সেকান্দর আলম বাবর, বোয়ালখালী

দীর্ঘ এক দশক পর রাজনৈতিক কর্মসূচি আর নৌকাকে বিজয়ী করতে একমঞ্চে আসলেন মহাজোটের সাংসদ, বাংলাদেশ জাসদের কার্যকরী সভাপতি মঈন উদ্দিন খান বাদল ও দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দিন আহমেদ। গতকাল (বৃহস্পতিবার) বিকেলে গোমদ-ীর ফুলতলে একটি কমিউনিটি সেন্টারে উপজেলা আ.লীগের বর্ধিত সভায় তাঁরা একমঞ্চে বসে হাতে হাত মিলিয়ে নৌকাকে বিজয়ী করতে দৃঢ় প্রত্যয় ঘোষণা করেন।
এদিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দু’ নেতার এ ঐক্যে নেতাকর্মীদের মাঝে উৎসাহ দেখা গেছে। তবে নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে শেষ হাসি হাসা পর্যন্ত সবাই যেন মাঠে থাকে এমন পরিবেশ সৃষ্টি করার দাবি ছিল বর্ধিত সভায় আগত অনেকের। এরপূর্বে ২০০৮ সালে উপজেলা সদরের একটি কমিউনিটি সেন্টারে একই ধরণের নির্বাচনী সভায় একমঞ্চে এসে নৌকার বিজয়ে কাজ করার ঘোষণা দিয়েছিলেন তাঁরা। ওইসময় দক্ষিণ জেলা আ. লীগের সহ-সভাপতি এস এম আবুল

কালামও ছিলেন। উক্ত নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী মঈন উদ্দিন খান বাদল চারদলীয় ঐক্যজোটের প্রার্থীকে পরাজিত করে সাংসদ নির্বাচিত হয়েছিলেন।
তথ্যমতে, দীর্ঘসময় ধরে মোছলেম-বাদলের দূরত্বে বরফ গলতে শুরু করে গত ২৯ নভেম্বর, যখন সাংসদ বাদল যখন মোছলেমের বাসায় যান। এরই ধারাবাহিকতায় দ্বিধাবিভক্ত বোয়ালখালী আওয়ামী লীগ গতকাল (বৃহস্পতিবার) ঐক্যবদ্ধ হয়ে জেলা অনুমোদিত উপজেলা আ. লীগের ব্যানারে বর্ধিত সভার আয়োজন করে। এতে উপস্থিত ছিলেন দু’ নেতা। দেখা গেছে, গত দুইদিন এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নেতাকর্মীরা উৎসাহ নিয়ে বর্ধিত সভার অপেক্ষায় থাকে।
গতকাল দেখা যায়, উপজেলা যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবকলীগ, শ্রমিকলীগ, কৃষকলীগ, মহিলা আ. লীগ, পৌর আ. লীগ, ছাত্রলীগ পৃথক পৃথক ব্যানারে মিছিল সহকারে যোগদান করে। এসময় তারা মোছলেম উদ্দিনের নেতৃত্বে আ. লীগ ঐক্যবদ্ধ বলে স্লোগান দেয়। অপরদিকে দক্ষিণ জেলা আ. লীগ নেতা রেজাউল করিম বাবুল এককভাবে বিশাল মিছিল নিয়ে সভাস্থলে প্রবেশ করেন। দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এস এম আবুল কালাম সমর্থিত নেতাকর্মীরা মিছিলবিহীন স্ব স্ব উদ্যোগে সভায় যোগ দিতে দেখা গেছে। দীর্ঘদিন পর তারা একত্রিত হলেও কেউ কারো বিরুদ্ধে বিষোদগার করতে দেখা যায়নি।
সভায় মোছলেম উদ্দিন আহমেদ বলেন, আমরা নৌকা ও শেখ হাসিনার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ। আমাদের মধ্যে কোনো বিভেদ নেই। আমি বাদলকে আহ্বান করব, আমরা একে অপরের হাত ধরে কাজ করলে ইনশাল্লাহ চট্টগ্রামে সবচেয়ে বেশি উন্নয়ন হবে বোয়ালখালীতে। তিনি বলেন, দীর্ঘ ১০টি বছর যারা বাদলের পাশে থেকে কাজ করতে পারেনি, তাদের সুযোগ করে দেবেন তিনিই। বোয়ালখালীতে শেখ হাসিনা সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরে তিনি বলেন, আমরা নদী ভাঙ্গনরোধ করেছি, ফায়ার সার্ভিস স্টেশন করেছি, কানুনগোপাড়া কলেজকে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ করেছি, পৌরসভা করেছি, মিলিটারি ব্রিজ করেছি, রাস্তাঘাটের ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। কালুরঘাট ব্রিজ সমন্ধে তিনি বলেন, আপনারা যদি নৌকায় ভোট দেন, তবে নির্বাচনের ছয় মাসের মধ্যে কালুরঘাট ব্রিজের কাজ শুরু করব।
তিনি বলেন, ৬০ বছরের কাজ ১০ বছরে শেষ করা সম্ভব নয়। তিনি মোরশেদ খানসহ বিএনপি’র বিষোদগার করে বলেন, আমরা প্রক্রিয়া শুরু করেছি কালুরঘাট ব্রিজ নির্মাণের, তারা কেন দীর্ঘ সময় ক্ষমতায় থেকে ওইসময় সাড়ে চার শ কোটি টাকা দিয়ে ব্রিজ নির্মাণ করেনি ? এসময় তিনি কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, আল্লাহ হয়তো আমাকে এমপি হওয়া কপালে দেয়নি। হয়তো এভাবেই কবরে যাব। নেত্রী বাদলকে মনোনয়ন দিয়েছে, আপনারা দীর্ঘ সময় মাঠে কাজ করেছেন আমার জন্য, এখন আমাদের কাঁধে যেন এ অপবাদ না আসে মোরশেদ খানদের কাছে বিক্রি হয়েছে আ. লীগ।
এসময় নেতা কর্মীদের অনেকেই বেদনায় কেঁদে ফেলেন।
সভায় মহাজোটের প্রার্থী মঈন উদ্দিন খান বাদল বলেন, আমি আর মোছলেম ভাই ভাই। আমি বলব, নির্বাচন আমার নয়, নির্বাচন অস্তিত্বের, নির্বাচন নৌকার, নির্বাচন শেখ হাসিনার।
বর্ধিত সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আ. লীগের সভাপতি নুরুল আমিন চৌধুরী। সাধারণ সম্পাদক এস এম জহিরুল আলম জাহাঙ্গীরের পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন দক্ষিণ জেলা আ. লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান, শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক বোরহান উদ্দিন মো. এমরান, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আবদুল কাদের সুজন, নির্বাচন সমন্বয়কারী নুরুল আলম রাজা, দ. জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি বোরহান উদ্দিন। এসময় উপস্থিত ছিলেন সাংসদ পত্নী সেলিনা খান বাদল, দ. জেলা আ. লীগের সমাজ কল্যাণ সম্পাদক শাহ নেওয়াজ হায়দার শাহিন, এডভোকেট আবুল হাশেম, ছৈয়দুল আলম, ইয়াছিন আরাফাত কচি প্রমুখ।

Share
  • 105
    Shares