মুহাম্মদ নাজিম উদ্দিন

চট্টগ্রামের ১৬ আসনে ২৪টি দলের অংশগ্রহণে সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশে শুরু হয়েছে নির্বাচনী প্রচারণা। রাজনৈতিক দল, জোট বা স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তাদের কর্মী-সমর্থকেরা ২৬টি প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছেন। গতকাল প্রচার-প্রচারণার প্রথম দিনেই উৎসাহ-উদ্দীপনা পরিলক্ষিত হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপিসহ বিভিন্ন দলের অধিকাংশ মাজার ও পূর্বপুরুষের করব জেয়ারতের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা শুরু করেন। শুরু হয়েছে পোস্টার, ব্যানার সাঁটানো ও লিফলেট বিতরণ। গত সোমবার প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়। ১৬ আসনে ১১৪ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়। গতকাল প্রথমদিনে জমে ওঠেছে নির্বাচনের আমেজ।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল সকাল সাড়ে ৯টার দিকে শাহ আমানতের (রাহ.) মাজার জেয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেন। বিএনপির হেভিওয়েট প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমানও সাড়ে ১০টার দিকে শাহ আমানতের (রাহ.) মাজার জেয়ারত করে প্রচারণা শুরু করেন। ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী নঈমুল ইসলামও শাহ আমানতের (রাহ.) মাজার জেয়ারতের মাধ্যমে প্রচারণা শুরু করেন। নোমান, নওফেল ছাড়াও নগরী ও জেলার আরও কয়েকজন প্রার্থী শাহ আমানতের (রাহ.) মাজার জেয়ারত করে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেন।
বিএনপির প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, আওয়ামী লীগের ডা. আফছারুল আমীনও জোরেশোরে প্রচারণা শুরু করেন। তারা বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকায় গণসংযোগ ও প্রচারণা চালান।
নগরী ছাড়াও জেলার বিভিন্ন আসনে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা মাজার ও পূর্বপুরুষের কবর জেয়ারতের মাধ্যমে প্রচার-প্রচারণা-গণসংযোগ শুরু করেন। রাজনৈতিক নেতাকর্মী ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রচারণা শুরু করেন প্রার্থীরা।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ১৬ আসনে ১১৪ প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। দেশের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো এবং নির্বাচন কমিশনে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত দলগুলো একক ও জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। নির্বাচনে ২৪টি রাজনৈতিক দল দলীয়-জোটের প্রতীক নিয়ে ভোটের মাঠে নেমেছে। এছাড়াও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জন্য রয়েছে স্বতন্ত্র প্রতীক। ২৬টি প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে লড়ছেন ১০৮ প্রার্থী।
প্রচারণার শুরুতে ছিল সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ। বিএনপি ও আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমান ও ব্যারিস্টার মুহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের মাজার জেয়ারত এবং কোলাকুলির মধ্য দিয়ে শুরু হয় চট্টগ্রামের ভোটের হাওয়া।
গত দশম জাতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাঠে ছিল সাতটি দল। প্রার্থী ছিলেন ২৫ জন। গতবারের চেয়ে এবার প্রার্থীসংখ্যা চার দশমিক ৫৬ গুণ বেড়েছে। ওই নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক কয়েকটি দলের অংশগ্রহণ না থাকায় নির্বাচনী মাঠ ছিল অনেকটা নিরুত্তাপ। আসন্ন নির্বাচনে সকল দলের অংশগ্রহণে শুরু থেকেই জমজমাট ও উৎসবমুখর পরিবেশ ছিল। ১০ বছর পর ভোটের মাঠে এই পরিবেশ পরিলক্ষিত হয়। ঘরে ঘরে গিয়ে প্রার্থী ও কর্মী-সমর্থকেরা ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।
আসন্ন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা নিয়ে লড়ছেন ১৫ জন প্রার্থী। হাটহাজারী আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জোটের শরিকদল জাতীয় পার্টির ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ লড়বেন জাতীয় পার্টির প্রতীক লাঙ্গল নিয়ে। বিএনপির
দলীয় প্রতীক ধানের শীষে লড়বেন ১৫ জন প্রার্থী। ২০ দলীয় জোটের শরিকদল এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) ড. অলি আহমদ বীরবিক্রম লড়বেন দলীয় প্রতীক ছাতা নিয়ে। এছাড়াও লাঙ্গল প্রতীক নিয়ে ৬ আসনে জাতীয় পার্টি, মোমবাতি প্রতীকে ১১ আসনে ইসলামী ফ্রন্ট, চেয়ার প্রতীকে ১০ আসনে ইসলামিক ফ্রন্ট, হাতপাখা নিয়ে ১৬ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, টেলিভিশন প্রতীকে চার আসনে বিএনএফ, বটগাছ নিয়ে চার আসনে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, আপেল ও সিংহ প্রতীকে ৭ স্বতন্ত্র প্রার্থী, মিনার প্রতীকে ইসলামী ঐক্যজোটের প্রার্থী, খেজুরগাছ প্রতীকে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ, দেয়ালঘড়ি নিয়ে খেলাফত মজলিস, কাস্তে নিয়ে তিন আসনে বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি, কুঁড়েঘর প্রতীকে তিন আসনে ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টির (ন্যাপ), মই প্রতীকে বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) দুই আসনে, গামছা প্রতীকে এক আসনে কৃষক শ্রমিক জনতা লীগ, উদীয়মান সূর্য প্রতীক গণফোরাম তিন আসনে, তাঁরা প্রতীকে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জেএসডি) এক আসনে, ফুলের মালা প্রতীক নিয়ে এক আসনে তরিকত ফেডারেশন, হাত-পাঞ্জা নিয়ে বাংলাদেশ মুসলিম লীগ এক আসনে, কোদাল প্রতীক নিয়ে বাংলাদেশ বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি দুই আসনে, বাইসাইকেল নিয়ে জাতীয় পার্টির (জেপি) এক আসনে লড়ছেন দলীয় প্রার্থীরা।
বিএনপির নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট দশম জাতীয় সংসদ বর্জন করলেও আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে জোটটি। এতে সব দলের অংশগ্রহণে ইতিমধ্যেই উৎসবে রূপ নিয়েছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন।
চট্টগ্রাম-১ (মিরসরাই) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন (নৌকা) ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থী নুরুল আমিন (ধানের শীষ) প্রধান দুই দল ছাড়াও প্রার্থী রয়েছেন ৬ জন।
চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) সংসদীয় আসনে মহাজোটের শরিক দল তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী (নৌকা), বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মো. আজিম উল্লাহ বাহার (ধানের শীষ) ও স্বতন্ত্র প্রার্থী উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এটিএম পেয়ারুল ইসলাম (আপেল) ও ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী শাহজাদা সৈয়দ সাইফুদ্দিন আহমদ মাইজভান্ডারী (মোমবাতি) ছাড়াও প্রার্থী আছেন ৭ জন।
চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মাহফুজুর রহমান মিতা (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোস্তফা কামাল পাশা (ধানের শীষ) ছাড়াও ৫জন প্রার্থী রয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকু-) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী দিদারুল আলম (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. ইসহাক চৌধুরী (ধানের শীষ) ৬ প্রার্থী আছেন।
চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোটের শরিকদল জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ (লাঙ্গল), ২০ দলীয় ঐক্যজোট প্রার্থী বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহীমসহ (ধানের শীষ) মাঠে আছেন ১০ জন প্রার্থী।
চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী (নৌকা) ছাড়াও মাঠে আছেন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জসীম উদ্দিন সিকদার (ধানের শীষ), ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আব্দুল আলী (হাতপাখা)।
চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া-বোয়ালখালী আংশিক) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ড. মোহাম্মদ হাসান মাহমুদ (নৌকা), ২০ দলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থী এলডিপির মো. নুরুল আলমসহ (ধানের শীষ) ৬ জন।
চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন জাসদের মইনউদ্দীন খান বাদল (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মোহাম্মদ আবু সুফিয়ান (ধানের শীষ), স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান মাহমুদ চৌধুরী (আপেল) ছাড়াও ৯ জন প্রার্থী রয়েছেন।
চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালী-বাকলিয়া) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেনসহ (ধানের শীষ) ৮ প্রার্থী।
চট্টগ্রাম-১০ (ডবলমুরিং, পাহাড়তলী, খুলশী, হালিশহর) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী ডা. মো. আফছারুল আমীন (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আবদুল্লাহ আল নোমানসহ (ধানের শীষ) আটজন।
চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এম আবদুল লতিফ (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী (ধানের শীষ), ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী এম এ মতিনসহ (মোমবাতি) সাতজন প্রার্থী।
চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী সামশুল হক চৌধুরী (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী মো. এনামুল হকসহ (ধানের শীষ) ছাড়াও আটজন প্রার্থী রয়েছেন।
চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা-কর্ণফুলী) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সরওয়ার জামাল নিজাম (ধানের শীষ), বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী মাওলানা এম এ মতিনসহ (মোমবাতি) প্রার্থী রয়েছেন আটজন।
চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ-সাতকানিয়া) সংসদীয় আসনে ২০ দলীয় জোটের শরিক এলডিপির চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম (ছাতা), আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী নজরুল ইসলাম চৌধুরী (নৌকা) ছাড়া মাঠে আছেন নয়জন প্রার্থী।
চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভী (নৌকা), ২০ দলীয় ঐক্যজোটের আ ন ম শামসুল ইসলাম (ধানের শীষ), ছাড়াও আছেন ৫জন প্রার্থী।
চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) সংসদীয় আসনে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী (নৌকা), বিএনপি মনোনীত প্রার্থী জাফরুল ইসলাম চৌধুরী (ধানের শীষ), জাতীয় পার্টির মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী উপজেলা জামায়াতের আমির জহিরুল ইসলাম (আপেল) ছাড়াও নয়জন প্রার্থী রয়েছেন।

Share
  • 45
    Shares