ইফতেখারুল ইসলাম

চট্টগ্রামে শরিক দলকে ছেড়ে দেয়া তিন আসনে জোটের প্রার্থীদের জন্য আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা কতটুকু কাজ করবে তা নিয়ে সন্দিহান সাধারণ ভোটার এবং কর্মী সমর্থকরা। এই তিনটি আসনেই আওয়ামী লীগের হেভিওয়েট প্রার্থী রয়েছেন। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বৃহত্তর স্বার্থে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে না গেলেও এবার পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন।
চট্টগ্রামের ১৬ টি আসনের মধ্যে ছেড়ে দেয়া আসনসমূহ হল চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি), চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) এবং চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও)। আলোচ্য তিনটি আসনের মধ্যে চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দীন আহমদ, প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী নুরুল ইসলাম বিএসসি এবং সিডিএ চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন। এই আসনে নির্বাচন করার জন্য আওয়ামী লীগের এসব হেভিওয়েট প্রার্থীদের প্রস্তুতি ছিল লক্ষণীয়। চট্টগ্রাম-৫ আসনে আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থী ছিলেন উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম এবং নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি এডভোকেট ইব্রাহিম হোসেন চৌধুরী বাবুলের মত প্রার্থীর। তারা দুইজনসহ আওয়ামী লীগের একাধিক প্রার্থী নির্বাচনী প্রস্তুতি নিয়ে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য দৌঁড়ঝাপ করেছিলেন। আর ফটিকছড়ি আসনে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম এখনো আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ার জন্য জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। আলোচ্য তিনটি আসনেই একাধিক প্রার্থী রয়েছেন যাদের বয়স ৬০ থেকে ৭০ বছর। আগামী পাঁচ বছর পর হয়তো মনোনয়ন পেলেও শারীরিকভাবে তাঁরা নির্বাচন করার মত সুস্থ নাও থাকতে পারেন। এমন আশংকা স্বয়ং প্রার্থীদের মাঝেই আছে। তাই একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে জীবনের শেষ নির্বাচন ধরে এসব প্রার্থী প্রস্তুতিও নিয়েছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সেখানে জোটের প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেয়া হয়েছে। অপরদিকে, ফটিকছড়ি আসনে সাংসদের সাথে উপজেলা আওয়ামী লীগের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে চলে আসে। এই আসনটি গত নির্বাচনে তরিকত ফেডারেশনকে ছেড়ে দিলে নজিবুল বশর মাইজভা-ারী সাংসদ নির্বাচিত হন। এবারো তাকে মহাজোটের প্রার্থী করা হয়েছে। এই আসনে মহাজোটের শরিক দল তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভা-ারীর পক্ষে কাজ করবে না বলে আওয়ামী লীগের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক বরাবরে লিখিতভাবে জানিয়ে দিয়েছে ফটিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগ। পরপর দুইদিন পাঠানো দুইটি চিঠিতে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ হাজার চেষ্টা করলেও মহাজোটের প্রার্থীকে বিজয়ী করা সম্ভব নয়। তাই তারা দলের প্রার্থী চান। ওই আসনে উপজেলা আওয়ামী লীগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন এ টি এম পেয়ারুল ইসলাম।
অপর দুই আসনে দুই মেয়াদেও সাংসদ নির্বাচিত হয়েছেন মহাজোটের প্রার্থী। গত এক দশকে স্থানীয় আওয়ামী লীগের সাথে শরিকদলের সাংসদদের সম্পর্ক ভাল ছিল না। এক দশক পর দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোছলেম উদ্দীনের বাসায় গেছেন মঈন উদ্দিন খান বাদল। তাতেই বুঝা যায় তাদের সম্পর্ক কতটুকু অম্ল-মধুর। হাটহাজারী আসনেও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এম এ সালামের সাথে বর্তমান সাংসদ ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের সম্পর্ক তেমন ভাল নেই। আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীদের অভিযোগ, সাংসদরা উন্নয়ন কাজে তাদের সম্পৃক্ত করেননি। এমনকি এলাকার কোন ক্ষেত্রে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা উচিত, এলাকার মানুষের চাহিদা কি এবিষয়ে কখনো কোন পরামর্শ নেয়া হয়নি। দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভুত ক্ষোভ কয়েকদিনের মধ্যে আদৌ প্রশমন করা সম্ভব কিনা তা সাধারণ ভোটারসহ দলের নেতাকর্মীদের মাঝে সন্দেহ রয়েছে। তাছাড়া মনোনয়ন বঞ্চিত হয়ে চরম হতাশ এসব সম্ভাব্য প্রার্থী এবং তাদের কর্মী-সমর্থকরা আদৌ মহাজোটের প্রার্থীর জন্য মনপ্রাণ দিয়ে কাজ করবেন কিনা সংশয় রয়েছে।

Share
  • 714
    Shares