এসএম মোরশেদ মুন্না, নাজিরহাট

ফটিকছড়িতে আওয়ামীলীগ ও অংগ সংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষে ঘটনা ঘটেছে। গতকাল (১০ ডিসেম্বর) উপজেলার নানুপুর ইউনিয়নের নানুপুর বাজারে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ১০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। আহদের মধ্যে ৬ জনই গুলিবিদ্ধ। এ ঘটনায় ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও স্থানীয় সূত্রে ৭ জনের নাম পরিচয় পাওয়া গেছে। আহতরা হলেন : নানুপুর লায়লা কবির কলেজ ছাত্রলীগ নেতা সৌরভ (২৫), নানুপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক আজম (৩৮), সাবেক নাজিরহাট কলেজ ছাত্রলীগের জিএস আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস (৪৫), নানুপুর ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা কাকন (২৭), নানুপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগ কর্মী রাসেদ (২৬), নাজিরহাট পৌরসভা যুবলীগ নেতা আজম (২৭) ও নানুপুর ইউনিয়নের আওয়ামীলীগের সদস্য সৈয়দ এমদাদ হোসেন।
আহতদের মধ্যে গুলিবিদ্ধ আব্দুল কুদ্দুস, সৌরভ, সৈয়দ এমদাদ, কাকন ও রাসেদকে চমেক হাসপাতালে স্থানন্তর করা হয়েছে। মূলত মহাজোট প্রার্থী নজিবুল বশর মাইজভা-ারী ও আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী পেয়ারুল ইসলামের সমর্থকদের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে।
জানা গেছে, গতকাল (১০ ডিসেম্বর) সন্ধ্যার দিকে কে বা কারা ধর্মপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক কাজি মাহামুদুল হককে আজাদি বাজারস্থ তার বাসার সামনে সন্ধ্যা ৬টার দিকে নৌকার পক্ষে কাজ করতে হবে, না করলে রক্তাক্ত করা হবে ইত্যাদি বলে হুমকি-ধমকি প্রদান করে। এই খবরে আওয়ামী লীগ নেতা স্বতন্ত্র প্রার্থী এটিএম পেয়ারুল ইসলাম ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নাজিম উদ্দিন মুহুরী আজাদী বাজারে কাজি মাহামুদুল হকের বাসায় গিয়ে ঘটনার খোঁজ-খবর নেন। এক পর্যায়ে আজাদি বাজারে পেয়ারুল ইসলামের সমর্থনে মানুষ জড়ো হয়ে বাজারে মিছিল সভা করেন। পেয়ারু ও নাজিম সাড়ে ৭টার দিকে আজাদী বাজার ত্যাগ করে নানুপুর বাজারে আসেন। তাতেও পেয়ারুর সমর্থনে নেতা কর্মীরা জড়ো হয়ে মিছিল করে বাজার প্রদক্ষিণ করেন। অপরদিকে গতকাল বিকালে নাজিরহাট ঝংকার মোড়ে আওয়ামী লীগের একটি পক্ষ নৌকার সমর্থনে স্থানীয় সাংবাদিকদের নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে। সংবাদ সম্মেলন শেষ হতে সন্ধ্যা গড়িয়ে যায়। ওই সংবাদ সম্মেলনশেষে দক্ষিণ ফটিকছড়ির আওয়ামীলীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের কর্মীরা মিছিল করে বাড়ি ফিরছিলেন। তাদের মিছিলটি নানুপুর বাজারের মির্জা মসজিদের সামনে আসলে পেয়ারু সমর্থকদের মিছিলের মুখোমুখি হয়। এতে উভয়ের মধ্যে সংঘর্ষ লেগে যায়। এসময় পেয়ারু সমর্থক নানুপুর ইউনিয়ন যুবলীগ সাধারণ সম্পাদক আজকে মারধর করা হয়েছে বলে জানা যায়।
নাজিরহাট পৌরসভা যুবলীগের আজম জানান, আমি নিজ চোখে দেখেছি নাজিম মুহুরী তার গাড়ি থেকে সাটারগান দিয়ে গুলি করেছে। তার গুলিতে সবাই আহত হয়েছে।
আহত আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল কুদ্দুস জানান, সংবাদ সম্মেলন শেষ করে বাড়ি ফিরছিলাম। নানুপুর বাজারে আমাদের ওপর পেয়ারুর সমর্থকরা হামলা করে। নাজিম মুহুরী তার গাড়ি থেকে গুলি করেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, মিছিল দুটি মুখোমুখি হলে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে স্থানীয়রা গুলির শব্দ শুনেছেন, তবে কে করেছে কারা করেছে তা দেখেননি বলে জানান।
নাজিরহাটস্থ ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্্েরর চিকিৎসক ডা. ফুয়াদ জানান, রাত ৯টার দিকে ওই ঘটনায় আহত ৬ জন চিকিৎসা নিতে আসেন। তারা সবাই গুলিবিদ্ধ। তাদের শরীরে গুলির স্প্রিংটার আছে। ৫ জনকেই চমেকে প্রেরণ করা হয়েছে।

Share
  • 191
    Shares