আবু মনসুর

বাংলাদেশের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি ঐতিহাসিক দিন ৭ মার্চ। এ দিনে বাঙলির অবিসংবাধিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রদত্ত ভাষণ বিশ্ব ইতিহাসের সেরা ১০ ভাষণের মধ্যে অন্যতম ভাষণ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বিকেলে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন রেসকোর্স ময়দানের বিশাল সমাবেশের মঞ্চে দাঁড়িয়ে চিরবঞ্চিত বাঙালিকে পাকিস্তানী শাসক-শোকদের বিরুদ্ধে মুক্তির সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়ার যে ডাক দিয়েছিলেন সেই ডাকে সাড়া দিয়ে বাঙালিরা পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে মরণপণ লড়াইয়ে অবতীর্ণ হয়ে সামিল হয়েছিল মুক্তির সংগ্রামে। সাড়ে সাত কোটি মানুষকে জাতীয় চেতনায় উদ্বেলিত ও ঐক্যবদ্ধ করে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের মাধ্যমে অধিকার আদায়ের লড়াইয়ের তিনি নিয়ে এসেছিলেন মুক্তিরবারতা। সে দিনের সে ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমেই বর্বর সামরিক শক্তির মুখোমুখি হয়ে নতুন বাংলাদেশকে আগামীর পথে অগ্রসর হওয়ার শক্তি যুগিয়েছিলেন। তাই এ ভাষণ বাঙালি জাতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ দলিল।
এ ভাষণ এ দেশের মানুষকে এবং পরবর্তী প্রজন্মগুলোকে অনুপ্রাণিত করছে। এ ভাষণ কোনো নির্দিষ্ট দলের একক সম্পদ নয়। তাই তো ঘরে ঘরে আজও শোনা যায় দরাজ কণ্ঠের আহ্বান। শিশুরা এখনো অনুকরণ করে বঙ্গবন্ধূকে। এনাম হোসেন নামের এক শিশুর কণ্ঠে ৭ই মার্চের ভাষণ তো গণমাধ্যমেও অনেকবার প্রচারিত হয়েছে। এইটুকু এক শিশুর কণ্ঠে ১৮ মিনিট দীর্ঘ ভাষণ যে শুনেছে, মুগ্ধ হয়েছে। প্রথমে নানা, নানি, দাদা, দাদি বা বাবা কিংবা মায়ের কাছ থেকে শোনা, তারপর ক্যাসেট বা সিডিতে শুনে শুনে ঐতিহাসিক সেই ভাষণ মুখস্থ করে ফেলা শিশু এখন অনেক আছে বাংলাদেশে। আমরাও ছোট বেলায় পড়ন্ত বিকেলে,
দুপুরে, সকালে যে কোন সময় স্কুলে কিংবা ঘরে বলতাম ‘এবারের সংগ্রাম, আমাদের মুক্তির সংগ্রাম’ যখন এই বাক্য গুলো বলতাম তখনও কিন্তু জানতাম না, এতটুকু বুজ ছিল যে এটি কার ভাষণ ? মনের মাঝে বার বার নাড়া দিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষণ। আর এখন কার শিশুরাও এই ভাষণের প্রতি প্রলোভন থেমে নেই ইতিমধ্যে বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে শিশুরা বঙ্গবন্ধু সাজ-সজ্জায় সেজে বঙ্গবন্ধু’র সেই ভাষণ তাদের মুখে কতই না মনমুগ্ধ লাগে তার কোন সীমা নেই। এভাবে প্রজন্ম হতে প্রজন্ম “যতকাল রবে পদ্মা যমুনা/ গৌরী মেঘনা বহমান/ ততকাল রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান..”।

Share