নীড়পাতা » প্রথম পাতা » বায়েজিদে পানির নমুনা সংগ্রহ ওয়াসা ও চসিক স্বাস্থ্যবিভাগের

পানি ফুটিয়ে পান করার পরামর্শ

বায়েজিদে পানির নমুনা সংগ্রহ ওয়াসা ও চসিক স্বাস্থ্যবিভাগের

নিজস্ব প্রতিবেদক

বায়েজিদের ডায়ারিয়া কবলিত এলাকা পরিদর্শন করে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছে চট্টগ্রাম ওয়াসা এবং সিটি কর্পোরেশনের স্বাস্থ্য বিভাগ। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী এয়াকুব মোহাম্মদ সিরাজউদ্দৌল্লাহ এবং সিটি কর্পোরেশনর প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আক্তার চৌধুরীর নেতৃত্বে দুটি টিম এলাকা পরিদর্শন করে পানির নমুনা সংগ্রহ করেন। এসময় তারা ওই এলাকার পানি ফুটিয়ে পান করার পাশাপাশি পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।
জানতে চাইলে ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী এয়াকুব মোহাম্মদ সিরাজউদ্দৌল্লাহ জানান, ‘ওয়াসার একটি টিম গতকাল বৃহস্পতিবার বায়েজিদের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছে। এখন সেগুলো পরীক্ষা করছি। এলাকাবাসী বিষয়টি আমাদের আগে জানায়নি। যদি জানাতো, আমরা আরো আগে ব্যবস্থা গ্রহণ করতাম। বৃহস্পতিবার সকালে আমি নিজে একটি টিম নিয়ে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পানির নমুনা সংগ্রহ করেছি।’
তিনি আরো জানান, ‘নালা-নর্দমার ভিতরে তাদের পানির লাইনগুলো। ওয়াসার লাইনে কোনো সমস্যা নেই। তারা যে পাইপ লাইনগুলো সংযোগ দিয়েছে, সেখানে কোনো সমস্যা থাকতে পারে। কোন লাইন দিয়ে ময়লা পানি প্রবেশ করছে, মেশিন বসিয়ে তা খুঁজে বের করার চেষ্টা করছি। যারা ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে তাদের বাসায় গিয়ে অবাক হয়েছি। তাদের রান্নাঘরও খুব নোংরা। ডায়ারিয়ার এটাও একটা কারণ হতে পারে। সবাইকে পানি ফুটিয়ে পান করতে বলে দিয়েছি। ফুটানো ছাড়া যেন কেউ পানি পান না করে।’
চসিক’র প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সেলিম আক্তার চৌধুরী জানান, ‘বাংলাবাজার ও শেরশাহ এলাকায় কোনো একটা কারণে কিছু লোক ডায়ারিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে, এখানে আতঙ্কিত হওয়ার কোনকিছু নেই। আমার মনে হয় কাল-পরশুর দিকে ডায়ারিয়া বন্ধ হয়ে যাবে। তবে কি কারণে ডায়ারিয়া হচ্ছে তা এখনো জানা যায়নি বলে জানান তিনি।’
তিনি আরো জানান, ‘এখন সিজনাল একটা ডায়ারিয়া হতে পারে। এছাড়াও ডায়ারিয়াতো বিভিন্ন কারণে হতে পারে। তারমধ্যে পানিও একটা সোর্স। আমরা বৃহস্পতিবার ডায়ারিয়া কবলিত এলাকার পানির নমুনা সংগ্রহ করেছি। ওই এলাকা পরিদর্শনশেষে বলেছি, তারা যেন পানি ফুটিয়ে খায় এবং পরিস্কার পরিচ্ছন্ন থাকে।’
সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের অধ্যক্ষ এবং মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. জয়াব্রত দাশ জানান, গত বুধবার পাঁচ জন এবং বৃহস্পতিবার এক জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছে।’
মেরিন সিটি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল এবং সাউদার্ন মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী গত সাত দিনে দুইশ’র অধিক ডায়ারিয়া রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত মে মাসে হালিশহর এলাকায় ডায়ারিয়া ও জন্ডিসের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়।তখন ওই এলাকায় জন্ডিসে তিনজন মারা যায় এবং পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৩শ ছাড়িয়ে যায়।

Share