নিজস্ব প্রতিবেদক

২০০৮ সালে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর থেকে ক্রমান্বয়ে আয় ও সম্পদ বাড়ছে পটিয়া আসনের সাংসদ সামশুল হক চৌধুরীর। আসন্ন নির্বাচনেও আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী তিনি। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দাখিল করা হলফনামায় তাঁর বার্ষিক আয় দেখিয়েছেন ৯৬ লাখ ১৭ হাজার ৫৭০ টাকা। ২০০৮ সালের নির্বাচনে হলফনামায় দেখিয়েছেন দুই লাখ ৯৫ হাজার টাকা। ১০ বছরে তাঁর আয় বেড়েছে ৩২ দশমিক ৬০ গুণ।
শুধু আয় বেড়েনি, সমান্তরালে বেড়েছে স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির আর্থিক পরিমাণও। ২০০৮ সালের হলফনামায় অস্থাবর সম্পত্তির আর্থিক পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ২১ লাখ ৭৬ হাজার ৩৬৯ টাকা। আর বর্তমানে দেখিয়েছেন তিন কোটি ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ৩৬০ টাকা। ১০ বছরে অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ বেড়েছে ১৬ দশমিক ৪১ গুণ।
দশম জাতীয় ২০১৪ সালে হলফনামায় আয়ের পরিমাণ উল্লেখ করেছেন ৩৬ লাখ ৪৫ হাজার ২৩৯ টাকা। অস্থাবর সম্পত্তির আর্থিক পরিমাণ দেখিয়েছেন এক কোটি ৩৭ লাখ ২৪ হাজার ৩৬০ টাকা। সেই হিসাবে ৫ বছরে সম্পদ বেড়েছে দুই দশমিক ৬০ গুণ।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে জমা দেওয়া হলফনামায় শামসুল হক চৌধুরী তাঁর বার্ষিক আয় উল্লেখ করেছেন- বাড়ি এপার্টমেন্ট দোকান ভাড়া থেকে ১১ লাখ ১৯ হাজার ৩৯০ টাকা। নির্ভরশীলদের আয় তিন লাখ ৮২ হাজার ২শ টাকা। ব্যবসা খাতে নিজের আয় ৪৫ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৭ টাকা। নির্ভরশীলদের আয় আট লাখ ৪৩ হাজার ৪৫১ টাকা। নিজের নামে শেয়ার, সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক আমানত থেকে আয় দুই হাজার ৭২৩ টাকা। এই খাতে নির্ভরশীলদের ৩৪ হাজার ৮৪৯ টাকা। সংসদ সদস্য হিসেবে সম্মানী পান বছরে ২৬ লাখ ৬৭ হাজার ৭০ টাকা। ২০০৮ সালে দাখিল করা হলফনামায় ব্যবসা থেকে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং বাড়ি/এপার্টমেন্ট, দোকান ও অন্যান্য ভাড়া থেকে ৪৫ হাজার টাকার আয় উল্লেখ করেছিলেন।
অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নিজের নামে নগদ টাকা আছে ১৩ লাখ ৭৪ হাজার ৪১৭ টাকা। স্ত্রীর নামে ১৯ লাখ দুই হাজার ২৪৪ টাকা। বৈদেশিক মুদ্রা আছে নিজ নামে ২১ হাজার ৯১১ ডলার। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে নিজের নামে জমা আছে ৯২ লাখ ৩৩ হাজার ১২১ টাকা। স্ত্রীর নামে আছে ১৬ লাখ ৮৭ হাজার ৬৩৮টাকা। বন্ড, ঋণপত্র, স্টক এক্সচেঞ্জে শেয়ার নিজের নামে আছে তিন লাখ টাকা। স্ত্রীর নামে আছে দুই লাখ টাকা। নিজ নামে থাকা বাস, ট্রাক ও মোটরগাড়ির মূল্যমান এক কোটি ৩৩ লাখ টাকা। নিজ নামে থাকা স্বর্ণালঙ্কারের মূল্যমান ২৫ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে দেড় লাখ টাকা। ইলেকট্রনিক সামগ্রী নিজের নামে রয়েছে ৩০ হাজার টাকার ও স্ত্রীর নামে এক লাখ টাকার। আসবাবপত্র নিজের নামে ২০ হাজার টাকা ও স্ত্রীর নামে রয়েছে ৬০ হাজার টাকার।
এছাড়াও জীবন বীমা ব্যবসার নিজের মূলধন ও পিস্তল ৩২ লাখ ৮২ হাজার ৩৮৭ টাকা ও স্ত্রীর নামে ২৩ লাখ ১০ হাজার ৫৩০ টাকা। ২০০৮ সালের হলফনামায় স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের আয় না থাকলেও ২০১৮ সালে অর্থাৎ ১০ বছরে স্ত্রী ও নির্ভরশীলদের আয়ের পরিমাণ বেশি বেড়েছে।
স্থাবর সম্পত্তির মধ্যে নিজ নামে রয়েছে অকৃষি জমির মধ্যে ১৭ কাঠা পাঁচ ছটাক ভিটা ভূমি আছে যার মূল্যমান ৭০ লাখ সাত হাজার ৯২০ টাকা। স্ত্রীর নামে ৪৭ লাখ ৭০ হাজার ২৫০ টাকা মূল্যের ভিটা ভূমি আছে। নিজ নামে আছে ৫ কাঠা ভূমির ওপর চারতলা দালান যার আর্থিক মূল্য ৪৮ লাখ ৫৫ হাজার টাকা। স্ত্রীর নামে পাঁচ লাখ ৫০ হাজার টাকার আটটি টিনশেড দোকান রয়েছে। এছাড়াও নিজের নামে দুই লাখ ৮০ হাজার টাকার বাণিজ্যিক দালান রয়েছে।

Share