নিজস্ব সংবাদদাতা , সীতাকু-

বর্তমান আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সীতাকু-ে প্রথম টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, একটি বেসরকারি কলেজ, বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ, রাস্তা-ঘাট সংস্কারসহ ব্যাপক উন্নয়ন কাজ হয়েছে। যা দীর্ঘমেয়াদী সুফল বয়ে আনবে এ এলাকার মানুষের জীবনযাত্রায়।
স্থানীয় লোকজন জানান, বর্তমান আ. লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার আগে সীতাকু-ের বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের বোয়ালিয়াকূল এলাকায় বিলীন হয়ে যাওয়া দুই কিলোমিটার দীর্ঘ বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ, উত্তর সীতাকু-ে একটি কলেজ স্থাপন, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন, বসরতনগর এলাকার কয়েক যুগের পুরোনো অকেজো রাবার ড্যাম ভেঙে পরিকল্পিত বাঁধ-ব্রিজ নির্মাণ, একটি হিমাগার নির্মাণের দাবিতে দরজায় দরজায় ঘুরেছে এলাকার মানুষ। প্রতিবার নির্বাচনের সময় তারা জনপ্রতিনিধিদের কাছে এসব

দাবিগুলো তুলে ধরতেন। জনপ্রতিনিধিরা আশ^াসও দিতেন। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হতো না। তবে কথায় আছে শেষ ভালো যার তার সব ভালো। স্বাধীনতার পর এতবছর ধরে অপূর্ণ হয়ে থাকা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জনদাবি পূরণ হয়েছে আ. লীগ সরকারের গত পাঁচ বছরে। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো বাঁশবাড়িয়া বেড়িবাঁধ নির্মাণ, শেখপাড়ায় টেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ, ছোটদারোগারহাটে কলেজ স্থাপন এবং বিভিন্ন রাস্তাঘাট সংস্কার প্রভৃতি, যা জনজীবনে ব্যাপক সুফল বয়ে আনবে বলে এলাকাবাসীর অভিমত।
বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. শওকত আলী জাহাঙ্গীর বলেন, আমার এলাকার বোয়ালিয়াকূল-আকিলপুর এলাকার সাগর উপকূলীয় দুই কি.মি. দীর্ঘ বেড়িবাঁধ ভেঙে উপকূল অরক্ষিত হয়ে পড়েছিল। ফলে জোয়ারের পানি ও বর্ষার জলোচ্ছ্বাসে এলাকার প্রতিটি বাড়ি ঘর প্লাবিত হয়ে থাকতো। ভেঙে যায় এলাকার রাস্তাঘাট। তাছাড়া লোনা পানি প্রবেশের কারণে এই এলাকার কৃষি জমিগুলো চাষাবাদের অযোগ্য হয়ে পড়ে। এ কারণে এলাকার সর্বস্তরের মানুষের প্রানের দাবি ছিল বেড়িবাঁধটি সংস্কার করা। বিষয়টি নিয়ে আমি স্থানীয় সংসদ সদস্যের সাথে কথা বললে তিনি বিষয়টির গুরুত্ব উপলব্ধি করে সরেজমিনে পরিদর্শন করেন এবং এর জন্য ৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ করান। ২০১৭ এর অক্টোবর মাসে বেড়িবাঁধ পুনঃনির্মাণ শুরু হয়। ২০১৯ এর জুন মাসে কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
বাঁশবাড়িয়া বোয়ালিয়াকূল গ্রামের জেলে রাজীব ও আকিলপুরের বাসিন্দা সুভাষ জলদাস বলেন, বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় আমরা বছরের পর বছর জোয়ারের পানিতে ডুবে থেকেছি। এছাড়া বর্ষায় পুরো গ্রামই প্লাবিত হয়ে থাকতো। ঘরে রান্না-বান্নাও বন্ধ হয়ে খাওয়া দাওয়া জুটতো না। কৃষি কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কাজটি শুরু হওয়ায় আমরা স্বস্তি পাচ্ছি। তাঁরা বলেন, কাজ অনেক দূর এগিয়েছে। আশা করি অল্পদিনের মধ্যেই কাজটি পুরোপুরি শেষ হয়ে আমাদের রক্ষা করবে।
এছাড়া গতবছর সীতাকু-ের বারৈয়াঢালা ইউনিয়নের ছোটদারোগারহাটে স্থাপিত হয়েছে তাহের-মনজুর কলেজ। এর আগে সীতাকু-ের উত্তর অংশে কোন কলেজ ছিল না। ফলে সীতাকু-ের এবং মিরসরাইয়ের ছোটকমলদহ পর্যন্ত এলাকা থেকে ১২-১৩ কিলোমিটার দূর অতিক্রম করে শিক্ষার্থীরা সীতাকু- বা নিজামপুর কলেজে পড়তে বাধ্য হতো। যা অনেক সময় ও ব্যয়সাপেক্ষ হওয়ায় দরিদ্র শিক্ষার্থীদের অনেকেরই উচ্চ শিক্ষা বন্ধ হয়ে যেত। এ বিষয়টি জানতে পেরে সংসদ সদস্য দিদারুল আলম তার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান মোস্তফা হাকিম ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ও অর্থায়নে ছোট দারোগারহাট এলাকায় তাহের-মনজুর কলেজ স্থাপন করেন। এই কলেজটি ২০১৭ সাল থেকে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে। এতে এলাকার শিক্ষার্থীরা বেশ উপকৃত হয়েছে বলে জানান ছোটদারোগারহাট লালানগর গ্রামের বাসিন্দা কলেজ শিক্ষার্থী মো. শফিউল আলম। তিনি বলেন, এর আগে আমাদের এলাকার সবাইকে সীতাকু- সদরে কিংবা মিরসরাইয়ের নিজামপুর গিয়ে পড়তে হতো। এই কলেজটি স্থাপন হওয়ায় মিরসরাইয়ের ছোটকমলদহ থেকে পৌরসদর পর্যন্ত এলাকার সকল শিক্ষার্থীই এখানে পড়ার সুযোগ পেয়ে উপকৃত হচ্ছে। এছাড়া এ সরকারের আমলে সীতাকু- পৌরসভার শেখপাড়া স্থাপিত হয়েছে এলাকার প্রথম পলিটেকনিক্যাল স্কুল এন্ড কলেজ। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে ইতিমধ্যে এর কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী এবিএম জয়নাল আবেদীন এবং উপ-সহকারী প্রকৌশলী দিলীপ কুমার নাথ জানান, দেড় একর জায়গার ওপর দুটি ভবনে এই কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজের কার্যক্রম চলবে। একটি ভবন হবে পাঁচ তলা এবং অপরটি চার তলাবিশিষ্ট। এরজন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ হয়েছে ১৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স এসএস ইঞ্জিনিয়ারিং এন্ড কনষ্ট্রাকশন চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস থেকে কাজটি করছে। আগামী ২০১৯ সালের জুলাই-আগস্টের মধ্যে কাজটি সম্পূর্ণরূপে হবে। শেখ পাড়া এলাকার বাসিন্দা মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, পুরো সীতাকু-ের কোথাও কোন কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না থাকায় প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষায় শিক্ষিত হলেও প্রযুক্তিগত শিক্ষা বঞ্চিত হতো শিক্ষার্থীরা। এ কারণে চাকুরির ক্ষেত্রে অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতো তারা। আর কারিগরি শিক্ষায় শিক্ষিত হতে হলে চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন স্থানে গিয়ে পড়াশুনা করতে হতো, যা এক কথায় ছিল কষ্টসাধ্য। তাই এই কলেজটিও ছিল প্রাণের দাবি। শেষ পর্যন্ত এটির কাজ শুরু হয়েছে বলে মানুষ খুশি।
স্থানীয় সংসদ দিদারুল আলম বলেন, গতবার নির্বাচনের সময় আমি ছোটদারোগারহাট এলাকায় একটি কলেজ স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এলাকার মানুষকে। তাই অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সেটি পারিবারিকভাবে তৈরি করে চালু করেছি। এখানে এলাকার শিক্ষার্থীদের আর দূরে যেতে হচ্ছে না। জরুরি ছিল বাঁশবাড়িয়ার বেড়িবাঁধ নির্মাণও। সেখানে হাজার হাজার মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছিলেন এই বাঁধ ভেঙে যাওয়ায়। আমি ৪১ কোটি টাকা বরাদ্দ করিয়ে এটির কাজ শুরু করেছি। ইতিমধ্যে কাজ অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আগামী বছরেই পুরো কাজ শেষ হবে।
সাংসদ দিদারুল বলেন, এই এলাকার শিক্ষার্থীদের জন্য খুবই জরুরি ছিল একটি কারিগরি স্কুল এন্ড কলেজ। সবাই শিক্ষিত হচ্ছে। কিন্তু কারিগরি শিক্ষা না থাকায় চাকুরির উপযুক্ত হয়ে উঠতে পারছিল না। তাই এই কলেজও স্থাপন হয়েছে। এখন ছাত্ররা শিক্ষিত হবার পাশাপাশি চাকুরির জন্য প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ হয়ে উঠবে।

Share