নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রতিদিন বাড়ছে ফুলের চাহিদা। ফুল পরিণত হয়েছে নিত্য পণ্যে। মানুষের চাহিদায় নগরীর জামালখান চেরাগী মোড়ে গড়ে উঠেছে ফুলের পাইকারি বাজার। তিন পার্বত্য জেলা ও বৃহত্তর চট্টগ্রামে ফুলের চাহিদা পূরণ করছে এখানকার ব্যবসায়ীরা। গত তিন চার বছরে চেরাগী পাহাড় মোড় ও মোমিন রোড এলাকাতেই গড়ে উঠেছে ছোট বড় মিলিয়ে ৮০টি ফুলের দোকান।
ভোর থেকে গভীর রাত অবধি মোমিন রোডের ফুলের দোকানগুলোতে ফুল বেচাকেনা আর ব্যস্ততা একটি পরিচিত দৃশ্যে পরিণত হয়েছে। সন্ধ্যার পর হরেক রকম বাহারি ফুলের মালা,বুকে, সাজঝুড়িতে দোকানের বর্ণালী আলো পড়ে সৃষ্টি হয় নান্দনিক দৃশ্য।
ব্যবসায়ীরা জানান, ফুলের প্রধান বাজার চেরাগী পাহাড়ে দেশের বিভিন্ন এলাকাছাড়া ও বিদেশ থেকে আমদানি করা ফুল বিক্রি করা হচ্ছে। চকরিয়ার বরইতলি, সাতকানিয়ার খাগরিয়া আর বাঁশখালির নাপোড়া ও টাইম বাজার উৎপাদিত গ্লাডিওলাস, গোলাপ ও রজনীগন্ধা আসছে চেরাগীর ফুলের বাজারে। তবে, তা চাহিদার তুলনায় সীমিত। এর বাইরেও ঢাকার কালিগঞ্জ থেকে আসছে গাঁদা ফুল, যশোরের গৎকালি থেকে রজনীগন্ধা, চকরিয়ার বরইতলি আসছে গোলাপ। চট্টগ্রাম অঞ্চলে উৎপাদিত ফুলের পাশাপাশি বিদেশ থেকে আমদানি করা হচ্ছে নানা জাতের বাহারি কাঁচাফুল। যেমন থাইল্যা- ও চীন থেকে আমদানি করা হচ্ছে চায়না গোলাপ, জারবাড়া, গ্লাডিওলাস, কার্নিশা, ¯েœাবল, অর্কিড আর চন্দ্রমল্লিকাসহ নানা জাতের ফুল।
ব্যবসায়ীরা জানান, চেরাগীর মোড়ে যেসব ফুল বিক্রি হচ্ছে তার ৮০ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদন হচ্ছে। নগরীর ৪০ শতাংশ ফুলের যোগান আসে চট্টগ্রামের চাষীদের কাছ থেকে। বাকি ৪০ শতাংশ ফুল আসে ঢাকা ও যশোরের চাষীদের কাছ থেকে। মোমিন রোডের ফুলের দোকানগুলো পাইকারি এবং খুচরাভাবে ফুল বিক্রি করছে।
বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, নামি দামি ক্লাবের মালিক নিজেরাই ফুলের ব্যবসার সাথে জড়িত। ভিআইপি কমিউনিটি সেন্টারগুলো ভাড়া নিতে গেলেই ক্লাব কর্তৃপক্ষের শর্ত থাকে স্টেজ কিংবা গেটে যতফুল লাগবে সব তারাই দেবেন। এতে নিজের ফুলের দাম যাছাই কিংবা নিজের পছন্দ অনুযায়ী ফুল নিতে পারেননা লোকজন। অনেক সময় কাঁচা ফুলের কথা বলে প্লাস্টিকের ফুল দিয়ে কাঁচা ফুলের দাম নিয়ে নেয়া হয়।
পরিবারে সবাই চাকুরিজীবী হলেও নিজেকে ফুলের সাথে জড়িয়ে নিয়েছেন কুতুব উদ্দিন। চট্টগ্রাম ফুল ব্যবসায়ী ও চাষী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদকও তিনি। কুতুব বলেন, ভাদ্র ও রমজান মাস ছাড়া বলতে গেলে বছরের পুরো সময় ফুল বিক্রির মৌসুম। বিয়ে কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছাড়াও বিভিন্ন দিবসে ফুলের ব্যবসা বেশ ভাল হতো। কিন্তু, বর্তমান সময়ে বিয়ে কিংবা বিভিন্ন অনুষ্ঠান ছাড়া দিবসকে কেন্দ্র করে ফুলের ব্যবসা তেমন হয়না।
কুতুব জানান, বারৈয়ারহাট থেকে পুরো চট্টগ্রাম এবং তিন পার্বত্যজেলায় চেরাগীর মোড়ের বাজার কাঁচা ফুল সরবরাহ করা হয়। প্রতিদিন ৫/৭ লাখ টাকার ফুল বিক্রি হলেও নগদ টাকা পাওয়া যায় কম। কারণ, ফুল পচনশীল। তাই বাকিতে বিক্রি করতে হয়ে বেশি।
মূলত: বিয়ে, গায়ে হলুদ, প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী, মৃত্যুবার্ষিকী, সভা- সেমিনার-সিম্পোজিয়াম এবং বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান উপলক্ষে ক্রেতারা আসে ফুল কিনতে। ব্যবসায়ীরা জানান, তারা অর্ডার পেলে মাত্র দেড় থেকে দুই ঘন্টার মধ্যে ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে বিয়ের গাড়ি সাজিয়ে দিয়ে থাকেন। ভাড়ায় মেলে ঘোড়ার গাড়িও। অর্ডার পেলে পুরো দিনের জন্য ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া দেয়াসহ গাড়িটি ফুল দিয়ে সাজিয়ে দিতে তারা নিয়ে থাকেন ১০ হাজার টাকা। ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে এখানে এক তোড়া বাংলা ফুলের দাম ১৫০ থেকে ২০০ টাকা। একটি বিদেশি লাল গোলাপ ৪০ টাকা। একটি দেশি লাল গোলাপ ১০ টাকা। বিভিন্ন জাতের রঙিন ফুল মিশিয়ে তৈরি একটি ফ্লাওয়ার বাস্কেট ৩০০ টাকা। বিভিন্ন ফুলের মিশ্রণে সেলোফিন দিয়ে মোড়ানো একটি ফুলের বুকে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত নেয়া হয়।

Share
  • 111
    Shares