নীড়পাতা » সম্পাদকীয় » ক্রিকেটের টাইগাররা গড়েছে ইতিহাস

ক্রিকেটের টাইগাররা গড়েছে ইতিহাস

ক্রিকেটবিশ্বের একসময়কার রাজা এবং বর্তমান সময়েও দাপুটে ও অভিজাত দল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধবলধোলাইয়ে টেস্ট সিরিজ জয়ের মধ্য দিয়ে টাইগাররা পৌঁছে গেল নতুন এক উচ্চতায়। যদিও ১৮ বছরের ইতিহাসে ১১২ টেস্টে এটি বাংলাদেশের মোটে ১৩তম ম্যাচ জয়! ৫৭ সিরিজের মধ্যে মাত্র চতুর্থ সিরিজ জয়! কিন্তু তারপরও নানা হিসেব-নিকেশে এই জয়ের তাৎপর্য আলাদা। টেস্টে কোনো দলকে এই প্রথমবারের মতো ইনিংস পরাজয়ের কৃতিত্ব দেখিয়েছে টাইগাররা। বাংলাদেশ সফরে এসে ক্যারিবীয়রা এবারই প্রথম টেস্ট হারল। সেই সঙ্গে সিরিজ হেরে হোয়াইটওয়াশও হলো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে এ গৌরবময় জয়ে বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটে রচিত হলো নতুন ইতিহাস। দেশের ক্রিকেট যে এগিয়ে চলেছে, এ জয় তার সাক্ষ্য দিচ্ছে। টেস্ট ক্রিকেটের এই মাইলফলক জয়ের জন্যে টাইগারদের জন্যে অভিনন্দন।
মাত্র পাঁচ মাস আগে টাইগারদের নিজ মাটিতে পেস উইকেটে নাকাল করেছিল ক্যারিবীয়ানরা। ইনিংসে মাত্র ৪৩ রানে গুটিয়ে যাওয়ার লজ্জার মুখোমুখি হতে হয় সাকিবের দলকে। এবার টাইগাররা সে অপমান ফিরিয়ে দিয়েছে স্পিন জাদুতে। টেস্ট ক্রিকেটে নিজেদের ইতিহাসের সব থেকে বড় জয়ও এটি। জয়টা ইনিংস এবং ১৮৪ রানের। টেস্ট ক্রিকেটে ১৮ বছর পেরিয়ে এসে এই প্রথম ইনিংস ব্যবধানে জয় দেখল টাইগাররা। আর এ জয়ে লেখা হলো দ্বিতীয়বারের মতো ক্যারিবীয়দের ধবলধোলাই-কাব্য। আগের বার গতিময় আর বাউন্সি উইকেটে টাইগার ব্যাটসম্যানদের দুবর্লতা কাজে লাগিয়ে ২-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতেছিল ক্যারিবীয়রা। এবার টাইগাররা স্পিন ফাঁদ পেতে তারই মধুর প্রতিশোধ নিল। চট্টগ্রাম টেস্টের মতো ঢাকা টেস্টেও ক্যারিবীয়দের ২০ উইকেট তুলে নিয়েছেন স্পিনাররা। স্রােতের বিপরীতে দাঁড়িয়ে একটি চার আর ৯টি ছক্কায় হেটমায়ার খেলেছেন ক্যারিয়ারসেরা ৯৩ রানের ইনিংস। তাতেই দ্বিতীয় ইনিংসে ২১৩ রান পর্যন্ত যেতে পেরেছে তারা। টাইগারদলের চার স্পিনার সাকিব, মিরাজ, তাইজুল আর নাঈম মিলে রীতিমতো দুঃস্বপ্ন উপহার দিয়েছেন ক্যারিবীয়দের। বিশেষ করে মিরাজ। ৫৯ রান খরচ করে ৫ উইকেট নিয়েছেন এই অফস্পিনার। প্রথম ইনিংসে তিনি হয়ে উঠেছিলেন আরও বেশি ভয়ঙ্কর। ৫৮ রানে ৭ উইকেট নিয়েছেন, ক্যারিয়ারসেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটাও লিখেছেন নতুন করে। সবমিলে ১১৭ রান খরচ করে ১২ উইকেট নিয়েছেন, টেস্টে বাংলাদেশের কোনো বোলারের সেরা সাফল্য এটিই। মিরাজ ভেঙেছেন নিজেরও রেকর্ড। ২০১৬ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সমান ১২ উইকেট নিয়েছিলেন ১৫৯ রান খরচায়। ক্যারিয়ারে দ্বিতীয়বার কোনো টেস্টে ১০ কিংবা তার বেশি উইকেট শিকারের কীর্তিতে সাকিবের পাশে বসে ম্যাচসেরা হয়েছেন মিরাজ। ব্যাটে-বলে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দেয়ায় সিরিজসেরা হয়েছেন সাকিব। ব্যাটে-বলে এই টেস্টে এককথায় টাইগার দলপতি ছিলেন দুর্দান্ত। ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংস মাত্র ১১১ রানে গুঁড়িয়ে দেয়ার পথে ১০টি উইকেটই ভাগাভাগি করেছেন সাকিব আর মিরাজ। বাংলাদেশের বিপক্ষে এর আগে কখনোই এত কম রানে থামেনি ক্যারিবীয়দের ইনিংস। ১১২ টেস্টের যাত্রাপথে টাইগারদের ১৩তম এই জয়টিও সব থেকে বড়। সংগতকারণে বলতে হয় টেস্ট ক্রিকেটের প্রজা হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশের এটি রাজা হয়ে ওঠার সিরিজ! এই অবিস্মরণীয় দাপুটে জয় যে সাবির্কভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অগ্রগতির নিদের্শক, সে ব্যাপারে দ্বিমত পোষণের সুযোগ নেই।
আমরা চাই বাংলাদেশের ক্রিকেটের এই অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকুক। জয়ের আনন্দে আত্মহারা হলে চলবে না, আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। এই আত্মবিশ্বাসকে কাজে লাগানোর দৃঢ় সংকল্প নিতে হবে। ক্রিকেটের অগ্রগতির এই ধারাবাহিকতা অটুট রাখতে সংশ্লিষ্ট সবাইকেই আন্তরিক থাকতে হবে। টাইগারবাহিনীর দাপুটে অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে আগামিতে বিশ্বকাপ জয়ের গৌরবও অর্জন করতে পারবে বাংলাদেশ।

Share