পূর্বকোণ স্পোর্টস ডেস্ক

বাংলাদেশ দলের পাঁচ তারকা ক্রিকেটার মাশরাফি, সাকিব, তামিম, মুশফিক ও রিয়াদকে একসাথে খেলছেন প্রায় এক যুগ ধরে। এই পঞ্চপা-বের মধ্যে সবচেয়ে সিনিয়র মাশরাফি বিন মর্তুজা। এই পাঁচজনই খেলেছেন এখন পর্যন্ত এমন ম্যাচের সংখ্যা ৯৯টি। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে তিন ম্যাচ ওয়ানডে সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে এই পাঁচজন মাঠে নামলেই করে ফেলবেন বিশেষ সেঞ্চুরি। বিশ্বে এমন ঘটনা বিরল। টেস্টে এই পাঁচজনই খেলেছেন এমন ম্যাচ এখন পর্যন্ত হয়েছে একটি। ওয়ানডেতে এমন ম্যাচ হয়েছে ৬৯টি। আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয়েছে ২৯টি। অর্থাৎ, তিনি ফরম্যাট মিলিয়ে তারা এখন পর্যন্ত একই সঙ্গে ৯৯টি ম্যাচ খেলেছেন। আজ পঞ্চপা-ব মাঠে নামলে একসঙ্গে ১০০টি ম্যাচ খেলার ইতিহাস গড়বেন। বিশ্বে এখন পর্যন্ত এমন ৬৪টি পঞ্চপা-বের দেখা মিলেছে। বাংলাদেশে সাধারণত ক্রিকেটারদের একটু বয়স হয়ে গেলেই দল থেকে ছেটে ফেলা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) এই পাঁচ ক্রিকেটারকে দীর্ঘ সময় ধরে সুযোগ দিয়েছে। কারণ এদের হাত ধরেই বাংলাদেশের ক্রিকেটে এসেছে বিশাল অর্জন। তারা প্রত্যেকেই ফর্মে রয়েছেন। পঞ্চপা-বের এক ওয়ানডে অধিনায়ক মাশরাফি মনে করেন, সিনিয়রদের নিয়মিত পারফরম্যান্স এবং তাদের মধ্যে ভালো বোঝাপড়া তার অধিনায়কত্বকে আরো সহজ করে দিয়েছে। তিনি বলেছেন, ‘তারা সবাই নিয়মিত পারফর্মার। নিশ্চিতভাবে এটি আমার কাজকে আরো সহজ করে দেয়। সাকিব এক্সট্রাওর্ডিনারি খেলোয়াড়। তাকে নিয়ে আলাদা করে বলার কিছু নেই। মুশফিক কোয়ালিটি প্লেয়ার। তামিম এবং রিয়াদও অসাধারণ। তারা যতো সময় গিয়েছে ততো বুঝেছে যে, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তাদের কেমন খেলতে হবে। তাদের সম্পর্কে বেশি ব্যাখ্যা করার কিছু নেই।’ তামিম ইকবাল বিশেষ এই সেঞ্চুরি নিয়ে বলেছেন, ‘অবশ্যই এটি বিশেষ কিছু। গত ১৫ বছর ধরে আমরা একে অপরকে চিনি। আশা করি বিশেষ কিছুর মাধ্যমে আমরা দিনটিতে স্মরণীয় করে রাখব। সাকিব, মুশফিক ও আমার চেয়ে মাশরাফি ভাই ও রিয়াদ ভাই বয়সে বড়। অনূর্ধ্ব-১৫ সময় থেকে আমরা তিনজন খেলছি। আমাদের মধ্যে সম্পর্ক দারুণ। আমরা সব বিষয় শেয়ার করি। সাকিব ও মুশফিকের সঙ্গে আমার বন্ধু সম্পর্ক। কিন্তু মাশরাফি ভাই এবং রিয়াদ ভাইয়ের সঙ্গেই আমার বেশি সময় কাটে। আমাদের সবার মধ্যে সম্পর্ক অনেক গভীর।’ ২০০১ সালের নভেম্বরে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন মাশরাফি বিন মর্তুজা। তিনি এখন পর্যন্ত ৩৬টি টেস্ট, ২০০টি ওয়ানডে ও ৫৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০০৬ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচের মাধ্যমে আর্ন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় সাকিব আল হাসানের। সাকিব আল হাসান এখন পর্যন্ত ৫৫টি টেস্ট, ১৯৩টি ওয়ানডে ও ৬৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০০৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন তামিম ইকবাল। তিনি এখন পর্যন্ত ৫৬টি টেস্ট, ১৮৪টি ওয়ানডে ও ৬৮টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০০৭ সালের জুলাইয়ে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ওয়ানডে ম্যাচের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিষেক হয় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। তাকে বলা হয় বাংলাদেশ দলের ‘আনসাং হিরো’। কেউ বলেন ‘সাইলেন্ট কিলার’। রিয়াদ এখন পর্যন্ত ৪৩টি টেস্ট, ১৬৬টি ওয়ানডে ও ৭৩টি টি- টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। ২০০৫ সালের মে মাসে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট ক্রিকেটের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে পা রাখেন মুশফিকুর রহিম। তিনি এখন পর্যন্ত ৬৬টি টেস্ট, ১৯৬টি ওয়ানডে ও ৭৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন।

Share