এসএম মোরশেদ মুন্না, নাজিরহাট

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে ফটিকছড়ি উপজেলার ২টি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়নের ৩৬০টি দুস্থ পরিবার বসতঘর পেয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার অফিসের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ঘরগুলো নির্মাণ করা হয়েছে। পাকা পিলারের চতুর্দিকে টিন দিয়ে তৈরি উক্ত বসতঘরের আয়তন সাড়ে ১৫ থেকে সাড়ে ১৬ ফুট। এতে রয়েছে একটি বারান্দাসহ বড় শয়নকক্ষ ও ১টি টয়লেট। বর্তমানে ওইসব ঘরে উপকারভোগীরা বসবাস করছে। উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ- এপ্রিল মাসের শেষদিকে ঘরগুলো নির্মাণের জন্য বরাদ্দ আসে। বরাদ্দ আসার পরপরই বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, ঘর পেয়ে তাদের আনন্দের সীমা নেই। পৌরসভার ৯ নং ওয়ার্ডের মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে জাহেদা বেগম বলেন, অনেকদিনের আশা ছিল একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই পাব, আজ পেয়েছি। এতে আমি ও আমার পরিবার মহাখুশি। নাজিরহাট পৌরসভার ৭ নং ওয়ার্ডের দক্ষিণ দৌলতপুরের বাসিন্দা মুহাম্মদ আব্দুল করিম জানান, আমাদের কাউন্সিলরের সহযোগিতায় ঘর পেয়েছি। এতে আমার পরিবারের ৬ সদস্যের মাথা গোঁজার ঠাঁই হয়েছে।
পৌরসভার ১ নং ওয়ার্ডে ঘর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন নবম শ্রেণির ছাত্র মো. সাজ্জাদ হোসেন। অশ্রুভেজা চোখে বলেন, মাত্র কয়েক মাস আগে বাবা আমাকে ও আমার মাকে ফেলে চিরবিদায় নেন। তখনও বসবাস করতাম আরেক জনের পরিত্যক্ত ঘরে। আজ মাকে নিয়ে অন্তত একসাথে থাকতে পারব। জানি না এ পৃথিবীতে আমার মতো আর কেউ আছে কি না। আমার লেখা পড়ার দায়িত্ব নিয়েছেন পৌর মেয়র মুহাম্মদ ইসমাইল হোসেন ও স্থানীয় কাউন্সিলর রফিকুল আলম চৌধুরী।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, যথাসময়ে উপজেলার ঘরগুলোর কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপক কুমার রায় (সম্প্রতি বদলি) বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশনায় উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তা, ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের সমন্বয়ে ৩শ’ ৬০টি অসহায় পরিবার ঘর পেয়েছে। তারা এখন খুশি। এ প্রকল্পের মাধ্যমে যাদের ভিটে আছে ঘর নেই, এ ধরনের পরিবারগুলোকে পর্যায়ক্রমে ঘর দেয়ার উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।

Share