ইন্টারন্যাশনাল ডেস্ক : গুজরাট রাজ্যে জয় পেয়েছিলেন। জোটবদ্ধ হয়ে ক্ষমতায় এসেছেন বিহার ও গোয়াতে। কর্তাটকে চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন। এবারও পারলেন না। রাজস্থান, মধ্যপ্রদেশ, ছত্তিশগড় তিন রাজ্যেই ক্ষমতা হাত ছাড়া হয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টির। তাছাড়া বাকি দুই রাজ্যের মধ্যে তেলেঙ্গানা ও মিজোরামে মাত্র একটি করে আসন পেয়েছে মোদির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি।
পাঁচ রাজ্যে সামগ্রিক ফলের নিরিখে তেলেঙ্গানা বাদ দিয়ে চার রাজ্যেই পরিবর্তন এসেছে। তিন রাজ্যে বিজেপির সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত জিতেছে কংগ্রেস। আর মিজোরামে ক্ষমতায় এসেছে মিজোরাম ন্যাশনাল ফ্রন্ট। অন্যদিকে তেলেঙ্গানায় ফের কায়েম হতে চলেছে চন্দ্রশেখর রাওয়ের রাজত্ব।
সব মিলিয়ে পাঁচ রাজ্যের মোট ৬৭৮টি আসনের মধ্যে বিজেপি পেয়েছে মাত্র ১৯৯টি। শতকরা হিসাবে ৩০ শতাংশ আসনও পায়নি বিজেপি। আসন্ন লোকসভা নির্বাচনের আগে ভারতের ক্ষমতাসীন দলের এই পরাজয় স্বাভাবিকভাবেই নেতাদের মাথা ব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দলের ভেতরে ও বাইরে প্রশ্ন উঠছে এই পরাজয়ের দায় কার?
ছত্তিসগড়ের বিদায়ী মূখ্যমন্ত্রী রমন সিং জানিয়ে দিয়েছেন, রাজ্যে দলের বিপর্যয়ের সমস্ত দায়িত্ব নিজের কাঁধেই নিচ্ছেন তিনি। তার নেতৃত্বেই দল লড়েছে এবং হেরেছে। মধ্যপ্রদেশের বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীও বলছেন একই কথা। হারের জন্য কোনোভাবেই বিজেপির ‘ডাবল ইঞ্জিন’ হিসেবে খ্যাতদের (নরেন্দ্র মোদি-অমিত শাহ) দায়ী করা যাবে না। এই হারের দায় তাদের নিজের।
তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, নরেন্দ্র মোদি কিংবা অমিত শাহ, কোনো নেতাকেই এই বিপর্যয়ের জন্য কাঠগড়ায় দাঁড় করানো যাবে না। যদিও মোদি সে কথা বলছেন না। নেতৃত্বের শীর্ষস্থানে থাকার সুবাদে পাঁচ রাজ্যের নির্বাচনে দল ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার দায় যে তাকেও নিতে হবে সেটা আড়াল করলেন না তিনি। কেন্দ্রে ক্ষমতায় আসার পর এটাই তার সবচেয়ে বড় পরাজয়। ধাক্কাও বটে। তাইতো চতুর এই রাজনীতিবিদ সত্যটা মেনে নিয়ে টুইট বার্তায় জানালেন, ‘জয়-পরাজয় জীবনেরই অংশ।’
তবে তিনি জানেন, এই ফলে ভেঙে পড়লে চলবে না। লোকসভা নির্বাচনের আগে দলের কর্মীদের চাঙ্গা করতেই হবে। আর সে কারণেই এমন মন্তব্য করলেন তিনি।

Share