকদের খাবার দেয়া হয়। শীত উপলক্ষে তাদের শীতবস্ত্র ও কম্বল বিতরণ করা হয় বলে জানান মনির আহমেদ।
স্থানীয় বাসিন্দা মনছুর বলেন, এদের অনেকেই এখানে রাস্তায় থাকে। কিছু আশেপাশের বস্তিতে থাকে, যাদের থাকার জায়গা নাই তারা এখানে থাকে। দেখা যায় একটি বা দুটি অঙ্গ নেই এমন অনেকেই আছে। তাই তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হয়। না হয় তাদের না খেয়ে থাকতে হতো।
ভিক্ষুক রহমত মিয়ার বয়স ৭৬ বছর। তিনি বলেন- এ বয়সে আর কাজ করতে পারি না। তাই এখানে বসে থাকি। কারণ এখানে অনেকে খাবার দেয়। তিনবেলা খেতে পাই আবার ঘরেও নিয়ে যেতে পারি।
সব মিলিয়ে বলা যায় বদনা শাহের মাজারে আসা কাউকে অভুক্ত থাকতে হয় না।

Share
  • 279
    Shares