অনুপম কুমার অভি, বাঁশখালী

বাঁশখালী উপকূলীয় এলাকার ৩টি ইউনিয়নে ধান চাষের পাশাপাশি টমেটো চাষ করেছে কৃষকরা। আগাম এ টমেটো চাষ করে অধিক মূল্যে বাজারে কৃষকরা টমেটো বিক্রি করে সফলতাও পাচ্ছে।
জানা যায়, বাঁশখালী উপজেলার সরল, গন্ডামারা ও বাহারছড়া এলাকায় প্রায় ৫শ হেক্টর জমিতে টমেটোর চাষ হয়েছে। জুলাই মাসের শুরুতে টমেটোর চাষ করে কৃষকরা সেপ্টেম্বরের শেষে বাজারে প্রতি কেজি ১২০-১৩০ টাকা দরে বিক্রি শুরু করে। এখনো বাজারে প্রতি কেজি ৬০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। বাঁশখালীর গন্ডামারা বাজার, টাইম বাজার, নাপোড়া বাজার, সরল বাজার ও মিয়ার বাজারে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা কৃষকদের কাছ থেকে টমেটো ক্রয় করছে। আগাম টমেটো ক্রয় করার জন্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের পাইকারী ব্যবসায়ীরা বাহারছড়া, সরল ও গন্ডামারার উপকূলীয় চর অঞ্চলে ভিড় করেছে। উপকূলীয় এলাকায় আগাম টমেটো বিক্রি শেষ পর্যায়ে। বর্তমানে টমেটোর বাজার দরও কমে গেছে।
গন্ডামারা ইউনিয়নের কৃষক আবুল বশর জানান, এককানি জমিতে টমেটো চাষ করে ৯০ হাজার টাকার মতো বিক্রি হয়েছে। আরো ৩০-৩৫ হাজার টাকার মতো বিক্রি করা যাবে। সরল ইউনিয়নের দক্ষিণ সরলের নাছির উদ্দিন, আবু তালেব ও আবুল খায়ের ব্যাপক জমিতে আগাম টমেটো চাষ করে লাভবান হয়েছেন বলে জানান।
বাহারছড়া ইউনিয়নের রত্নপুর গ্রামের কৃষক ইসমাইল জানান, চরাঞ্চলে ১৮ হেক্টর জমিতে আগাম টমেটোর চাষ হয়েছে। প্রতিটি কৃষক ভালো ফলন পেয়েছে।
সময়মত গোবর, সার, ভিটামিন প্রয়োগ করে পোকা দমন করতে পারলেই টমেটো ফলন ভাল হয়। পানির ঝুঁকিতে থাকতে হয় কৃষকদের। ক্ষেতে কৃষকরা নজরদারী করে চাষাবাদ করলে ভাল টমেটো উৎপাদন করা যায়।
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম বলেন, উপকূলীয় দো-আঁশ মাটিতে কৃষকরা ব্যাপক টমেটোর চাষ করেছে। ফলনও ভাল হয়েছে এবার। পাইকারি ব্যবসায়ীরা কৃষকের কাছ থেকে টমেটো ক্রয় করে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে যাচ্ছে। বাজারেও টমেটোর চাহিদা রয়েছে।
বাঁশখালী উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শহিদুল ইসলাম বলেন, মাটির গুণাগুণ ভাল হওয়ায় উপকূলীয় এলাকায় জমিতে টমেটোর চাষ ভাল হচ্ছে। কৃষকরা ব্যবসা সফল হয়েছে। আগামী ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত টমেটো জমিতে ফলন হবে, বাজারেও আসবে। বাঁশখালী হাট বাজারে প্রায়ই দেশীয় টমেটো পাওয়া যাবে।

Share