সৌমিত্র চক্রবর্তী , সীতাকু-

সীতাকু- : উন্নয়ন-বঞ্চনা ও প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির হিসাবনিকাশ
শত শত একর জমি অনাবাদী পড়ে আছে একটি রাবার ড্যামের কারণে। অপরিকল্পিতভাবে নির্মিত অকেজো রাবার ড্যাম সীতাকু- পৌরসভা ও তিন ইউনিয়নের লাখো মানুষের রাতে ঘুম কেড়ে নিয়েছে। এমনভাবে র‌্যাবার ড্যামের গেটের সুইচ আটকে আছে এটি ওপরেও উঠে না আবার নীচেও নামেনা। এ কারণে শুকনো মৌসুমে চাষাবাদের পানি আটকেও রাখা যায় না। আবার সাগরের লোনা পানি আসা বন্ধও করা যাচ্ছে না। এতে গত দুই যুগ ধরে আশপাশের শত শত একর জমি অনাবাদী পড়ে আছে। তাই কৃষিপ্রধান এলাকার মানুষগুলোর জীবন যেন অভিশপ্ত হয়ে পড়েছে।
কথাগুলো বলছিলেন সীতাকু- উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার মো. আলীম উল্লাহ ভূঁইয়া। তিনি পূর্বকোণকে বলেন, আমাদেরকে অনেক স্বপ্ন দেখিয়ে রাবার ড্যামটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সে সময় বলা হয়েছিল এই সøুইচ গেট বন্ধ করে বৃষ্টির পানি ধরে রেখে শুকনো মৌসুমে চাষের জমিতে সরবরাহ করা হবে। আর পানি খালে আটকে রাখলে মাছ চাষসহ নানা সুবিধা পাবে মানুষ। আসলে এটি একটি সেচ প্রকল্প হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে হয়েছে ঠিক উল্টোটা। এই অকেজো

গেটটি এখন আমাদের জন্য অভিশাপে পরিণত হয়েছে। নির্মাণের পরেই ড্যামের গেটটির তিনটি দরজা অকেজো হয়ে যায়। এখানে পানি সংরক্ষণও করা যাচ্ছে না, আবার পাহাড়ি ঢলের সময় পানির স্রােতও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সীমান্ত এলাকার এই খালের চারপাশে তিনটি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ, কৃষক, মৎস্যজীবী ও পোল্ট্রি খামারিরা চরম ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। এ নিয়ে গত দুই যুগে বহু দেন-দরবার করেও এলাকাবাসী এই অভিশাপ মুক্ত হতে পারেনি।
মুক্তিযোদ্ধা আলীম উল্লাহর বাড়ি সীতাকু-ের মুরাদপুর ইউনিয়নের বসরতনগর গ্রামে। তার গ্রামের উত্তর পাশ দিয়েই বয়ে গেছে বসরতনগর ছোটকুমিরা খাল নামক ঐ খালটি। খালটির সৈয়দপুর, পৌরসভা ও মুরাদপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায়। ফলে এর অকেজো রাবার ড্যামের প্রভাব পড়ে এই তিন ইউনিয়নের লাখ মানুষের জীবনে। জানা যায়, ১৯৯১ সালের পর এটি নির্মাণ করা হয়েছিল। অপরিকল্পিতভাবে খালের ওপর রাবার ড্যাম তৈরি করায় এটি এলাকাবাসীর জন্য আশীর্বাদ না হয়ে অভিশাপে পরিণত হয়েছে। বর্ষা ও শীত দুই মৌসুমেই স্লুইচ গেটটি তাদেরকে চরম ভোগাচ্ছে। বসরতনগরের বাসিন্দা কৃষক মোঃ.নূর হোসেন, কেদারখীলের মো. আলমগীর হোসেনসহ এলাকাবাসী জানান, রাবার ড্যামটির কারণে এই এলাকার শত শত একর জমি অনাবাদী হয়ে আছে। ফলে আমরা কৃষকরা বঞ্চিত হচ্ছি। রাবার ড্যামটি ভেঙে নতুন করে একটি স্লুইচ গেট নির্মাণ এখন আমাদের কাছে বড় স্বপ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছি। আগামী দিনে যিনি নির্বাচিত হবেন তিনি যেন গুরুত্বের সাথে এটি পুনঃনির্মাণ করে আমাদেরকে বাঁচান সেটাই আমার একমাত্র চাওয়া।
সরেজমিন বসরতনগর ছোটকুমিরা খালের এই রাবার ড্যাম পরিদর্শনকালে ঐ এলাকার বাসিন্দা সীতাকু- পৌরসভার কাউন্সিলর জুলফিকার আলী মাসুদ শামীম বলেন, এই একটি রাবার ড্যাম আমাদের অনেক ভোগাচ্ছে। আমরা এটি ভেঙে নতুন করে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখি। এ বিষয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য দিদারুল আলম দিদারের সহযোগিতা চেয়েছি। বিগত দিনেও আগের এমপি এবং জনপ্রতিনিধিদেরও সহযোগিতা চেয়েছিলাম। কিন্তু এটি এখনো হয়নি। এবার অবশ্য এমপি দিদারুল আলম কথা দিয়েছেন। নির্বাচিত হলে এটি অগ্রাধিকার ভিত্তিতে করা হবে। রাবার ড্যামের সমস্যা সমাধান হলে আমুল বদলে যাবে কৃষি ব্যবস্থা।
সৈয়দপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম নিজামী বলেন, এই একটি সøুইচ গেট নিয়ে আমরা সমস্যায় আছি। লাখ মানুষ অন্তহীন দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। সৈয়দপুর ছাড়াও মুরাদপুর ও পৌর এলাকার পানি প্রবাহিত হয়ে আমরা চরম কষ্টে আছি। সীতাকু- পৌরসভার মেয়র বদিউল আলমও বসরতনগর ছোটকুমিরা খালটি পৌর এলাকার শিবপুর, ইদিলপুর ও আমিরাবাদের মানুষের জন্য দুর্ভোগের কারণ বলে জানান।
এ বিষয়ে সীতাকু-ের সংসদ সদস্য দিদারুল আলম বলেন, রাবার ড্যামটি আমাদের এলাকার মানুষের প্রাণের দাবি। আমি এটির জন্য প্রক্রিয়া শুরু করেছি। ইতিমধ্যে এটি একনেকে অনুমোদনও হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমি এবার রাবার ড্যামের কাজটি করে এলাকাবাসীর স্বপ্ন পূরণ করতে চাই।

Share