হাফেজ মুহাম্মদ কাশেম , টেকনাফ

ওসি রনজিত কুমার বড়–য়া টেকনাফ থেকে বদলি হয়ে চলে গেলেও তার উদ্যোগে নবনির্মিত মডেল থানার দৃষ্টিনন্দন জামে মসজিদটি সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে টেকনাফ থানায় বদলি হয়ে আসা কলকাতার পুলিশ কর্মকর্তা ধীরাজ ভট্টাচার্য আর এই শতাব্দীতে চট্টগ্রামের ছেলে ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া। এই দুই পুলিশ কর্মকর্তাই টেকনাফের ইতিহাসের পাতায় স্থান করে নিলেন। পুলিশ ইন্সপেক্টর (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া থানা কম্পাউন্ডে একটি জামে মসজিদ নির্মাণ করে দিয়ে সম্প্রীতির এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। আর ধীরাজ ভট্টাচার্যের জন্য আত্মবিসর্জন করেই অমর প্রেমের নিদর্শন খচিত হয়ে আছে থানা কম্পাউন্ডেই মাথিনের কূপ। দর্শনীয় মসজিদ আর মাথিনের কূপ নিয়ে ইতিহাস হয়ে রইলেন এই দুই পুলিশ কর্মকর্তা।
জানা যায়, চলতি ২০১৮ সালেই টেকনাফ থানা কম্পাউন্ডে শুরু করা হয় জামে মসজিদ নির্মাণ কাজ। এর প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন টেকনাফ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া। তিনি বদলির আগেই সমাপ্ত করেন মসজিদ নির্মাণ কাজ। নান্দনিক টেকনাফ মডেল থানায় নবনির্মিত জামে মসজিদ নিয়ে সম্প্রীতির এক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে গেলেন অল্প কয়েকদিন আগে বিদায় নেয়া বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী পুলিশ কর্মকর্তা রনজিত কুমার বড়ুয়া। তিনি এই মহৎ উদ্যোগটি নিয়ে স্থানীয়দের সহযোগিতায় শৈল্পিকতায় ঘেরা এই জামে মসজিদটির নির্মাণ কাজ শুরু করেন।
মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ করার পর পরই টেকনাফবাসীর জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী (ওসি) রনজিত কুমার বড়ুয়া অন্যত্র বদলি হওয়ার খবর চলে আসে।
গত ১৯ অক্টোবর থানার পুলিশ সদস্যরা রনজিত কুমার বড়ুয়ার জন্য বিদায় সংবর্ধনার আয়োজন করে। এই বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার জেলা পুলিশ সুপার এবিএম মাসুদ হোসেন। তিনি সেদিন সন্ধ্যায় সম্প্রীতির দৃষ্টান্ত স্থাপন করা নবনির্মিত মসজিদটির শুভ উদ্বোধন করেন।
টেকনাফ মডেল থানার নবনির্মিত দৃষ্টিনন্দন জামে মসজিদ স্থাপনকারী থানার বিদায়ী ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়া বলেন, মসজিদটি নির্মাণে আমি খুব খুশি হয়েছি, কারণ একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা করে আমার দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়ন হয়েছে। নির্মাণকাজে স্থানীয় জনগন ছাড়াও থানায় কর্মরত পুলিশ সদস্যরা নিরলসভাবে আমাকে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। পাশাপাশি এই মসজিদ নির্মাণ করার সময় আমাকে সার্বিক সহযোগিতা করে ছিলেন সাবেক মেম্বার আলহাজ আবুল কালাম ও সাংবাদিক আবুল কালাম আজাদ। তাদের কাছে আমি চিরকৃতজ্ঞ। সর্বমহলের আন্তরিক সহযোগিতার কারণে দৃষ্টিনন্দন জামে মসজিদটি সংস্কার সম্ভব হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, আমরা খুব কম মানুষই দেখেছি নিজে অন্য ধর্মাবলম্বী হয়েও মুসলিম ধর্মাবলম্বীদের জন্য এতো সুন্দর একটি মসজিদ স্থাপন করতে পারেন। বুদ্ধ ধর্মের অনুসারী হয়েও সম্প্রীতির এক দৃষ্টান্ত স্থাপন করে দেয়ার জন্য ওসি রনজিত কুমার বড়ুয়ার প্রতি টেকনাফবাসী কৃতজ্ঞ। আমরা সব সময় তার সফলতা এবং মঙ্গল কামনা করছি। টেকনাফের মানুষ তাকে কখনও ভুলবে না। দৃষ্টিনন্দন জামে মসজিদটি নির্মাণ করে তিনি টেকনাফবাসীর কাছে অমর হয়ে থাকবেন’।

Share
  • 273
    Shares