নাজিম মুহাম্মদ

মুঠোফোনে অন্য লোকের সঙ্গে কথা বলে এমন সন্দেহে ঘুমন্ত স্ত্রীকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন দ্বীন ইসলাম। স্ত্রীকে হত্যার পর বন্ধুর সাথে দুই দিন নগরীর বিভিন্ন এলাকায় ঘোরাঘুরি করেন। এরমধ্যে থানায় মামলার সংবাদ পেয়ে জামিন চেয়ে আদালতে আত্নসমর্পণ করেন সুচতুর ইসলাম। কুমিল্লার মুরাদনগর থানার কাচারি কান্দির মোহাম্মদ হোসেনের ছেলে দ্বীন ইসলাম পেশায় সেলুন কর্মচারী।
চকবাজার জোনের সহকারী কমিশনার নোবেল চাকমা জানান, স্ত্রীকে হত্যার পর ঘরের দরজায় তালা লাগিয়ে পালিয়ে যায় দ্বীন ইসলাম। তার বিরুদ্ধে থানায় মামলা হবার বিষয়টি জানার পর জামিন নিতে গেলে বিজ্ঞ আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। আদালতের আদেশে দ্বীন ইসলামকে দুই দিনের রিমান্ডে আনা হয়। রিমান্ডে স্ত্রী হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে সে।
গত ২০ নভেম্বর বাকলিয়ার আবদুল লতিফ হাটখোলা এলাকায় বাসার ভেতর থেকে গৃহবধূ আয়েশা খাতুনের গলিত লাশ উদ্ধার করে বাকালিয়া থানা পুলিশ। এ ঘটনায় আয়েশার চাচা সিরাজুল ইসলাম বাদি হয়ে দ্বীন ইসলামকে আসামি করে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হাবিবা খাতুন নামে আড়াই বছর বয়সী একটি কন্যাসন্তান রয়েছে আয়েশার। শিশুটি কুমিল্লায় নানীর কাছে থাকে। পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দ্বীন ইসলাম দাবি করেন, তিন বছর আগে মুরাদনগর রহিমপুরের হোসেন মাস্টার বাড়ির আায়েশা খাতুনের সাথে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে আয়েশা মুঠোফোনে অন্য লোকের সঙ্গে প্রায় সময় কথা বলতো। জানতে চাইলে উল্টো ঝগড়া করতো। একবছরের মাথায় আয়েশাকে হত্যা করার পরিকল্পনা করেন ইসলাম। এরমধ্যে স্ত্রী গর্ভবতী হলে হত্যার পরিকল্পনা থেকে কিছুদিনের জন্য সরে আসেন। সন্তান জন্মের পর স্ত্রীকে চট্টগ্রামে নিয়ে আসেন। নগরীর ইসহাকের পুল এলাকায় নীড়মহলে বাসা ভাড়া নেন। ইসলাম কালামিয়া বাজারে মোহছেন আউলিয়া সেলুনে কাজ করতেন।
দ্বীন ইসলাম দাবি করেন, চট্টগ্রামে আসার পরও মুঠোফোনে অন্য লোকের সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করেনি আয়েশা। এরমধ্যে কর্ণফুলী সেতু এলাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকুরি নেয়। মুঠোফোনে কথা বলার বিষয়টি নিয়ে প্রায় সময় দু’জনের মধ্যে ঝগড়া লেগে থাকায় প্রতিবেশীরাও বিরক্ত হন। একপর্যায়ে ইসহাকের পুলের বাসা ছেড়ে দিয়ে বাকলিয়া আবদুল লতিফ হাটখোলা এলাকায় ২৩০০ টাকায় আর একটি বাসা ভাড়া নেন। এর আগে শ্বশুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে শিশু হাবিবাকে তার নানীর কাছে রেখে আসেন।
স্ত্রীকে হত্যার পরিকল্পনা সম্পর্কে দ্বীন ইসলাম জানান, লতিফের হাটখোলা বাসায় যাবার পর মুঠোফোন নিয়ে নিলে আয়েশা তার ওপর ক্ষিপ্ত হয়। কয়দিন পর ফোনটি আবার ফেরত দেন। গত ১৬ নভেম্বর রাতে মুঠোফোনে অন্য লোকের সাথে কথা বলার বিষয়ে নিয়ে ঝগড়া হলে আয়েশাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন দ্বীন ইসলাম। বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে রাতে স্বাভাবিকভাবে দু’জনে ঘুমিয়ে পড়েন।
পরদিন ভোর (১৭ নভেম্বর) পাঁচটায় ঘুম থেকে উঠে স্বামীর জন্য রান্নাবান্না করেন আয়েশা। এ সময় ইসলাম ঘুমের ভান করে থাকেন। রান্নার পর ঘুমিয়ে পড়লে ঘরে থাকা ওড়না গলায় পেঁচিয়ে আয়েশাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করে ঘরে তালা লাগিয়ে পালিয়ে যান দ্বীন ইসলাম।
স্ত্রীকে হত্যার পর লালদিঘির পাড় এলাকায় বন্ধু জাহাঙ্গীরের কাছে গিয়ে দুইদিন থাকেন। ইতিমধ্যে আয়েশার লাশ উদ্ধারের পর থানায় মামলা হলে আদালতে আত্নসমর্পন করেন দ্বীন ইসলাম।
বাকলিয়া থানার পরিদর্শক (ওসি) প্রণব কুমার চৌধুরী জানান, স্ত্রীকে হত্যা করে ঘরে তালা লাগিয়ে পালায় দ্বীন ইসলাম। ঘটনার দুইদিন পর গত ২০ নভেম্বর তালা ভেঙে গৃহবধূ আয়েশার গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। স্ত্রীকে হত্যার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে গতকাল সোমবার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু সালেহ মোহাম্মদ নোমানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন দ্বীন ইসলাম।

Share
  • 57
    Shares